করোনা শুধুই অশেষ প্রাপ্তির, নাকি প্রাপ্তিতে ঢের পরিবর্তন?

আমাদের নতুন সময় : 30/11/2020

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : চতুর্দশ শতাব্দীর ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ইনফ্লুয়েঞ্জা যেভাবে ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যিক মেরুদণ্ড গুড়িয়েছে, তেমনি চীনের আধুনিক করোনা জীবাণু সিল্করোড পেরিয়ে আকাশপথে বিশ্বময় ছড়িয়েছে। এক্ষেত্রে করোনা সুষম বন্টনে সমাজের ধনী ও গরীবকে গ্রাস করেছে। এমনকী আন্তর্জাতিক লকডাউনে নাগরিক জীবন থেকে বাণিজ্যিক কর্মযজ্ঞ রদ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিবর্তনের নতুন ভাবনাটি এনে দিয়েছে। তাতে বিশ্বায়নে ‘সহজলভ্য’ ধারণাটি বাণিজ্যিক ধারাবাহিকতা থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় প্রকটভাবে দৃশ্যমান। পাশাপাশি উপেক্ষা, একাকীত্ব, দুঃচিন্তা ও বিস্মৃতি জেঁকে বসেছে। আবার সামর্থ্যরে যোগানে সামাজিক দূরত্ব, ইন্টারনেটনির্ভর সামাজিক সংযোগ এবং সর্বোপরি সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার চর্চাটি বিদ্যমান। তাতে বাসা থেকে অফিস করা, রুচিকর রান্না, বদভ্যাস পরিত্যাগ, ধর্মীয় মনোযোগ, সন্তান পরিচর্যা ও অভিভাবকের ঘরোয়া জ্ঞানদান সম্ভবপর হয়েছে। এক কথায়, আধুনিক সভ্যতায় সংযোগের পরিতৃপ্তিটি এসেছে। একই সঙ্গে করোনা মহামারির ক্লেশকর যাতনা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও বহুবিধ আশংকার মাঝে ঢের পরিবর্তন ঘটেছে জলবায়ুতে। প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ কী বিশ্বের লকডাউনের অভিজ্ঞতাটি বেমালুম ভুলে যাবে? কেননা নগরবাসীরা তাদের পরিবেশে পরিচ্ছন্ন আবহাওয়ার সুঘ্রাণ পেয়েছে, যা প্রকারান্তরে সবুজ পৃথিবীর পরিবেশকে জাগ্রত করেছে। স্যাটেলাইট ডাটায় ইউরোপ ও এশিয়ায় গত বছরের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ ট্রাফিক ও ফ্যাক্টরির নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড হ্রাস পেয়েছে। ফলে চলতি বছর কার্বন নিঃসরণ ৮ শতাংশ কমেছে। এভাবে বছরভিত্তিক হ্রাসের পরিণতিতে প্যারিস চুক্তির আলোকে জলবায়ুগত তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস কমবে। বাস্তবে সেই সুফল ত্বরান্নয়ন কি সম্ভব?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]