• প্রচ্ছদ » » ‘শুনুন, মনে রাখুন শত্রæ পিছনে ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে’


‘শুনুন, মনে রাখুন শত্রæ পিছনে ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে’

আমাদের নতুন সময় : 01/12/2020

মোহাম্মদ শরিফ : কী প্রমাণিত হইলো? মামুনুলরা প্রক্সি দেয় সময়-সময়। নাটের গুরু হেফাজত। আদতে জামায়াত-বিএনপি। সাদ্দাম বুদ্ধি রাখে। তাই সে শুধু জামায়াত না, তার সহযোগী বিএনপিকেও প্রতিহত করতে বলছে। বিএনপিপন্থী শুভাকাক্সক্ষী বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজন মনঃক্ষুন্ন হবেন না, প্লিজ। তারেক রহমান আপনাদের পোছে না। তাই আপনাদের বেইল নেই। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা কেন করেন, তা বলতে পারেন না, আবার বিএনপিকে কেন সমর্থন করেন সেই বিষয়েও পরিষ্কার নন। সাদ্দাম প্রকারান্তরে মৈত্রী-ফেডারেশন-ইউনিয়নকেও আহŸান জানিয়েছেন। কিন্তু জোট আমলে মৈত্রী-ফেডারেশনের দ্বিচারিতা এবং এই আমলে শাহবাগ থেকে আরম্ভ করে অতি স¤প্রতি যে লং-মার্চ তাতে ইউনিয়ন যে লীগের সাথে নেই সেই বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। সমস্যা হলো যদি আরেকটা ইভেন্ট হয় এবং তারা আসেও তবে সেই পুরনো ধান্ধাই করবে। লোক রিক্রুট। আজীবন তারা প্রগতিশীলতার জিকির দিয়ে এভাবে লোকবল জোগাড় করেই কোনো রকমে টিকে আছে। হোক সে পিংকি কিংবা মস্কোপন্থী। পিকিংরা ছিলো পাকি ভায়া চায়না। আর সোভিয়েত পতনের পর এবং লীগ ক্ষমতার ভাগ না দেওয়ায় দুইপন্থীই এহাট্টা হয়ে এখন ‘ছাত্র অধিকার’-এর পিছনে জড়ো হয়েছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলের নামে যা করেছে তার আগে কোটাবিরোধিতাও তারা ছিলো, সড়ক-আন্দোলনেও। দিনের শেষে ধান্ধা সরকার বিরোধিতার নামে ‘ওই’ লোকবল জোগাড়। খড়-কুটু ধরে বেঁচে থাকা। ক্লাব চালাতে গেলেও যে চামচা লাগে। তাদের বড় সুবিধা হলো সেই ‘ডোন্ট ডিসটার্ব আইয়ুব খান’ করে সুযোগ-সুবিধার বলে ওই যে মিডিয়াগুলা কব্জা করেছিলো সেই পরম্পরা ধরে রেখেছে। গোটা দেশে লীগ ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ করলো। সেটার কোনো প্রচার নেই।
অথচ মিডিয়ায় তারাই গিয়ে বলে দেশে ‘বাকস্বাধীনতা’ নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে কী? সরকারের সহযোগী সংগঠনের অরাজনৈতিক একটা ইভেন্টের কাভারেজ না পাওয়া? উল্টা সরকার ধষর্ণের সাজা কঠোরতর করে যে আইন করলো তার কাভারেজ দিতে গিয়ে কিন্তু ছাত্র ইউনিয়ন যেটা ‘ছিঃ ছিঃ হাসিনা/লজ্জায় বাঁচিনা ¯েøাগান, তার ছবি এবং মুজিব- কোট পুড়িয়েছে সেই ইভেন্টের ছবি ছাপা হলোআন্তর্জাতিক পত্রিকায়। মানে দাঁড়ালো এই আইন সংশোধন সরকার করেছে আন্দোলনের চাপে পড়ে এবং তা করেছে শাহবাগ। অথচ বাস্তবতা হলো নূর নিজেকে ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে শাহবাগে যে জমায়েতের আয়োজন করেছিলো সেটাই পরবর্তী সময়ে ভিন্ন আদল দেয় ইউনিয়নসহ বাকিরা! লোকবল শুরু থেকে শেষ অবধি একই ছিলো। শুধু শেষে নূর সটকে পড়ে। এখন যদি নতুন কাউকে ভজাতে হয় তবে বলতে পারবে যে, তাদের অবদান এই আইন সংশোধন। এভাবেই তারা ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লিখিয়ে ফায়দা লুটে। ও, সাদ্দামের হয়তো-বা মনে ছিলো না যে, ইউনিয়ন মুজিব কোট পুড়িয়েছিলো। তার আগে জয় বঙ্গবন্ধু ত্যাগ করেছিলো। এমনকি জয় বাংলা বাদ দিয়ে জন জনতা এনেছিলো। তাদের পূর্ব পুরুষেরা যদিও তাদের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান অতিথি করেছিলো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঢাকসুর সনদপত্র ছিড়ে ফেলেছিলো। ‘ঘরের ছেলেরাও ধোয়া তুলসি পাতা নন। এরশাদের সময় যখন ‘তাহের-জিয়া ভাই ভাই’ ছিলো তখন নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে যে অনাহূত বিরোধ সৃষ্টি করে লীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়েছিলো। তখন ঢাকসু থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবিটা খুলে মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছিলো। তখন অবশ্য ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাথে ছিলো। আসলাম নামে তাদের একজন কর্মীকে ‘তাহের-জিয়া ভাই ভাইরা গুলি করে হত্যা করেছিলো। এমনকি জোট সরকারের আমলে তাদের নেত্রীকে দল-শিবির’-এর পোলাপাইন আইবিএ’র সামনে প্রহার করেছিলো হ্যাপী নামক এক ছাত্রীর শাহবাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হবার নির্ভেজাল আন্দোলনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তখন ফেডারেশ-মৈত্রী দল-শিবির’-এর প্ররোচণায় আন্দোলনের লাগাম টেনে দিয়েছিলো পাছে এটা সরকার বিরোধী আন্দোলন হয়ে যায়, নতুবা লীগ ক্রেডিটেড হয়ে যায়। জন্মের পর থেকে লীগ একা। সেই এনএসএফ থেকে আরম্ভ করে দল-সমাজ-সংহতি-শিবির সবাইর সাথে একা লড়েছে। আন্দোলনের বাটার বাকিরা চেটেপুটে খেয়েছে। ক্ষমতা পেলে তারা কী করবে তা তারা শাহবাগের সময় দেখিয়ে দিয়েছে। অথচ লীগ নির্বাচিত মুজিবনগর সরকারের সময় অনির্বাচিত বাকিদের জন্যে সর্বদলীয় কমিটি করে তাদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলো। শাহবাগের সময় লীগের সাথে জোটবদ্ধরাও বোল পাল্টিয়ে ফেলেছিলো রাতারাতি। অতীত ভুলে গেলে আবার হোচট খেতে হবে। বঙ্গবন্ধু বাকশাল করে তাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়েছিলো।
এটাকে ওন করে আত্মগোপনে না গিয়ে প্রথমে জিয়ার দশার সাথে রফা করেছিলো। পরবর্তী সময়ে পুনরায় কমিউনিস্ট পার্টির ব্যানার ধরেছিলো জিয়ার পিপিআর মাধ্যমে। সামরিক-স্বৈরশাসকের কাছে রেজিস্ট্রেশন করে এমন বাম রাজনীতি করার নজির বিশ্বে ইতিহাসে বিরল। সুপ্রিম সোভিয়েত কি তাদের পুনরায় এফিলিয়েশন দিয়েছিলেন? তবে এই জাতীয় বামদের প্রট্রোনাইজ করতে গিয়েও অনেকটা ব্যাংকক্রাপ্ট হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন! সোভিয়েত নেই কিন্তু কেন কমিউনিস্ট পার্টির ব্যানার নিয়ে রাজনীতি করেন তা বোধগম্য নয়। তাদের গঠনতন্ত্র রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক কিনা তাও তলিয়ে দেখতে হবে। সাদ্দাম যে বলেছেন, তারা ওই চার মূলনীতিতে বিশ^াস করে তা আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই। তাহলে তারা বাংলাদেশপন্থী না হয়ে পিকিং-মস্কোপন্থী হতে যাবেন কেন? যুদ্ধোপরাধ নিয়ে তাদের মাথাব্যাথা শুরু হয়েছে শাহবাগের আমল থেকে। তার আগে থাকলে যে ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো। ‘ঘর পোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’। তাই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের এই লাইনটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো ‘শুনুন, মনে রাখুন শত্রæ পেছনে ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে।’ ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]