• প্রচ্ছদ » » দ্রæত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তাড়া


দ্রæত খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তাড়া

আমাদের নতুন সময় : 11/01/2021

উদিসা ইসলাম : বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাÐ ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন, আজ পড়–ন ‘আমাদের নতুন সময়’ ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারির ঘটনা। ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রথম বার্ষিকী। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের এইদিনে নাটোরে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বলেন, যতো শিগগির সম্ভব খাদ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য সবরকম পথ ও উপায় অবশ্যই আমাদের বের করতে হবে। উত্তরা গণভবনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগের সকল পদস্থ কর্মচারী যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু উত্তরা গণভবনে অবস্থান করছিলেন। যোগাযোগমন্ত্রী মনসুর আলী, ত্রাণমন্ত্রী কামরুজ্জামান, শিল্পমন্ত্রী ইউসুফ আলী চৌধুরী উক্ত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য পরিস্থিতি চাষের সরঞ্জাম সরবরাহ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
সম্মেলনে কর্মকর্তারা খাদ্য পরিস্থিতি জানালেন : খাদ্য দফতরের কর্মচারীরা নিজ নিজ এলাকার খাদ্য পরিস্থিতি বিষয়ে এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। এরপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে খাদ্যশস্য চালানো ও চলাচল সমন্বিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর বীজ, সার ও পাওয়ার পাম্প চালানো, জ্বালানি সরবরাহ সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়গুলো আলোচিত হয়। সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে স্থানীয় কর্মকর্তারা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন তা নিয়ে আলোচনার জন্য দুই এক দিনের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শীতকালীন ফসল চাষ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। বিপুল পরিমাণ কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে আমাদের বিদেশ থেকে খাদ্য আনতে হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যাতে খুব শিগগিরই স্বাবলম্বী হতে পারি তার সমস্ত পদ্ধতি বের করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আইন প্রয়োগ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের প্রতি চোর-ডাকাত ও অন্যান্য সমাজবিরোধীদের উৎখাত করার নির্দেশ দেন। সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে সশস্ত্র বাহিনীর আশ্চর্যজনক তৎপরতায় বঙ্গবন্ধু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই মনোভাব ও সততা অব্যাহত রাখতে হবে। এইদিনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সম্মেলনের সভা চলেছিল। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজশাহী বিভাগের একদল অফিসারের সভায় বক্তৃতা দেন। তিনি তাদের প্রতি সোনার বাংলা গড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার আহŸান জানান। তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়ার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার দায়িত্ব সকলের।
সমাজবিরোধীদের নির্মূল করার আহŸান : প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের ভাষণদানকালে রাজশাহী বিভাগের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারদের চোর-ডাকাত ও সমাজবিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য তাদের প্রতি আহŸান জানান। তিনি এই প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ওপর জোর দেন। সীমান্ত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশ গড়ার প্রেরণা অব্যাহত থাকবে।
স্বাধীনতা নস্যাতের চক্রান্ত প্রতিরোধের দৃঢ় শপথ : পল্টনের জনসমুদ্র থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অশোভন আচরণের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল প্রকার চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা শপথ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭৩ সালের এইদিনে প্রতিরোধ দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ শ্রমিক লীগ কর্মী ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের গুপ্তহত্যা চুরি-ডাকাতি চোরাকারবারি, উদ্ধারের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহŸান জানানো হয়। উল্লেখ্য ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে ঢাকায় আসেন। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এই বিশাল জনসভায় শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতা করেন। এইদিন শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার ফেস্টুনসহ কর্মীরা দলে দলে যোগ দেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]