• প্রচ্ছদ » » কয়টা বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে হয়েছে যে, নারীরা মসজিদে যেতে না পারার দোহাই দিয়ে তাদের কাজী হতে পারা থেকে বঞ্চিত করা হলো


কয়টা বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে হয়েছে যে, নারীরা মসজিদে যেতে না পারার দোহাই দিয়ে তাদের কাজী হতে পারা থেকে বঞ্চিত করা হলো

আমাদের নতুন সময় : 13/01/2021

কামরুল হাসান মামুন : মাসের নির্দিষ্ট কয়েকদিন নারীদের পিরিয়ড হয় বলে তারা অপবিত্র থাকে তাই মসজিদে যেতে পারবে না। একই কারণে তারা বিবাহের কাজী হতে পারবে না। অপবিত্র? ও রিয়েললি? যেই প্রসেসের মাধ্যমে মানব শিশুর জন্ম হয়, যেই প্রসেস এই বিশ্বে মানবজাতির পরম্পরায় তৈরি হয় সেই প্রসেসকে এইরকম অপবিত্র বানিয়ে দিলেন? প্রাগ ঐতিহাসিক বা আজ থেকে ৫০০ বা ৩০০ কিংবা ১০০ বছর আগেও পিরিয়ডের সময় হয়তো অনেক কাজ করতে পারতো না। টেকনোলজির স্বর্ণযুগে সেসব এখন ইতিহাস। এখন কি কর্মজীবীরা তাদের পিরিয়ডের সময় অফিস কামাই দেন? অফিস কি বলে আপনি অপবিত্র তাই ঐদিন অফিসে আসবেন না বা নারীরা কি স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকেন? পিরিয়ড, প্রেগনেন্সি ইত্যাদিকে আমরা একটা লজ্জার বিষয় বানিয়ে সমাজের সামনে উপস্থাপিত করেছি। অথচ এইগুলো গর্বের বিষয়। এইগুলো কোনো ট্যাবু না। পিরিয়ড বা প্রেগনেন্সি কোনো রোগ নয়। অথচ এইসবের দোহাই দিয়ে নারীরা কাজী হতে পারবে না, মসজিদে যেতে পারবে না, চার্চের ঢ়ৎরবংঃ বা ভাটিক্যানের পোপ হতে পারবে না, পুরোহিত হতে পারবে না, নারীরা পড়াশুনা করতে পারবে না, চাকরি করতে পারবে না ইত্যাদির মানে কি? এইসব ‘না’- ই এখন একটি সমাজ কতোটা সভ্য তার ইনডেক্স হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইতো কিছুদিন আগেও সৌদি আরবে নারীরা গাড়ি ড্রাইভ করতে পর্যন্ত পারতো না। এখন পারে। এই ট্রান্সফরমেশন হলো উন্নতির লক্ষণ আর ‘না’ গুলা হলো অসভ্যতার লক্ষণ। লক্ষ করলে স্পষ্ট হবে যে যারা নারীদের দাবিয়ে রাখতে চায় তারা একটি ক্লাস আর যারা নারীদের মুক্ত করতে চায় তারা আরেকটি ক্লাস। এই দুই ক্লাসের মানুষদের জ্ঞান বুদ্ধির ফারাকটা একটু খেয়াল কইরেন। ঠিক আছে? ভাবতে অবাক লাগে যে দেশের বিচারকরা পর্যন্ত আজ মোল্লাভাবাপন্ন হয়ে গেছে। নামাজ রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদির মতো বিয়ে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। মানুষ এই কর্মটাকে ধর্মীয়ভাবে পালন করে। এটা না করে কোর্টেও বিয়ে করা যায়। কাজীর অফিসে বিয়ে করা যায়। কয়টা বিয়ের অনুষ্ঠান মসজিদে হয়েছে যে নারীরা মসজিদে যেতে না পারার দোহাই দিয়ে নারীদের কাজী হতে পারা থেকে বঞ্চিত করা হলো। আমি নিশ্চিত আজ থেকে ১০০ বছর পর এই আইন থাকবে না কারণ মানুষ জ্ঞান বুদ্ধি ও টেকনোলজিতে এতোটাই উন্নত হবে যে নারী পুরুষের এই বিভেদের দেয়াল উঠে যাবে। যখন যাবে সেটা হবে উন্নতির একটি নতুন ধাপে উত্তীর্ণ হওয়া। আমরা যদি এর উল্টো পথে যাই এর অর্থ হলো আমাদের শিক্ষা ও জ্ঞান নি¤œগামী। ঞধরংযধ ঞধংযৎরহ-এর লেখার একটি অংশ কাট পেস্ট করছি ‘নেপালের নারীদের শহর-গ্রাম নির্বিশেষে পালন করতে হয় ‘চৌপদী’। তাদের ভাষ্যমতে রজঃস্বলা বা মেন্সট্রæয়েটিং নারী গাছ স্পর্শ করলে সেই গাছ কখনো ফলবতী হবে না। রজঃস্বলা নারী গরুর দুগ্ধ পান করলে সেই গাই আর দুগ্ধ উৎপাদন করবে না। রজঃস্বলা নারী কোনো মানুষকে স্পর্শ করলে সেই মানুষ অসুস্থ হবে। এমন কি রজঃস্বলা নারী বই পড়লে স্বয়ং স্বরস্বতী ক্ষিপ্ত হবেন। এই কল্পিত অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে তিন সহস্রাব্দী ধরে নেপালী নারীরা রজঃস্রাবের সময় নিজের সংসার থেকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য। তখন আশ্রয় হয় গোয়াল ঘর বা অবস্থা-সম্পন্ন হলে বিশেষ কুঁড়ে ঘরে। স্যাঁতস্যাঁতে বদ্ধ কুঁড়ে ঘরে চৌপদী পালনের অন্যতম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিউমোনিয়া আর ডায়রিয়ায় প্রতি বছর অসংখ্য নেপালী কিশোরী-নারী-প্রসূতি মারা যায়। সবে মাত্র ২০০৫ সাল থেকে আইন প্রণয়ন করে চৌপদী আরোপ প্রতিকার করবার চেষ্টার শুরু।’ আমাদের বাংলাদেশ এটি থেকে মুক্ত। এর মানে কি আমরা তাদের চেয়ে উন্নত মানসিকতার, নাকি না? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]