• প্রচ্ছদ » » মিজানুর রহমান খানের মতো পরিশ্রমী মেধাবী সাংবাদিক চলে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হলো


মিজানুর রহমান খানের মতো পরিশ্রমী মেধাবী সাংবাদিক চলে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হলো

আমাদের নতুন সময় : 13/01/2021

রাফি হক : প্রথম আলো পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমান চলে গেলেন করোনা যুদ্ধে হেরে। তার মতো পরিশ্রমী মেধাবী সাংবাদিক চলে যাওয়াতে অনেক ক্ষতি হলো। ক্ষতি হলো কথাটি লিখলাম বটে, কী ক্ষতি হলো? তাকে দরকার ছিলো এই দেশের জন্য। বিশেষ করে সংবিধান ও আইন বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ছিলেন। সেখানে একরকমের প্রায় অদ্বিতীয় ছিলেন তিনি। চিনি তো কতো আগে থেকেই। তার তর্ক শুনেছি। লেখা পড়তাম নিয়মিত। কিন্তু তার সঙ্গে আমার একদিনই মাত্র কথা হয়েছিলো প্রথম আলোর কয়েকজনের একটি ছোট্ট ডিনারে। আমি মিজান সাহেবকে বলেছিলাম : ‘এতো মনে রাখেন কীভাবে? এতো পৃষ্ঠায়, অমুক ধারার, এতো অনুচ্ছেদের (গ)- অমুক অধ্যাদেশে… ইত্যাদি’? তিনি শুনে হেসেছিলেন। আজ মনে হচ্ছে- সেই নৈশভোজে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই চলে গেছেন : শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, সুবীর চৌধুরী, ড. আনিসুজ্জামান, আবুল হাসনাত ও মিজানুর রহমান। ভীষণ অমায়িক বিনয়ী ও ভদ্র ছিলেন। মাহজাবীনের স্ট্যাটাসে কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছেন! (এসেছিলেন কি? নাকি আমি ভুল পড়েছিলাম?) আর ঠিক আজ এমন একটি খবর শুনতে মোটেই প্রস্তত ছিলাম না। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার শুরু থেকেই আমি শঙ্কায় ছিলাম। প্রায়ই নানা জনের কাছে খোঁজ করেছিলাম। কেমন অবিশ্বাস্য লাগছে যে, তার আইনের তর্ক আর শুনবো না? তার নতুন কোনো লেখা আর পড়বো না! এ খুব বিষণœ সময়। গত রাতেই আমার অল্প বয়সী কন্যার সহপাঠীর বিদায়ের শোক সইতে হয়েছে। তারপর থেকে ঘর থেকে বের হইনি। অফিস যাইনি। বাসার ভেতরে পায়চারী করতে করতে ভেবেছি এই কি জীবন। এমন চোর পুলিশ লুকোচুরির জীবনে সত্যি ক্লান্ত আর অবসন্ন হয়ে পড়েছি। মিজান সাহেবের মতো মানুষের চলে যাওয়া যেন আরেক ধাক্কা। আরও অবসন্ন হলাম। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও গভীর শোক সমবেদনা রইলো। – এসব তো শব্দের পর শব্দ সাজানো বাক্য। কিন্তু যাদের যায়… তারাই কেবল বুঝেন যে জীবন কতোটা হাহাকার, কতোটা শূন্য হলো! তারা কতোটা অসহায় হলেন! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]