• প্রচ্ছদ » » গ্রামেগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ভালো মানসম্পন্ন শিক্ষকের ডেনসিটি প্রায় শূন্য করে ফেলেছি


গ্রামেগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ভালো মানসম্পন্ন শিক্ষকের ডেনসিটি প্রায় শূন্য করে ফেলেছি

আমাদের নতুন সময় : 14/01/2021

কামরুল হাসান মামুন : বিশ^বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়ে আমার নানা লেখার প্রেক্ষিতে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের একটি মেসেজ শেয়ার করছি। এইরকম একটি না। অনেক মেসেজ পাই। এমনকি ফোন কলও পাই। দেখুন মোটামুটি একটি তথাকথিত ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে গ্রামেগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে আসলে আমরা ভৎঁংঃৎধঃবফ একটি প্রজন্ম গড়ছি। আর কথা না বাড়াই। লেখাটি পড়–ন- ‘স্যার আপনার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পোস্টটা দেখলাম। তাই কিছু কষ্টের কথা বলি। স্যার আমি ‘এক্স’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করি পদার্থবিজ্ঞানে। খুবই কষ্ট হয় বলতে যে আমাদের ডিপার্টমেন্টে ভালো পড়ানোর মতো কোনো শিক্ষক নেই। ‘ক’ স্যার আমাদের কোয়ান্টাম ফিজিক্স পড়িয়েছেন। আপনি শুনে হবাক হবেন তিনি আমাদের ব্রা আর কেট কে বলেছেন ব্রাকেটের মতো ব্যবহার করতে! তিনি এই নোটেশন নিয়ে কোনো ক্লাসই নেননি। ক্লাসে সব সময় বই থেকে হুবহু তুলে নিয়ে আসেন আর সেটাই বোর্ডে তুলেন আর কোনোদিন কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো স্যার এই লাইন থেকে পরের লাইনে কীভাবে আসলো তখন তিনি বলতেন তোমরা এখন বড় হয়েছ, সব বলে দিলে হবে? বই ঘাটো, নেট ঘাটো! উত্তর তিনি কোনো দিনই দেননি। বরং তিনি দেখে দেখে যে বোর্ডে তুলেন তাতেও ভুল করতেন আর সেটা প্রায় প্রতিদিনই।
‘খ’ শিক্ষক আমাদের নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, এডভান্সড নিউক্লিয়ার ফিজিক্স পড়িয়েছেন। আফসোস তিনি ফিশন ফিউশন ডাইরেক্ট নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া এগুলা ছাড়া কিছু পড়াতে দেখিনি। শিট দিয়ে চলে যেতেন। ‘গ’ স্যার আসতেন গল্প করতেন শিট দিয়ে চলে যেতেন। কয়জনের কথা বলবো স্যার। ইলেক্ট্রনিকস, ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিকস, মেকানিক্স এগুলা তো সবাই ভালোই পড়াতে পারে এমনকি একজন ছাত্র বই পড়েও ভালো বুঝতে পারে কিন্তু ফিজিক্সের কঠিন শাখাগুলো পড়ানোর মতন কেউ নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুব আফসোস হয়। কেন তারা এতোগুলো ছাত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে! একদম শ্রদ্ধা আসে না আমার তাদের প্রতি। খুব রাগও হয় স্যার। তারা জানে তারা কিছুই দিতে পারছে না ছাত্রদের তবু কেন এভাবে জেনে শুনে এতোগুলো ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। স্যার, খুব কষ্টে কথাগুলো বললাম। বলতে চাইনি কারণ তারা যেভাবেই হোক আমার শিক্ষক আমার গুরুজন কিন্তু তাদের শ্রদ্ধা করার মতো কিছু পাইনি। ভালো শিক্ষক না হলে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার কোনো দরকারই নেই। স্যার আমি পারিনি বলে যে কষ্ট হয় ব্যাপারটা কিন্তু সেটা না, বেশি কষ্ট হয় দেশের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করলে। দিনের পর দিন তারা বহাল তবিয়তে থেকে এভাবেই হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের মুখস্থ বিদ্যা শেখাচ্ছে, বিজ্ঞান থেকে দূরে রাখছে আর দেশের মেরুদÐ ভাঙছে। শিক্ষক হওয়ার কথা দেশ ও জাতির মেরুদÐ গঠনের কারিগর আর তারা সেটা ভাঙার কাজ করছে। তাদের কি স্যার একদমই লজ্জা হয় না। তারা তো কেউ কোনো গবেষণা কাজে জড়িত নেই। বাসায় শিট বানিয়ে রেখেছে আর মনে মনে হয়তো বলে যে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে যে চাকরি পেয়েছেন সেটা তো আর যাবার নয়। এতো গবেষণা করে কি হবে। এই শিট দিয়েই সারা জীবন পার করে দিবেন। এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার স্যার। সামনের দিনে ভালো শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তারা কেন সরে যায় না? আর যদি শিক্ষকতাই করেন তবে কেন রিসার্চ করেন না! কেন সঠিক জ্ঞান দান করেন না? দেশটার জন্য সত্যি আফসোস হয়। কবে আর কিভাবে যে দেশকে এতো ভালোবাসি জানি না, কিন্তু বুঝতে পারি যে দেশকে ভালোবাসি যখন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করে কষ্ট পাই, আফসোস হয়।’ এইটা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রের গল্প নয়। আমার ধারণা বাংলাদেশের কমবেশি সকল বিশ্ববিদ্যালয়েরই একই দশা। আমরা গ্রামেগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ভালো মানসম্পন্ন শিক্ষকের ডেন্সিটি প্রায় শূন্য করে ফেলেছি। এর পরিবর্তে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে যেই ভালো শিক্ষক আছে তাদের দিয়ে বড় জোর যেই ১০-১২ টা বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতো সেটাই করা উচিত ছিলো। অথবা বিদেশ থেকে দেশি বিদেশি ভালো শিক্ষক এনে এইগুলোকে মানসম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]