• প্রচ্ছদ » » পশ্চিমারা হিটলারের সব বর্জন করলেও কমিউনিস্ট দৌড়ানোর নীতি হতে সরে আসেনি


পশ্চিমারা হিটলারের সব বর্জন করলেও কমিউনিস্ট দৌড়ানোর নীতি হতে সরে আসেনি

আমাদের নতুন সময় : 14/01/2021

মোহাম্মাদ রুবেল : আমি সবাইকে অনেকটা বুঝতে পারলেও বুঝতে পারি না আমার বাম ধারার কমিউনিস্টপন্থী বন্ধুদের। আদর্শ আর নৈতিকতায় এতো গরমিল আর কোথাও দেখতে পাই না, হতে পারে এটা আমার জ্ঞান চক্ষুর অসাড়তা। সবজান্তা এই সভ্যগণ একদিকে কার্ল মার্কস সাহেবের উম্মত হিসেবে নিজেদের সপে দিয়েছেন এবং মার্কস কর্তৃক নজেল হওয়া ‘ডাস ক্যাপিটালকে’ অলঙ্ঘনীয় কিতাব হিসেবে এর দুনিয়াবি সাফল্য কামনায় তারা এখনো স্বপ্নে বিভোর। আমি বিশ^াস করি গত একহাজার বছরে কার্ল মার্কেসের মতো চিন্তাবিধ পৃথিবীতে আসেননি। মার্কসের খলিফা লেলিন-স্টালিন এবং অন্যরা ইতিহাসের বড় একটা অংশ এটা মানতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কমিউনিস্টদের অলঙ্ঘনীয় কিতাব ‘ডাস ক্যাপিটাল’ অধ্যয়ন করতে গিয়ে অর্থনীতির আলোচনা থেকে এটাকে সাহিত্যের বই হিসাবেই বেশি উপভোগ করেছি। অনেকটা কারবালার ঘটনা জানতে বিষাদ সিন্ধু অধ্যয়নের মতোই।
আমি জানি আমার বামের বন্ধুরা আমার এবারের পূর্বভিত্তিক লেখাগুলো দেখে লাল ঝান্ডা উঁচিয়ে বলবে-‘পাবে সামান্যে কী তার দেখা, বেদে নেই যার রূপরেখা’। লেলিনের রুশ বিপ্লব পড়ে যৌবনে শিহরিত হয়েছি সত্য কিন্তু এর শতভাগ সত্য কিংবা আলো কেউ সামনে এনে দেয়নি। ক্ষুধার তাড়নায় মরা মানুষের মাংস নিয়ে রুশরা ক্ষুধার্ত কুকুরের মতো কাড়াকাড়ি করেছে এমন নিরেট সত্য ফরহাদ মজহার, সলিমুল্লাহ খান, বদরুদ্দীন উমর সাহেবরা আমাদেরকে শোনান না। এমন মোনাফেকি আচরণ এবং নির্লজ্জ সোফিস্ট নিয়েই আমাদের বসবাস। প্রিয় কমরেড বিবি সাজদার উৎসাহে আজকের এই বিষয়ে অনিচ্ছা সত্তে¡ও লেখার চেষ্টা করছি। আমার অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক জ্ঞান তাপস প্রয়াত শাহ মোহাম্মদ ফরহাদ যার কাছে আমি মার্কসের তালিম নিয়েছি তার প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতার সীমা নেই। ভ‚মিকা আর না বাড়িয়ে মূল প্রবন্ধে চলে যাচ্ছি যাতে আমি বলার চেষ্টা করবো আমি নিজে মার্কসকে কেমন দেখেছি। পৃথিবীতে সমাজতন্ত্রবাদের অনেক তরিকা আছে, ঠিক দেশ ভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষবাদের মতো। বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতায় আজানের সুরে ঘুম ভাঙে, ভারতে উলুধ্বনিতে ঘুম ধরে, আর ইউরোপে গির্জার ঢং ঢং শব্দে আমরা ঘুমাই আর জেগে ওঠি। তেমনি এশিয়া – ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশে সমাজতন্ত্র একেক রকম। কোথাও নাক ফুল আছে কানফুল নেই, আবার কোথাও কানফুল আছে টিপ নেই। এক জায়গাতে অবশ্যই সবাই একমত, এর লক্ষ্য হচ্ছে-জমি, খনি, কারখানা ইত্যাদি সমস্ত রকমের উৎপাদন ব্যবস্থাগুলো, রেলওয়ে প্রভৃতি বণ্টন প্রণালী, ব্যাংক ও অনুরুপ প্রতিষ্ঠান সবই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যদিও রাশিয়ার করুণ দশা দেখে সম্পদের রাষ্ট্রীয় মালিকানার নীতি চীন তালাক দিয়েছে বহু আগেই আর ইয়োরোপে তো কমিউনিস্ট নাম উচ্চারণ হারাম ঘোষিত আছে অনেক আগ হতেই।
পশ্চিমারা হিটলারের সব বর্জন করলেও কমিউনিস্ট দৌঁড়ানোর নীতি হতে সরে আসেনি। এসব প্রক্রিয়া বা প্রতিষ্ঠানকে আয়ত্ত করে বা অন্যের শ্রমশক্তিকে নিজের করায়ত্ত করে নিজের লাভ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ কোনো ব্যক্তিকেই দেওয়া হবে না। অর্থাৎ আপনার সব আছে আবার কিছুই নেই। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে তখন রাষ্ট্র বা শাসনব্যবস্থার রুপ কী হবে সটা খুবই দরকারি প্রশ্ন নিশ্চয়ই, কিন্তু আপাতত তার আলোচনা করতে যাওয়া আমাদের দরকার নেই কারণ আমরা রুশ বা চীনা মডেল দেখেছি। যেখানে থাকবে একটা দল, একটা মাঠ, একটা গোলপোস্ট এবং একটা বল। তার পরের কথাটি হচ্ছে, কী করে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে তার উপায় স্থির করা। এখানে এসে সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন মাজহাবের ফয়দা হলো। মোটামুটি তাদের দুটি ভাগে দেখা যায়। [১] ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটানোর পক্ষপাতী বিবর্তনবাদী দলগুলো তারা আস্তে আস্তে এক পা এক পা করে এগিয়ে যাবার এবং পার্লামেন্টের ভেতরে থেকে কাজ করার পক্ষপাতী, উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিলুপ্তপ্রায় হাড্ডিসার জাসদ নামক দলটি। [২] বিপ্লবপন্থী দলগুলো পার্লামেন্টে গিয়ে বিশেষ কিছু হবে বলে তাদের বিশ^াস নেই, উদাহরণ জাসদ যখন পাগলা ঘোড়া ছিলো। এ দলগুলোর অধিকাংশই মার্কসবাদী। আজকাল মার্কসবাদকেই সমস্ত সমাজতন্ত্রীদের সাধারণ ধর্ম বলে মনে করা যেতে পারে। মজার বিষয় হলো মার্কসবাদীদের মধ্যেও। ইউরোপে প্রধানত দুইটি ভাগ ছিলো একদিকে হচ্ছে রাশিয়ার কমিউনিস্টরা আর অন্য দিকে ছিলো জার্মানি-অস্ট্রিয়া এবং আরও সব দেশের পুরনো সমাজ-গণতন্ত্রবাদীরা। এই দেশগুলোর কমিউনিস্ট নেতারা ছিল একে অপরের প্রতি সতীনের মতো। রাশিয়ার সমাজ তন্ত্রের সুফল হলো এক পেকেট সিগারেট এবং এক বোতল ভদকার বিনিময়ে রুশ মেয়েদের বিছানায় নেওয়া যায়, জার্মান – অস্ট্রিয়ায় কমিউনিস্টের নাম উচ্চারণ হারাম, পূর্ব ইয়োরোপ এখনো ফকিন্নির খেতাব হতে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]