মাসিক ও মানবাধিকার

আমাদের নতুন সময় : 14/01/2021

জাহিদ হোসেন : মাসিক সংক্রান্ত প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক ও অসত্য ধারণার ফলে নারী বঞ্চিত হয় মানবাধিকার থেকে। প্রতি মাসের ‘শরীর খারাপ’ আর ‘অপবিত্রতা’র অনুভবের চক্র ধীরে ধীরে তাকে হীনমন্য করে তোলে। তার নিজের শরীরই তার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় তারা বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করেন না, এমনকি নিজের ঘরেও আড়ষ্ট থাকেন (জরমযঃ ঃড় সড়াবসবহঃ)। নিজেকে অপাঙক্তেয় মনে হওয়া এই দিনগুলোর রেশ চলে পরের দিনগুলোতেও। তাকে অশুচি অপয়া ভাবা হয়, এমনকি তাকে নিজেকেও অশুচি ভাবতে বাধ্য করা হয়, সে বঞ্চিত হয় তার মানবমর্যাদার অধিকার (জরমযঃ ঃড় উরমহরঃ) থেকে। তাকে আবদ্ধ রাখা হয় ঘরে, এ সময়ের নিরাপত্তাহীনতা আর ‘লজ্জা’র কারণে অনেক নারী-শিশু ঝরে পড়ে বিদ্যালয় থেকে, লঙ্ঘিত হয় তার শিক্ষার অধিকার (জরমযঃ ঃড় ঊফঁপধঃরড়হ)। মাসিককে একটা শারীরিক বৈকল্য বিবেচনা করে তাকে বঞ্চিত রাখা হয় বিশেষ কিছু কর্মের অধিকার (জরমযঃ ঃড় ডড়ৎশ) থেকে। উপযুক্ত টয়লেট সুবিধা না থাকায় ক্ষুণœ হয় তার উপযুক্ত কর্ম-পরিবেশের অধিকার (জরমযঃ ঃড় ডড়ৎশ রহ ঋধাড়ৎধনষব ঊহারৎড়হসবহঃ)। না খেয়ে, কম খেয়ে বা ভুল খাবার খেয়ে অথবা অস্বাস্থ্যকর নোংরা দ্রব্যাদি ব্যবহার করে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে নারী বঞ্চিত হয় স্বাস্থ্যের অধিকার (জরমযঃ ঃড় ঐবধষঃয) থেকে। বাধাগ্রস্ত-ক্ষতিগ্রস্ত-অস্বীকৃত হয় তার ব্যাক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (জরমযঃ ঃড় চৎরাধপ)। নীরবে সব সহ্য করায় বা তাকে সহ্য করতে শেখানোর মাধ্যমে হরণ করা হয় তার মতপ্রকাশের অধিকারকে (ঋৎববফড়স ড়ভ ঊীঢ়ৎবংংরড়হ)। ফলে এই ক্রণিক বা সিস্টেমেটিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সমাজে পোক্ত হয় জেন্ডার বৈষম্য। বেড়ে ওঠা কিশোরী মেয়েটার পায়ে, মাসিকের অসত্য ও অবৈজ্ঞানিক ধারণার সাথে সাথে, প্রতিমুহূর্তে পরানো হয় অজস্র অদৃশ্য শিকল। ফলে মানুষ হয়ে জন্মানো আমাদের মেয়েরা প্রথাবদ্ধ চিন্তায় আবদ্ধ সমাজের অটোসাজেসন পেয়ে পেয়ে, অবশেষে, কেবল ‘মেয়ে’ই হয়ে ওঠে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]