• প্রচ্ছদ » » হিংসেহিংসি বাড়ছে বাঙালির মধ্যে!


হিংসেহিংসি বাড়ছে বাঙালির মধ্যে!

আমাদের নতুন সময় : 16/01/2021

তসলিমা নাসরিন : পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠে খাবো না তা কী হয়? পাটিশাপটা বানিয়েছি, অবশ্য জীবনে এই প্রথম এই পিঠে বানিয়েছি। খেতে তো অপূর্বই মনে হচ্ছে। দোকানের পাটিশাপটার চেয়ে ভালো তা হলফ করে বলতে পারি। পৌষ সংক্রান্তিতে ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব হয়, পিঠে পুলি খাওয়া হয়, রাতে বাজি ফোটানো হয়। হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই পৌষ সংক্রান্তি পালন করে। এখনও কতো উৎসব আছে বাঙালির – যে উৎসব গুলোকে ধর্মের নামে আলাদা করা হয়নি। আমার ভয় হয় কবে না আবার সব আলাদা হয়ে যায়। এতো হিংসেহিংসি বাড়ছে বাঙালির মধ্যে! ঘটা করে পয়লা বৈশাখ উৎযাপন করতেই তো লিঙ্গপালগুলো বাধা দিচ্ছে। অনুষ্ঠান উদ্বোধনে প্রদীপ জ্বালানোতে বাধা, সৌধে ফুল দিতে বাধা। বাঙালি সংস্কৃতির রক্ত না ঝরিয়ে এদের শান্তি হচ্ছে না।
ভারতের এক অবাঙালি হিন্দু অবাক হয়ে বললো, তোমরা পৌষ সংক্রান্তি করো, এ তো হিন্দু উৎসব? এর আগেও এ ধরনের কথা শুনেছি, শাড়ি পরলে বলে শাড়ি পরো তোমরা, শাড়ি তো হিন্দু মেয়েদের পোশাক? টিপ পরলেও বলে হিন্দুদের মতো টিপও পরো! বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদিরা ইদানীং এমন কথাই বলছে, শাড়ি টিপ পরা, পয়লা বৈশাখ করা, সৌধে ফুল দেওয়া, অনুষ্ঠানে প্রদীপ জ্বালানো সব হিন্দু সংস্কৃতি। বাঙালি সংস্কৃতিকে হিন্দু সংস্কৃতি বলে যদি দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, বাঙালি মুসলমানের তবে কিন্তু খালি হাতে বসে থাকতে হবে। আরবের সংস্কৃতি তার নয়। তাদের হবেও না কোনোদিন যতোই একে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করুক না কেন। বাঙালি হিন্দু ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছে, সুতরাং সংস্কৃতি তো এক হবেই। ধর্মকে দূরে সরানো যায়, সংস্কৃতিকে যায় না। ও মিশে থাকে জীবনাচরণে। বাঙালি সংস্কৃতি বলে আমি যাকে মানি, তা ধর্ম থেকে, বৈষম্য থেকে, কুটিলতা কুসংস্কার থেকে মুক্ত। এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব বাঙালির। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]