• প্রচ্ছদ » » স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-হত্যা : কী হতো সেদিন মেয়েটি মারা না গেলে?


স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-হত্যা : কী হতো সেদিন মেয়েটি মারা না গেলে?

আমাদের নতুন সময় : 17/01/2021

কাজী আহমেদ পারভেজ : অনেকের ভাষায় যেটা ‘পারস্পরিক সম্মতিসম্পন্ন সেক্স’ তা সমাপনান্তে সে হৃষ্টচিত্তে বাড়িতে ফিরতো। এটা যদি তার ফার্স্ট টাইম হয়ে থাকে, তবে সে তার কাছের বন্ধুদের কাছে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতো। এটা যদি তার ফার্স্টটা না হয়ে থাকে, তাও এনিয়ে ওসব কাছের বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করতো যে, এবার সে কী কী নতুন অভিজ্ঞতা পেলো। পরবর্তীতে আবারও সে নিকট কোনো ভবিষ্যতে একইভাবে বাসায় গ্রæপস্টাডির কথা বলে বের হতো, কিন্তু তার বদলে সে এই একই বা ভিন্ন কোনো আরভিতে যা করতে যেতো, অনেকের ভাষায় সেটা ‘পারস্পরিক সম্মতিসম্পন্ন সেক্স’ই হয়ে থাকতো। মেয়েটি কেন মারা গিয়েছে, এখনো তা ‘পরিষ্কার’না। অনেক সম্ভবনার মধ্যে আমার কাছে যেটা এখন পর্যন্ত যেটা সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হয়েছে, তা হলো ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ জনিত শকে চলে যাওয়া। যেকোনো কারনেই হোক, একটা রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিলো যা দুই টিন-এজার সামাল দিতে পারেনি, বরং সম্ভবত প্যানিক এটাকের স্বীকার হয়েছিলো।
আর হতে পারে, এ কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সেটা এতোটাই যে তা থেকে মেয়েটি শকে চলে যায় ও অবশেষে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যু ঘটার কারণে অনেক কিছুর পাশাপাশি আরও একটা ঘটনা ঘটেছে। তাহলো, এই পুরো ব্যাপারটার পেছনে যে একটা সামাজিক দায় আছে, আমরা সেটা বেমালুম চেপে গিয়ে, শুধুই ব্যক্তিদায় খুঁজে বেড়াচ্ছি সামাজিক দায়টা কি? এই যে অস্বীকার করার প্রবণতা যে এধরনের ঘটনা, মানে ‘গ্রæপস্টাডি’র কথা বলে বা অন্য কোনো অজুহাতে আজকালকার টিন এজাররা নিজেরা নিজেরা শারীরিকভাবে ঘনিষ্ট হচ্ছে, সেটা। না, আমি এটার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে আসিনি।
ইন্টারনেটের বদৌলতে তারা সম্ভবত তা আমার-আপনার চেয়ে অনেক ভালো জানে। তার প্রতিকারও গ্রহণ করে। আমি এটার ধর্মীয় ইমপ্লিকেশন নিয়েও বলতে আসিনি। কারণ আমার ধারণা, এগুলো যারা করছে, তারা ওই ব্যাপারে অনুভ‚তিহীন অথবা উদাসীন। তাহলে আমি কী বলতে এসেছি? আমার ধারণা, সেক্সুয়ালিটি নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের এই অতি এডভেঞ্চারিজম এমন দুইটা ইস্যু নির্ভর, যে ব্যাপারে আমরা অভিভাবকরা বেশ অজ্ঞ। আর অজ্ঞ বলেই তা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। এগুলো হলো: [১] পিয়ার প্রেশার [২] ল্যাক অব গাইডেন্স, দে নীড নট, হোয়াট উই গিভ অভিভাবক হিসাবে যেসব আশংঙ্কাযুক্ত হয়ে আমরা তাদের শুধুই বলে যাচ্ছি, ‘এটা কারও না, সেটা কারও না, ইত্যাদি। যেগুলা তাদের একসেসেবল নলেজের সঙ্গে কনফ্লিক্টিং।
প্রশ্ন হলো, তাদের জানাটাকে কমপ্লিমেন্ট করে, এরকম কোনো জ্ঞান কি আমরা দিতে পারছি? ক্যামনে দেবো, সেই জ্ঞানই যদি আমাদের না থাকে? এর মধ্যে এসব পিয়ার প্রেশার, আমাদের সবারই বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড আছে, তোর নেই। আয়, যোগাড় করে দিই অথবা আমরা অলরেডি গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে রিলেশনে এই পর্যায়ে পৌছে গেছি, তুই গর্দভ, এখনো এখানে পড়ে আছিস। এই জাতীয় কথাবার্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যাওয়াটা প্রতিরোধে জ্ঞানত পারিবারিক বা সামাজিকভাবে আমরা কতোটা ইকুইপড? দুর্ঘটনা ঘটার পরে ব্যক্তি পর্যায়ের দায় অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে, তার প্রতিকারও করতে হবে। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক দায় ও সেগুলার প্রতিকার করা না গেলে এ জাতীয় দুর্ঘটনার প্রিভেনশন সম্ভবত সম্ভবপর হবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]