জল-শব্দের কথা

আমাদের নতুন সময় : 18/01/2021

সেলিম জাহান : জলের আসলে নিজের কোনো শব্দ নেই। যে আধারে জল থাকে, সেখান থেকেই জল এক ধরনের শব্দ তৈরি করে। যেমন, নালায় জল কল কল শব্দ তোলে। মজা পুকুরে জল বুদ বুদ শব্দ করে। জল কুলু কুলু রবে বয়ে যায় শান্ত নদীতে। সাগরে জলের কথা উঠলেই গর্জনের কথা মনে হয়। আসলে, বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে জলকে মিলিয়ে আমরা নানান শব্দাবহ সৃষ্টি করেছি। জলাধার ফেটে গেলে ‘গল গল’ করে জল বেরোয়।‘ছ ছ করে জল পড়ছে’, যখন বলি, তখন যে চিত্রকল্প ভেসে ওঠে, তা’ হচ্ছে ধাতব কোনো ভ‚মির ওপরে কলের জল পড়ছে। ¯œানের সময়ে আমরা ‘ঝুপ্ ঝুপ্’ করে গায়ে জল ঢালি’। প্রভাতে ‘টুপ টুপ’ করে শিশিরের জল ঘরের টিনের চালে পড়ে। কান্নার ক্ষেত্রে আমরা বলি, ‘খবরটা শুনে দাদামশাই ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললেন’। কখনও কখনও ‘ছল ছলে চোখের’ জলও আমাদের ব্যথিত করে। বর্ষার দিকে তাকিয়ে ভাবি, ‘দেখেছো, কেমন বিচ্ছিরী টিপ টিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে। ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিকে বলি ‘ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি’। জোরে বৃষ্টি হলে উচ্চারণ করি,’ ঝম ঝম করে বর্ষা নেমেছে’। বর্ষার জলের শব্দাবহের এখানেই শেষ নয়। আমাদের কন্যারা শিশুকালে বর্ষায় পথ চলতে গিয়ে জলভরা পথে জুতো নিয়ে ‘ছপ্ ছপ্’ করে পথ চলত। সে এক খেলা ছিলো তাদের-সব শিশুদেরই হয়তো আনন্দের কাজ এটি। বর্ষার সময়ে ছাতা না নিয়ে বের হলে গায়ের পোশাক জলে ভিজে ‘চপ্ চপ্’ে হয়ে যায়। ভেজা শাড়ি বা পাজামা নিয়ে হাঁটতে থাকলে ‘সপ্ সপ্’ শব্দ ওঠে। বর্ষার জলভেজা পথে যখন সাইকেলচালক অতি দ্রæত সাইকেল চালিয়ে যান, তখন পেছনের চাকায় জলের ‘স স শব্দ ওঠে। কথা আমার সামান্যই। মোদ্দা কথা হলো, জলের নানান আবহ বোঝাতে আমরা বহু শব্দমালা সৃষ্টি করেছি। ওইসব শব্দমালা উচ্চারিত হলেই আমরা একটি দৃশ্যকল্প দেখি। তাই কান্নার ঘটনায় আমরা বলি না যে, ‘খবরটা শুনে দাদামশাই টিপ্ টিপ্ করে কেঁদে ফেললেন’। কারণ, ‘টিপ্ টিপ্’ শব্দটি বৃষ্টি আবহ-অদ্ভুত, কান্নার নয়। জলের এসব আবহ সৃষ্টিকারী শব্দগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, জলেরও নিজস্ব কেন শব্দ নেই। দু’য়ে মিশেই তারা এমন একটি চিত্রকল্পের সৃষ্টি করে, যা অর্থবহ ও অনন্য। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]