• প্রচ্ছদ » » পেঁয়াজের ক্ষোভ এবং করোনার টিকা প্রাপ্তি


পেঁয়াজের ক্ষোভ এবং করোনার টিকা প্রাপ্তি

আমাদের নতুন সময় : 18/01/2021

কাকন রেজা : ভারতীয় পেঁয়াজ নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটছে তা নজর-আন্দাজ করার জো নেই। সামাজিকমাধ্যমে একজন লিখলেন, ‘যে বন্ধু পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে দুইশ টাকা দরে পেঁয়াজ খাওয়ায়, সে বন্ধুর পেঁয়াজ না কিনে পাঁচ টাকা বেশি দিয়ে দেশী পেঁয়াজ কিনবো।’ গণমাধ্যম জানিয়েছে, কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা ভারতীয় পেঁয়াজ কেনা ও বেচা থেকে বিরত রয়েছেন। বাজারে এখন দেশী পেঁয়াজের সাথে টার্কিশসহ বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে মিশরীয় পেঁয়াজও। কিন্তু দাম কোনটারই নাগালের বাইরে নয়। অন্তত দু’শ টাকায় কিনতে হচ্ছে না। পেঁয়াজ নিয়ে এই যে ঘটনা, তা কিন্তু অনেক কিছুই সাথে জুড়ে দেওয়া বা তুলনা করা যায়। এই যে একক উৎস, পেঁয়াজ, চাল, করোনা টিকা এবং অন্যান্য কিছুর। সে উৎস যদি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে? তবে হলো মহামুশকিল, ত্রিশ টাকার পেঁয়াজ কিনতে হয় দু’শ টাকায়। চালের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু টিকার ক্ষেত্রে কী হবে? বিকল্প জায়গা না থাকলে তো বেশি টাকাতেও কেনা সম্ভব নয়।
পেঁয়াজ নিয়ে এই যে ক্ষোভ, এটা কিন্তু সার্বিক। পেঁয়াজের স্বাভাবিক মূল্য ত্রিশ টাকা। সেই পেঁয়াজের মূল্য ভারত রপ্তানি বন্ধ করলে উঠে যায় দু’শ টাকায়। বিপরীতে এখন আমাদের পেঁয়াজ সহজলভ্য। পাওয়া যাচ্ছে অন্য দেশের পেঁয়াজও। তুরস্ক, মিশরসহ অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আসছে, অর্থাৎ একক নির্ভরশীলতা এখন আর নেই। ক্ষোভ প্রকাশের এই সুযোগই নিয়েছে দেশের মানুষ। সামাজিকমাধ্যমে তারা জানান দিয়েছে, ‘দেশী পেঁয়াজ ৫ টাকা বেশি দিয়ে কিনতেও আপত্তি নেই তাদের। তবু তারা ভারতের পেঁয়াজ কিনবে না।’ এই ক্ষোভ সঙ্গত। এই ক্ষোভ মনোপলির বিরুদ্ধে। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়ার বিরুদ্ধে। পেঁয়াজের মতো টিকা নিয়েও এখন একই ঘটনা ঘটছে। সুযোগ নেওয়া হচ্ছে অসহায়ত্বের। টিকারও যদি বিকল্প উৎস থাকতো, তাহলে আমাদের সংশয়ের সৃষ্টি হতো না। ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। বিপরীতে অন্য দেশে রপ্তানির ব্যাপারে ভারতের আপাত অবস্থান নেতিবাচক। সে কারণে ভারতের সাথেই আমাদের টিকাকরণ শুরু হবার কথা থাকলেও তা প্রাপ্তিতে গিয়ে ঠেকেছে ২৫ জানুয়ারিতে। সেই প্রাপ্তিরে প্রাপ্তিতা নিয়েও শুরু হয়েছে টালবাহানা। একরকম বলেই দেওয়া হয়েছে ভারত আপাতত টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। এদিকে আমাদের আর কোনো বিকল্পও হাতে নেই। সাথে প্রস্তুতিও নেই। রাশিয়া বা চায়না থেকে যদি টিকা কেনার প্রস্তুতি থাকতো। মানে উৎস যদি পেঁয়াজের মতোন অনেক হতো তাহলে মনোপলি ভেঙে যেতো। কারো ইচ্ছেয় নিয়ন্ত্রিত হতে হতো না। বৃটেন নিজেদের টিকা সত্তে¡ও জার্মানির বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না’র টিকা কিনছে। নিজে দেশের প্রস্তুতকারক থাকা সত্তে¦ও তারা বিকল্প হাতে রেখেছে। আর আমরা ভরসা করে আছি পরের উপর এবং কোনো বিকল্প না রেখেই। বলিহারি। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]