• প্রচ্ছদ » » নারীর চাহিদা পূরণের জন্য কোনো পুরুষ কবে নিজেকে পাল্টেছিলো?


নারীর চাহিদা পূরণের জন্য কোনো পুরুষ কবে নিজেকে পাল্টেছিলো?

আমাদের নতুন সময় : 20/01/2021

নাজিরুল ইসলাম নাদিম : আগের দিনের রাজাদের নিজের স্ত্রীদের বাইরেও অন্দর মহলে কিছু মেয়ে জমা থাকতো, যাদের সাথে রাজা বাদশাহদের শুধু শারীরিক সম্পর্ক থাকতো। যাদের আমরা রক্ষিতা নামেই চিনি। রক্ষিতারা সারাদিন সাজগোজ করতো, গায়ে সুবাস মেখে ঘুরতো, প্রসাধনীর চাদরে ঢেকে রাখতো নিজেকে। রাজা যদি মুখ তুলে একবার চায়, যদি একটা রাত তাদের সাথে কাটাতে চায় সেটাই তারা নিজের সৌভাগ্য ভাবতো। রক্ষিতাদের একমাত্র কাজ ছিলো রাজাকে খুশি করা। তারা রাণীর মতো সম্মান পেতো না, রাজ্য চালানোর কাজে কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না, রাজার পাশে দাঁড়ানোর মতো যোগ্যতা ছিল না, অন্দরমহলে কতৃত্ব ছিল না, আত্মসম্মান নিয়ে ভাবনা ছিল না। জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিছানায় রাজাকে তৃপ্তি দেওয়া। আধুনিক সমাজের কিছু নারীকে(হয়তো অতি অল্প সংখ্যাক) দেখছি তারাও আধুনিক রক্ষিতাদের মতো আচরণ করছে। তাদের চিন্তা-চেতনা আটকে আছে রূপে, প্রসাধনী নিয়েই ভাবনা সব। শারীরিক সৌন্দর্য দিয়ে আটকে রাখতে চায় স্বামী কিংবা প্রেমিককে। তোমার চিন্তা চেতনা যখন পুরুষকে আটকে রাখায় সীমাবদ্ধ থাকবে, তখন তুমি পুরুষের সমান হয়ে পথ চলবে কীভাবে? তোমার চিন্তা চেতনা যখন রক্ষিতাদের মতো, তখন তুমি রাজার সাথে রাজ্য জয়ে অংশ নেবে কীভাবে? সমস্যাটা অবশ্যই সমাজের, তার আগে সমস্যাটা নারীর চিন্তার। নারী ভাবে রূপ না থাকলে তার স্বামী পর নারীতে আসক্ত হবে। কোনো পুরুষ কখনো ভেবেছে যে তার চেহারায় দাগ পরলে তার স্ত্রী পর পুরুষে আকৃষ্ট হবে? নারী ৫০০ টাকায় পার্লারে সময় কাটাতে পারে, আত্ম তৃপ্তির জন্য ৫০ টাকার বই কিনতে নারাজ। তুমি যে রূপে মুগ্ধ করার চেষ্টা করছ, সেটা তো রক্ষিতারাও করতো। রূপ দিয়ে রাজাকে বিছানায় আনার চেষ্টা তারাও করেছিল। নিজের যোগ্যতা দিয়ে রাজার পাশে দাঁড়াতে পেরেছিল কত্তজন? পুরুষের চাওয়ার কাছে নারী যতোদিন বন্দী, ততোদিন নারী মুক্তির কথা ভাবা শুধুই ফাকা বুলি। নারীর চাহিদা পূরণের জন্য কোনো পুরুষ কবে নিজেকে পাল্টেছিলো? নারী স্বাধীনতা মানে শর্ট ড্রেস, ওয়েস্টার্ন কালচার আর ফিগার শেপড করে পুরুষকে আকৃষ্ট করা না, বরং এই ভাবনাটাই হলো নারীর রক্ষিতা ভাবনার সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ। মাপকাঠি হোক যোগ্যতার। জীবন হোক জীবনসঙ্গিনীর মতো, রক্ষিতার মতো কারও লালসা পূরণ করতে করতে জীবন ব্যর্থ না হোক। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]