• প্রচ্ছদ » » আমাদের নিজেদের ভেতরের দ্বিচারিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা


আমাদের নিজেদের ভেতরের দ্বিচারিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2021

মোহাম্মদ এ আরাফাত : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মধ্য দিয়েই চরম দুঃশাসনের যাত্রা শুরু। বিচারের পথ রুদ্ধ করে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। তারপর এসেছে সামরিক শাসন, রাজনীতির স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি হয়েছে কলুষিত ও গণতন্ত্র গেছে নির্বাসনে। সামরিক শাসক জিয়া-এরশাদের হাত ধরে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি জামায়াত হয়েছে পুনর্বাসিত। ধীরে ধীরে জমেছে সুশাসনের বিপরীতে দুঃশাসনের ময়লা। দীর্ঘদিন ধরে বেআইন ছিলো আইন, অনিয়ম ছিলো নিয়ম। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে দুর্নীতি। রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে দুর্নীতির বিষ। দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের যে অনুপস্থিতি ছিলো এই দেশে তা ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ২০০৯ থেকে শুরু করে প্রথমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাÐের বিচার, তারপর যুদ্ধাপরাধের বিচার, জঙ্গি দমন, বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থা দুর করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনীতির চাকা সচল রেখে গতিশীল করার কাজ করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। একই সঙ্গে মোকাবেলা করেছেন দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এখন তিনি হাত দিয়েছেন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ দিনের আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে। অথচ আমরা কেউ তাকে যথাযতভাবে সাহায্য করছি না। সভা, সেমিনার আর টকশোগুলোতে অনেকেই অবাস্তব ও চটকদার বক্তব্য দিচ্ছেন এবং কখনো কখনো অসত্য বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদী, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের গুজব সন্ত্রাস তো আছেই! গণমাধ্যমও তাদের কাটতি বাড়ানোর চেষ্টায় অনেক ক্ষেত্রেই অসত্য খবর ছাপাচ্ছে। দিনশেষে উগ্রবাদী-স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতকেই শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আমরা যারা সভা-সেমিনার এবং টকশো’তে ‘সুশাসন’ বলে গলা ফাটাই তাদের কোনো ধারণাই নেই কতোটা কঠিন এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন নিশ্চিত করা! দীর্ঘদিন সুশাসনে অনভ্যস্ত হওয়ায় মনোজগতে আমরা সুশাসন বিরোধী। আমাদের নিজেদের ভেতরের দ্বিচারিতাও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা। আমরা অন্যের ক্ষেত্রে আইনের শাসন চাই, আইনের প্রয়োগ চাই, কিন্তু নিজেদের বা নিজের কাছের মানুষ কোনো অন্যায় করলে সেক্ষেত্রে আর আইনের শাসনের প্রয়োগ চাই না। এখানে এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও দরকার। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে নদীগুলোকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করার মাধ্যমে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি আমরা। অথচ, এর মর্ম আমরা অনেকেই বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছি। অবৈধ যা কিছু তাই ভাঙ্গা হচ্ছে। এমন কি রক্ষা পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ অফিসও। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও। সরকারি কর্মকর্তারাও রেহাই পাচ্ছেন না।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]