• প্রচ্ছদ » » পাকিস্তানে বিরোধী দল দলগুলো জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারে!


পাকিস্তানে বিরোধী দল দলগুলো জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারে!

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2021

সাঈদ তারেক : কাল রাতে (১৯ জানুয়ারি ২০২১) রিমোট টিপতে টিপতে এক সময় আল জাজিরায় এসে চোখ আটকে যায়। পাকিস্তানে স¤প্রতিকালে গড়ে ওঠা ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে’র ওপর একটি প্রতিবেদন দেখাচ্ছিল। দুনিয়ার নানা দেশের খোঁজখবর রাখা হয় কিন্তু কেন যেন এই দেশটার ব্যপারে আমার খুব একটা আগ্রহ কাজ করে না। দেশীয় মিডিয়াগুলোও সঙ্গত কারণে পাকিস্তানের সংবাদ এড়িয়ে যায়। বুঝতে পারি এতে মহল বিশেষের বিরাগভাজন হওয়ার আশঙ্কা আছে। আমার আগ্রহ কম থাকার কারণ হলো এই দেশটা সম্পর্কে কিছু আহরিত ধারণা। যেমন, আমি জেনেছি এটি একটি ‘ধর্মান্ধ মৌলবাদী’ দেশ, ‘অসভ্য এবং বর্ব্বর’ দেশ, ‘সামরিক স্বৈরাচার’ দ্বারা পরিচালিত অগণতান্ত্রিক দেশ, সর্বোপরি এটি একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’। অন্তত আমাদের মিডিয়াগুলোয় পাকিস্তান সম্পর্কে যে ধরনের প্রচারণা চালানো হয় তাতে যে কারও এমন ধারণাই হবে। আমারও তাই হয়েছে। আর এসব কারণে এই দেশটির ব্যপারে বরাবরই আমার আগ্রহ কম। কিন্তু আল জাজিরার একটা প্রতিবেদন দেখে থ’ হয়ে যাই। সে দেশে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে। তাও আবার গণতান্ত্রিক আন্দোলন। আড়াই বছরও হয়নি ইমরান খান সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী, আর এর মধ্যেই প্রধান প্রধান বিরোধী দলগুলোসহ ১১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে ‘পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট’ বা পিডিএম নামে জোট বেঁধেছে। আছে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টিও। গত সেপ্টেম্বরে গঠিত হয়ে এর মধ্যে তারা দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোয় বড় বড় জনসভা করে ফেলেছে। এ মাসে রাজধানীতে রয়েছে বড় শোডাউনের কর্মসূচি। এই জোটের প্রধান দাবী অবিলম্বে ইমরান খানের পদত্যাগ। অভিযোগ- ইমরান খান সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করছেন এবং সর্বতোভাবে সেনাবাহিনীর স্বার্থরক্ষা করে চলেছেন। পাকিস্তানের গণতন্ত্রে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। তারা বলছেন, ১৯৪৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে আর্মি হস্তক্ষেপ করেছে। এসব কারণে দিনে দিনে অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হয়ে চলেছে এবং এসব অভিযোগ তারা প্রকাশ্য জনসভায় উচ্চারণ করছেন ইমরান খানের বিরুদ্ধে মজার একটি অভিযোগ হচ্ছে, গত নির্বাচনে তহবিল সংগ্রহে তিনি নাকি ‘অসচ্ছতার’ আশ্রয় নিয়েছেন।
তাজ্জব কী বাত! পাকিস্তানেও বিরোধী দল আছে এবং তারা জোট বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারে। রাস্তায় মাঠে-ময়দানে মাত্র আড়াই বছর আগে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি তুলতে পারে। বড় বড় জনসভা করতে পারে। সেনাবাহিনী নিয়েও কথা বলতে পারে এবং আরও তাজ্জব কী বাত- এখনো সরকার এই আন্দোলন দমাতে পুলিশ, প্রশাসন বা আদালতকে মাঠে নামায়নি বা কোনো নেতাকে ধরে জেলে নেয়নি মামলা দেয়নি, ক্রসফায়ার চালু করেনিÑ গুমের কারবারও শুরু করেনি। কী আশ্চর্যম। কী ধরনের সরকার রে বাবা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]