• প্রচ্ছদ » » হাল আমলে পশ্চিমা মুলুকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমালোচনায় সম্পর্ক পাতানোর বিভিন্ন কায়দা লক্ষ্য করা যায়


হাল আমলে পশ্চিমা মুলুকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমালোচনায় সম্পর্ক পাতানোর বিভিন্ন কায়দা লক্ষ্য করা যায়

আমাদের নতুন সময় : 21/01/2021

আজফার হোসেন : হাল আমলে পশ্চিমা মুলুকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমালোচনায় সম্পর্ক পাতানোর বিভিন্ন কায়দা লক্ষ্য করা যায়।‘সম্পর্কই সত্য’এমনি এক মতাদর্শের বিস্তার ও বৈভব ওইসব সমালোচনায় চট করেই চোখে পড়ে। বেশ কয়েক বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ^বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সাহিত্য সম্মেলনে জর্মন চিন্তক আর্নস্ট্ বøখ এবং ¯েøাভেনিয়ার সংস্কৃতি তাত্তি¡ক ¯øাভয় ঝিঝেক-র দোহাই পেড়ে এক তরুণ সমালোচক আমাদের জানিয়েছিলেন যে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পাঠের কাজ হচ্ছে নতুন নতুন সম্পর্ক বাঁধা ও হাসিল করা। ওই সমালোচক অবশ্য নিজের মতো করেই সেই কাজটা করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। বেশ উৎসাহ নিয়েই তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন কী করে একজন আর্নস্ত বøখ তার কাজে বলশেভিক রাজনীতির সঙ্গে ইহুদি অধ্যাত্মবাদ আর ক্যাবালিস্ট পঠনতত্তে¡র দারুণ সংমিশেল ঘটান কিংবা কী করে একজন ¯øাভোয় ঝিঝেক হেঁচকা টানে হেগেল ও হিচকক্-কে বা প্লেটো ও পতঞ্জলিকে একই সমতলে নিয়ে আসেন। একটি জাপানি হাইকু, একটি চৈনিক আইডিয়োগ্রাম, একটি মার্কিন ইমেজিষ্ট কবিতা ও একটি ফার্সি রুবাই কীভাবে আমাদের পাঠের ভেতর দিয়েই তাদের নান্দনিক সম্পর্কগুলো স্থাপন করে,তা নিয়ে খানিকটা আলোচনাও করেছিলেন ওই তরুণ সমালোচক। আর তার আলোচনার শিরোনাম ছিলো ‘বিশ^সাহিত্য ও সম্পর্কের কার্নিভাল’। কিন্তু সম্পর্ক পাতানোর কাজটা মোটেই নিরীহ না, কেননা সম্পর্ক পাতাতে যে মধ্যস্থতার প্রয়োজন পড়ে, তা বিভিন্নভাবেই পরিপ্রেক্ষিতনির্ভর মতাদর্শিক ঝোঁককে সরাসরি বা আড়ালে-আবডালে নির্দেশ করে। অর্থাৎ যে প্রশ্নগুলো এখানে প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায় সেগুলো হচ্ছে কার সঙ্গে কার সম্পর্ক? কিসের সম্পর্ক? কী ধরনের সম্পর্ক? আর সম্পর্ক পাতানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করছে কে বা কারা অথবা কোন বিষয়? সময় ও স্পেস, ঐতিহাসিকতা ও ভৌগোলিকতাও সম্পর্ক স্থাপনে বা সম্পর্ক নির্ণয়ে কাজ করে থাকে। অঙ্কশাস্ত্র এবং দর্শন নিয়ে একটা ঠাট্টা প্রচলিত আছে। সেটা হলো অঙ্কশাস্ত্র হচ্ছে সেই খেলা যার নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নিয়মকানুন আছে কিন্তু উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে দর্শন হচ্ছে সেই খেলা যার উদ্দেশ্য আছে কিন্তু নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নিয়মকানুন নেই। অবশ্যই এই ক্ষুদে ঠাট্টা দিয়ে অঙ্কশাস্ত্র ও দর্শনের তাবৎ স্বরূপকে বোঝানো হচ্ছে না মোটেই। তবে ঠাট্টার রূপকটা খেয়াল করার মতো, সে রূপকটা হচ্ছে খেলা এবং খেলা বা লীলা আবার সম্পর্ক স্থাপনকেই নির্দেশ করে এমনিভাবে যে, সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টা শেষমেশ নিরীহ ঠেকে না। অঙ্কশাস্ত্র প্রসঙ্গে ইউরোপীয় আলোকায়ন প্রকল্প বরাবরই প্রচার করেছে যে, সংখ্যার সঙ্গে সংখ্যার যে যুক্তিনির্ভর সম্পর্ক নির্মাণ করে অঙ্কশাস্ত্র, তা নৈর্ব্যাক্তিক, মতাদর্শনিরপেক্ষ। হাল আমলে এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে একবার নয়, বারবারই। এ প্রসঙ্গে আমার বিশেষ করে মনে পড়ছে একটা বইয়ের কথা,যার নাম থথএথনোম্যাথমেটিক্সথথ। বইটা বেশ কয়েকটা অঙ্কবিষয়ক প্রবন্ধের সংকলন। আর সংকলনটা সম্পাদনা করেছেন আরথার পাউয়েল ও ম্যারিলিন ফ্রাঙ্কেস্টাইন। বইটির বেশ কয়েকটা প্রবন্ধে মেলা বিষয়ের মধ্যে যে দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো এক, অঙ্কশাস্ত্রের জ্ঞানতাত্তি¡ক ভিত্তি তৈরি করে যা তা হচ্ছে সম্পর্ক এবং তার বিন্যাস ও বিস্তার। দুই, এই সম্পর্ক মোটেই মতাদর্শনিরপেক্ষ নয়, কেননা বিশেষ বিশেষ গাণিতিক যুক্তিকে বিশেষ বিশেষ দিকে চালনা করার ক্ষেত্রে আঙ্কিক স্বতঃসিদ্ধগুলো ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদিত মতাদর্শিক ঝোঁককে প্রকাশ করে থাকে। বইটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে এটা প্রমাণ করা যে, অঙ্কশাস্ত্র নিজেই কয়েকশ’ বছর ইউরোপকেন্দ্রিক মতাদর্শিক আধিপত্যকে লালন করেছে। তাহলে এমনকি সংখ্যাও নিরীহ নয়, সংখ্যার সম্পর্কও নিরীহ নয়, বিশ^সাহিত্য তো নয়‘ই। কিন্তু কী এই ‘বিশ^সাহিত্য’? কোন বিশ^? কার বিশ^? কোন সাহিত্য? কার সাহিত্য? এ প্রশ্নগুলারও ইতিহাস আছে, যে ইতিহাসে ইউরোপীয় ধ্যান-ধারণার ভ‚মিকা আছে,আছে তাদের মতাদর্শিক আধিপত্যের বিষয়টাও। বলা দরকার,ওইসব প্রশ্ন না উঠিয়ে অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে এবং বস্তুগতভাবে জারি-থাকা অসম ক্ষমতা-সম্পর্কের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েপূব-পশ্চিমের সম্পর্ক পাতানোর উৎসাহে নিছক বিশ^সাহিত্যের চর্চা নিদেনপক্ষে ইউরোপকেন্দ্রিকতা ও ঔপনিবেশিকতাকেই পোক্ত করতে থাকে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]