• প্রচ্ছদ » » করোনা ভ্যাকসিনের সেফটি ফ্যাক্টস


করোনা ভ্যাকসিনের সেফটি ফ্যাক্টস

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2021

ড. শোয়েব সাঈদ : ২০২০ সালের মার্চে এই তাÐবের সুচনার পর নানা ঘটনা পেরিয়ে বছর শেষে আমরা ২০২১ সালের এই জানুরায়িতে প্রায় ২০ লক্ষ মৃত্যু আর ১০ কোটি ছুই ছুই করা সংক্রমন নিয়ে দ্বিতীয় ওয়েভ পার করছি। ২০২০সালে প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণে আর বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচানো জন্যে ড্রাগ, ভ্যাকসিন নিয়ে দাপাদাপির মধ্যে ২০২১ সালের শুরু নাগাদ বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির কল্যাণে মাঠে এসেছে পশ্চিমাদের ডাবলডোজের তিন তিনটি ভ্যাকসিন, ফাইজার, মডার্না আর অ্যাসট্রাজেনেকা থেকে। জনসনএন্ডজনসনের সিঙ্গেল ডোজের ভ্যাকসিনটি মাঠে আসার কথা মার্চে। চীন আর রাশিয়া ওভ্যাকসিন নিয়ে মাঠে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে মাস খানেক হলো। এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে ভ্যাকসিনেশনের ধীরগতি। ভ্যাকসিনেশনের গতি কয়েকগুন বাড়াতে না পারলে ভ্যাকসিন দিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
২০২১ সালের শুরুতে তথাকথিত ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশগুলোর স্বার্থপরতা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষ করে গাভিবাগেøাবাল এলায়েন্সের মাধ্যেমে গরীবদেশ গুলোকে ভ্যাকসিন দেবার ক্ষেত্রে ধীরগতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে। সাপ্লাই চেইন আর সংরক্ষণ তাপমাত্রা বান্ধব অ্যাসট্রাজেনেকা অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনটি উৎপাদনের জন্যে চুক্তিবদ্ধ ভারতের বিশ্বখ্যাত ভ্যাকসিন উৎপাদক সেরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে। সেরামের সাথে বেক্সিমকোর মাধ্যমে তিন কোটি ডোজের চুক্তি এবং এ নিয়ে ভারত সরকারের বারবার আশ্বাসস্বত্বেও বাংলাদেশের ভ্যাকসিন প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছিল।
ভ্যাকসিন নিয়ে বাংলাদেশের একটি ঝুড়িতে সব ডিম রাখার মতো পরিস্থিতি অর্থাৎ সেরামের মাধ্যমে অ্যাসট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের উপর নির্ভর করার জন্যে বিপদে পড়ার ঝুঁকিও ছিল। ফাইজারের ভ্যাকসিনের অতি নি¤œতাপমাত্রায় সংরক্ষণ আর পরিবহনে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকের অভাবে আর মডার্নার সঙ্গে ে কোনো ডিল করতে না পারার কারণে অ্যাসট্রাজেনেকা ছাড়া উপায়ও ছিল না। ভ্যাকসিন মাঠে আসার একমাস পরেও এরকম একটি অনিশ্চিত অবস্থায় ভারত সরকারের বাংলাদেশেকে ২০ লাখ ভ্যাকসিন উপহার দেবার সা¤প্রতিক ঘোষণা সবাইকে আশাবাদী করে তোলে। ভুটান, নেপালকেও ভারত এই উপহার দিচ্ছে। একুশে জানুয়ারি ভারতের ২০ লাখ ডোজ উপহারের সঙ্গে বেক্সিমকোর মাধ্যমে আরও ১৫-২০ লাখ ডোজে বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত কোভিড ভ্যাকসিনের যুগে প্রবেশ করল। সেরামের সঙ্গে বেক্সিমকোর মাধ্যমে চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি মাসের ৫০ লাখ করে আগামী ৬ মাসে ৩ কোটি ডোজ পাবার কথা। কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আরও প্রায় ৬ কোটি ডোজ ভবিষ্যতে পাবার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী কোভিডের টিকা প্রদানের পাশাপাশি টিকার সেফটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। সুপারফিসিয়াল আলোচনার মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিয়ে ভীতি সৃষ্টি কোভিড প্যান্ডেমিকের ব্যবস্থাপনার জন্যে খুবই নেতিবাচক হবে বিধায় এই বিষয়ে সতর্কতার সাথে বক্তব্যবাঞ্ছনীয়। নজীরবিহীন দ্রæততার সঙ্গে কোভিড ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়েছে বটে তবে উন্নত দেশগুলোর স্বাধীন আর দক্ষরেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের সেফটি বিষয়ে বিস্তারিত বিচার বিশ্লেষণ আর রিভিও করার পরেই অনুমোদিত হয়েছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা দ্রæত ভ্যাকসিন বের করার অনুক‚লে।ভ্যাকসিনের সেফটি নিয়ে কোনো স্টেপ ছাড় দেওয়া হয়নি, দ্রæত হবার মূল কারণ প্রাযুক্তিক উৎকর্ষ আর আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সময়টুকু উল্ল্যেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে আনার জন্যে। কোভিড ভ্যাকসিন কোন অমরত্বের টিকা নয়। ভ্যাকসিন নেবার পর অন্যান্য অসুখ বিসুখে অর্থাৎ স্বাভাবিক মৃত্যুর সম্ভাবনা কমারও কারণ নেই। জনগণ যাতে ভুল বার্তা না পায় তার জন্যে ভ্যাকসিনেশন পরবর্তী অসুস্থতার সাথে ভ্যাকসিনকে লিঙ্ক করার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। এই বিষয়ে কিছু পয়েন্ট উল্ল্যেখ করতে চাই। [১] নরওয়ে এবং জার্মানিতে টিকা নেবার পর বেশ কয়েক জন সিনিয়র সিটিজেনের মৃত্যুর সাথে কোভিড টিকার কোন লিঙ্ক এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নরওয়ে মেডিসিনস এজেন্সীর কাছে কোন নিশ্চিত সম্পর্কের তথ্য নেই। এই অবস্থায় নরওয়ে সরকার বয়স্কদের এই টিকাদান অব্যাহত রেখেছে। নরওয়ের সিনিয়র সিটিজেন কেয়ার হোম গুলোতে সপ্তাহে ৪০০ জনের স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। কোভিড ভ্যাকসিন নেবার পর স্পর্শকাতরতার কারণে হয়তো স্বাভাবিক মৃত্যুগুলোও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
[২] বর্তমান যুগে উন্নত দেশগুলোর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্যেই নিজদেশে জন স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেবে না। ভ্যাকসিনের সেফটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্তে কোনো প্রকার ত্রæটি পেলে সঙ্গে সঙ্গে ইভ্যাকসিনেশন বন্ধ করে দেবে। মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিলে ভ্যাকসিন উৎপাদক কোম্পানি গুলো বড় ধরনের ঝামেলায় পড়বে। [৩] জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় চার কোটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউকে, কানাডা আর যুক্ত রাষ্টে ্রসেফটি নিয়ে প্রমাণিত কোন জটিলতা দেখা যায়নি। হেলথ কানাডা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের সেফটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার মতো কিছু পাননি। [৪] ভারতে ৪-৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে যাতে ৬০০ এর মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদ আর কর্ণাটকে দুইজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, তদন্তে অন্য কারণ সনাক্ত হয়েছে, ভ্যাকসিনের কোনো লিঙ্ক পাওয়া যায়নি। [৫] টিকা নিলে শরীরে কিছু সাময়িক প্রতিক্রিয়া হয় যাযুগযুগ ধরে ডাক্তার, নার্স আর টিকা উৎপাদনকারী, টিকা গ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠিত। পাক ভারত উপমহাদেশের মানুষজন এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অভ্যস্ত। ভ্যাকসিন টেম্পারিং করে বা নিয়মনীতি না মেনে ভ্যাকসিনেশনে সৃষ্ট সমস্যার দায় বৈধ ভ্যাকসিনের হতে পারে না। পুরো লেখাটি পড়–ন আমাদেরসময় ডটকমে। লেখক : কলামিস্ট এবং মাইক্রোবিয়াল বায়োটেক বিষয়ে বহুজাতিক কর্পোরেটে ডিরেক্টর পদে কর্মরত।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]