• প্রচ্ছদ » » চিনিকলগুলো বন্ধের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন, দেশে উৎপাদিত লাল চিনি সারাদেশে সহজলভ্য করুন


চিনিকলগুলো বন্ধের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন, দেশে উৎপাদিত লাল চিনি সারাদেশে সহজলভ্য করুন

আমাদের নতুন সময় : 23/01/2021

ডা. ইমরান এইচ সরকার : বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কতোটা দেশপ্রেমিকএটা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি। আবারও সেটা প্রমাণিত হলো। নিজ দেশে উৎপাদিত লাল চিনি বিক্রি না হওয়ার অজুহাতে চিনিকল শ্রমিকদের বেতন না দেওয়া এবং বন্ধের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশী লাল চিনি ক্রয় সংক্রান্ত লেখার পর অনেক কিছু জানা গেলো। প্রথমত দেশের মোটামুটি সব মানুষই জানে লাল চিনি কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত এবং সাদা চিনি বা ‘সাদা বিষ’ স্বাস্থ্যের জন্য কতোটা ক্ষতিকর। আমি এই জানাটাকেও খুব গুরুত্বপূর্ণ মনেকরি।
যেহেতু মানুষ এই বিষয়টা জানে, তাই বেশির ভাগ মানুষ লাল চিনিই কিনতে চায়। কিন্তু লাল চিনি কেনায় সবচেয়ে বড় বাধা বাজারে অপ্রাপ্যতা। আমার সর্বশেষ লেখার পর সারাদেশ থেকে মানুষ যোগাযোগ করেছেন, সবার একটাই অভিযোগ কোথাও এই লাল চিনি পাওয়া যায় না। অথচ আমাদের জানানো হলো উল্টোটা যে, দেশে উৎপাদিত এই চিনি নাকি বিক্রি হয়না তাই চিনিকল বন্ধ করা হবে। কী ভয়াবহ। মূলত এদেশে একধরনের অসাধু ব্যবসায়ী-আমলা সিন্ডিকেট আছে। যাদের কারণে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে না। তাদের কারণেই কৃষক-শ্রমিকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম-মজুরি পায় না।
আখ চাষিরা ঠিকই আখ উৎপাদন করছে, শ্রমিকরা আখ থেকে চিনিও ঠিকই উৎপাদন করছে। কিন্তু উৎপাদনের পরের কাজ যাদের, শ্রমিকদের মাথার উপর বসিয়ে দেওয়া আমলাতন্ত্র আখ কেনার সময় একবার টাকা লুট করছে আবার উৎপাদিত চিনি ঠিকভাবে বাজারজাত না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিনি আমদানিকারকদের থেকে ঘুষ নিচ্ছে। যাকে বলে লাভের গুঁড় পিঁপড়া খাচ্ছে। দ্বিতীয়ত দেশীয় শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের কার্যকর কোনো পলিসি না নেওয়া। এর অন্যতম কারণ সরকারের ভেতরে প্রভাবশালী যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে তারা সবাই মূলত ট্রেডার্স। তারা নিজেরা কেউ কিছু উৎপাদন করে না। তারা ওপারের জিনিস এপারে এনে বিক্রি করে মুনাফা করে। তাই তাদের সামগ্রিক নীতিও উৎপাদনমুখী নয়।
তৃতীয়ত দেশীয় শিল্প, কলকারখানাগুলো আধুনিকায়ন না করা। যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। এটার কারণও মূলত ওই একই। উৎপাদনমুখী নীতি না হওয়ায় প্রভাবশালী ট্রেডিং বাণিজ্য সিন্ডিকেট চায় দেশীয় শিল্পগুলো মুখ থুবরে বন্ধ হয়ে যাক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ খুবই দেশপ্রেমিক মানুষ। দেশীয় শিল্পের বিকাশে এটাকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব। শুধু দরকার সঠিক নীতি এবং কার্যকর কৌশল ও নেতৃত্ব। সরকারকে বলবোÑ চিনিকলগুলো বন্ধের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। দেশে উৎপাদিত লাল চিনি সারাদেশে সহজলভ্য করুন। এদেশের মানুষ চাইলে বাজারের সব লাল চিনি আমরা একদিনেও কিনে ফেলতে পারি। হ্যাঁ, এটা কথার কথা না, দেশীয় শিল্প রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা সেটাই করবো। তবে আমরা চাই না লাভের গুঁড় আর পিঁপড়ায় খাক। দেশের স্বার্থে পিঁপড়াগুলোকে ১০/২০ বছরের জন্য হলেও বাক্সবন্ধী করুন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]