• প্রচ্ছদ » » অপরাধী ঘুরে বেড়ায় আর নিরপরাধ মানুষ তার বদলে জেল খাটে!


অপরাধী ঘুরে বেড়ায় আর নিরপরাধ মানুষ তার বদলে জেল খাটে!

আমাদের নতুন সময় : 24/01/2021

আব্দুল হাই সঞ্জু :২০১৯ সালে দুদকের ভুলে জুটমিল শ্রমিক জাহালামের কয়েক বছর জেল খাটার খবর প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে হইচই পড়ে যায়। ২০১৯ সালে রাজশাহীতে খুনি ও হত্যা মামলার আসামি ছিলেন সন্ত্রাসী শাহীন আহম্মেদ শাহীন। কিন্তু তার বদলে জেল খেটেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহীনুর রহমান শাহীন। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে বাপের নামে মিল থাকার কারণে অপরাধী জসিমের স্থলে নিরপরাধ এক জসিমের জেল খাটার খবর এসেছিল মিডিয়ায়। ঢাকার পল্লবী থানায় মাদকের মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শাহাবুদ্দিন বিহারির পরিবর্তে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন মো. আরমান। বেনারসি পল্লীর কারিগর মো. আরমানকে ২১ জানুয়ারি,বৃহস্পতিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে মায়ের হাতে তুলে দেয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়ে যায়। অথচ তার মুক্তির এই সময়ে কারা ফটকে উপস্থিত থাকা উচিত ছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জাম খান কামালের।
পুলিশ বাহিনীর এই ভুলের জন্য আরমানের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিজের হাতে এই ফুলের মালা আরমানের গলায় পরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার দায় শেষ করতে চায়। ভাবটা এমন যে, বিষয়টা খুব স্বাভাবিক। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে মিথ্যা পরিচয়ে বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হওয়ায় দেশবাসী কেঁদেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে বহু আগেই বাংলাদেশে নির্দোষ মানুষের শাস্তির বিষয়টি উঠে এসেছিল। অথচ মূল ইস্যুতে মনোযোগ না দিয়ে আমরা নাটকের নায়ক-নায়িকাকে বেশি গুরুত্ব দিই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আব্দুল কাদেরের (বদি) মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বেনারসি পল্লীর কারিগর মো. আরমান অভিনেতা নয়, তিনি বাস্তব জীবনের নায়ক। তার পরিবার তাই তাকে ফুল দিয়ে নায়কের সম্মান দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আসাদুজ্জামান নূর (বাকের ভাই) এর মৃত্যুতেও সরকারের শীর্ষ মহল থেকে হয়তো শোক প্রকাশ করা হবে। কিন্তু বাস্তব জীবনের নায়ক আরমানদের মূল্য নেই। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের ভুলে নির্দোষ মানুষ জেল খাটে। অপরাধী ঘুরে বেড়ায় আর নিরপরাধ মানুষ তার বদলে জেল খাটে। কেবল অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে এমনটি ঘটছে না বরং এর পেছনে পুলিশ ও অপরাধীদের যোগসাজশ ও উপরি লেনদেনএর বিষয় থাকে। নিজের ভোট নিজে না দিতে পারার দেশে একজনের জেল অন্যজন কে দিয়ে খাটানো অসম্ভব কিছু না। আমাদের অজান্তে আরও অসংখ্য লোক হয়তো এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ভুল পরিচয়ে জেল খাটছেন। বাইরে থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা কঠিন। সরকারকেই দেশের সকল কারাগারের সকল বন্দির পরিচয় নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]