আপনার সাংস্কৃতিক সংগ্রাম

আমাদের নতুন সময় : 24/01/2021

জাকির তালুকদার : ধরেন পৌষমেলা করতে চাচ্ছেন। আয়োজন করতে গিয়ে পায়ের জুতার তলা হারালেন, পাছার পাতলুন ছিঁড়লেন, পকেটের সব টাকা শেষ করলেন, অন্তত ১৫টা দিন আর রাত একাকার করে দিলেন। সরকার বা রাজনৈতিক নেতার কাছে কোনো সাহায্য চাইলেন না। কারণ আপনি তাদের সাংস্কৃতিক মান জানেন। পৌষমেলা আপনি উদ্বোধন করাবেন জেলার কোনো প্রবীণ লোকশিল্পীকে দিয়ে। উদ্বোধনের আগের দিন আপনার ডাক পড়বে এমপির বাসায়, সরকারি দলের জেলা নেতার বাসায়। কী ব্যাপার? আপনারা মেলা করছেন, অথচ আমরা জানিই না। কার্ডে আমার নাম নেই। আমার দলের নেতাদের নাম নেই। এটা কীভাবে হয়? আপনি বললেন, আপনাদের নেতাদের মধ্যে নানা গ্রæপিং। একজনের নাম উপরে লেখলে আরেকজন বেজার হয়। আমরা সেই ঝামেলার মধ্যে যেতে চাইনি। তাছাড়া এটা লোকজ মেলা। গায়েন-শিল্পী আর সাধারণ মানুষের মেলা। সেখানে রাজনৈতিক কাউকে আমরা জড়াতে চাইনি। তার চোখে ক্রোধ আপনারা না চাইলেই তো হলো না। আমার এলাকায় একটা অনুষ্ঠান হবে, আর সেই জায়গা ব্যানারে আমার ফটো থাকবে না, আমাকে প্রধান অতিথি বানাবেন না, এসব তো হতে পারে না। চলতে পারে না। আপনি বোঝানোর চেষ্টা করলেন এটা তো কোনো সরকারি অনুষ্ঠান না। আর খুব বড় কিছুও না। আপনাদের সময়ের দাম আছে। তাই ছোটখাট জায়গাতে আপনাদের নিতে চাইনি। আপনি যাই বোঝাতে চান না কেন, তার, ও তাদের বুঝ আলাদা। লোকসংস্কৃতি কী জিনিস তা তিনি বোঝেন না। বোঝার দরকারও মনে করেন না। তিনি চান আপনাদের তৈরি করা মঞ্চে তিনি গলা ফাটাবেন। তিনি উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলবেন। তার অশুদ্ধ ভাষার চিল্লানি শুনে আপনাদের হাত তালি দিতে হবে। আপনি সেই সুযোগ থেকে তাকে বঞ্চিত করবেন। এতো বড় সাহস। তিনি আর ভদ্রতা দেখাবেন না। সোজাসুজি বলে দেবেন আমাক বাদ দিয়ে কীভাবে মেলা করেন তা আমি দেখে লিবো। আপনার সাংস্কৃতিক সংগ্রাম এখানেই শেষ। মফস্বলে কাজ করার কষ্ট আছে ভাই। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]