• প্রচ্ছদ » » এদেশের সকল সমস্যার প্রাণভ্রমরা লুকিয়ে আছে মানসম্মত শিক্ষার মধ্যে


এদেশের সকল সমস্যার প্রাণভ্রমরা লুকিয়ে আছে মানসম্মত শিক্ষার মধ্যে

আমাদের নতুন সময় : 24/01/2021

কামরুল হাসান মামুন : আমার বড় কন্যা বিয়াংকাকে নিয়ে গিয়েছিলাম নীলক্ষেত আর নিউমার্কেটে। উদ্দেশ্য শেক্সপীয়ারের ‘মেজার ফর মেজার’ বইটি কেনা। বিয়াংকা বিজ্ঞানের ছাত্রী তথাপি ও এ- লেভেলে ইংরেজি সাহিত্য নিয়েছে। সাহিত্যের প্রতি তার ভালোবাসা একদম ছোটবেলা থেকে। প্রচুর গল্প ও কবিতার বই পড়েছে এবং নিজে কিছু লেখালেখিও করে। নীলক্ষেতে বইয়ের দোকানগুলো ঘুরে একটি অভিজ্ঞতা হলো : দোকানে সজ্জিত বইগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশই হলো গাইড বই, দ্রæত নানা ভাষা শিক্ষার বই ইত্যাদি। ঠিক যেন পাড়ার মুদি দোকান। ওইসব দোকানও আজকাল রং বেরঙের প্লাস্টিক প্যাকেট দিয়ে এমনভাবে ভরা থাকে যে দোকানদারকেও দেখা যায় না। সবকিছুই এখন প্যাকেটজাত। এসব দেখে বাঙালির সাইকি বোঝা যায়। এই বাঙালি এখন আর জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী নয়। কেবল শর্টকাট পথে একটা সার্টিফিকেট বাগিয়ে, গাইড বই মুখস্ত করে একটা চাকরি বাগানোই মঞ্জিলে মাকসুদ। নীলক্ষেতে আসলে আমাদের কাক্সিক্ষত বই পাইনি। পরে বলাকার পাশে রাফি প্লাজার তিন তলায় ফ্রেন্ডস বুক শপে গেলাম। মনে হলো সাহিত্যের ছাত্রদের জন্য যেন এক টুকরো স্বর্গ। কাক্সিক্ষত বইটি পেলাম কিন্তু বিয়াংকা যেমন চাচ্ছিলো তেমন না। তারপরও ওইটাসহ আরো কিছু বই সেখান থেকে কিনে নিউমার্কেটে যাই। অনেক অনেকদিন পরে নিউ মার্কেটে গেলাম। গিয়ে আমি শকড! একি? অনেক বইয়ের দোকান নাই হয়ে গেছে। সেইসব জায়গায় এখন খাবারের দোকান, কসমেটিকসের দোকান, চশমার দোকান ইত্যাদি। অথচ জনসংখ্যা বাড়ছে, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে কিন্তু বইয়ের দোকান কমছে। একি? গেলাম পুরনো পরিচিত জিনাত বুকশপ লিমিটেডে। বই কেনা হয়নি কিন্তু দোকানের মালিকের সঙ্গে প্রায় আধাঘণ্টার মতো কথা হয়েছে। ফয়সল সাহেব একজন আলোকিত মানুষ। মনে হলো তার সঙ্গে লম্বা সময় গল্প করা যায়। বলছিলেন এক সময় তার দোকানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার বা তারও বেশি টাকা বিক্রি হতো। মনে রাখতে হবে তখনকার ১০ হাজার টাকার মান কিন্তু আজকের ৫০ হাজার কিংবা তার চেয়েও বেশি। বললেন, ‘আজকে সারাদিনে এখন পর্যন্ত ২ হাজার টাকাও বিক্রি হয়নি। মানুষ এখন আর বই কিনে না। তারা দামি মোবাইল সেট কিনে, ট্যাব কিনে, দামি রেস্টুরেন্টে খায় কিন্তু বই কেনার সময় কৃপণতা’। তিনিও বললেন, এদেশের মানুষ এখন পড়তে চায় না। ততোটুকুই পড়ে যতোটুকু কাজে লাগবে মনে করে। অথচ ইন দা লং রানে সব পড়াই যে কাজে লাগে এই বোধ জন্মানোর শিক্ষাটা ছোটবেলা থেকেই পায় না। তিনি বললেন, এদেশের মানুষ থেকে শুরু করে দেশের সরকার পর্যন্ত বুঝে না এই দেশের সকল সমস্যার মূলে হলো মানসম্পন্ন শিক্ষা। কী আশ্চর্যÑ আমি এই কথাটি এক স্ট্যাটাসে লিখেছি। আসলে যতোদিন না আমরা একটি সরকার পাবো যে বুঝবে যে দৈত্যের প্রাণ যেমন পাতালের মাঝে বাক্সের ভিতরে আরেক বাক্স তার ভিতরে আরেক বাক্স এইরকম অনেক বাক্সের ভিতরে যেমন লুকিয়ে থাকে তেমনি এই দেশের সকল সমস্যার প্রাণভ্রমরা লুকিয়ে আছে মানসম্মত শিক্ষার মাঝে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]