• প্রচ্ছদ » » করোনা মহামারিতে বেড়েছে বাল্য-বিবাহের হার : অনেক কিশোরীর স্কুলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা


করোনা মহামারিতে বেড়েছে বাল্য-বিবাহের হার : অনেক কিশোরীর স্কুলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা

আমাদের নতুন সময় : 24/01/2021

শাহিন হওলাদার : করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক কিশোরী মনে করে তারা আর স্কুলে নাও যেতে পারে। বাল্য-বিবাহ, পারিবারিক অর্থনৈতিক সমস্যা, দীর্ঘদিন পড়ালেখা থেকে দূরে থাকাই এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে তারা। করোনাভাইরাসের কারণে সরকার পুনরায় ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নেওয়া অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু যাথাযথ ডিভাইস, ইন্টারনেটের অভাবে ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকার কারণে জেলা পর্যায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। রাজধানীতে গৃহস্থলীর কাজ করা হালিমা ভানুর তার ১৪-১৫ বছর বয়সী দুই মেয়ের ব্যয় বহন করতে অসুবিধা হয়েছিলো। স্বামী না থাকার কারণে হালিমা ভানুকে তার সংসারের ব্যয় বহন করতে হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মাহামারীর কারণে তার চাকরি চলে যায়। তারপর তাকে পরিবারসহ চাঁদপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে হয়। সেখানে তার প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। যেহেতু আমার আয়ের কোনো উৎস ছিলো না সেহেতু তাদের কথা আমি নাকচ করতে পারিনি। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনা মাহামারির কারণে বাল্য বিবাহ বাড়তে পারে বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ও বস্তিতে।
দীর্ঘ নয় মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কিশোরীরা বাল্য-বিবাহের ঝুঁকিতে পড়েছে। সাম্প্রতিককালের একটি জড়িপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ কিশোরী মনে করে পরবর্তী সময় ক্লাসের লেখা পড়া চালিয়ে যেতে তারা সক্ষম না। ইউনিসেফের সহযোগিতায় চালানো এ জড়িপে বাল্য বিবাহের ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২০ সালের নভেম্বরে চালানো এ জড়িপে দেখা যায় জেলা পর্যায়ে সব থেকে বেশি বাল্য বিবাহ সংগঠিত হয়েছে। করোনাভাইরাস কিশোরীদের জীবনের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিলো তা বের করাই ছিলো জড়িপের মূল উদ্দেশ্য। ফোনের মাধ্যমে চাপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, কুষ্টিয়ার ৪৭৯ জন কিশোরীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় যারা সবাই কিভাবে স্কুলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাল্য-বিবাহ রোধ করা যায় সে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলো। জড়িপে দেখা গেছে গৃহস্থালীর আয় আস্তে আস্তে পুনর্গঠিত হচ্ছে তবে এখনো অর্থনৈতিক ও খাদ্য সমস্যা রয়ে গেছে। জড়িপে আরও দেখা গেছে খাবারে প্রটিনের পরিমাণ কমে গেছে। পোশাক ও স্যানিটারী প্যাডের ব্যবহার কমে গেছে। শিক্ষার বাহিরে ও যেসব কিশোরীদের বয়স ১৬ বছরের অধিক তারা বাল্য-বিবাহের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক পিতামাতাই তাদের কন্যাদের বিবাহের কথা ভাবছেন বলে জড়িপে উঠে আসে। এর আগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনে এক গবেষণায় দেখা গেছে করোনা মাহামারিতে বাল্য-বিবাহের সংখ্যা ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা ভাইরাসে নারীদের উপর সহিংসতা নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা যায় জুন মাসে ৪৬২ জন কিশোরী বাল্য-বিবাহের শিকার হয় এবং ২০৬ জন কিশোরীর বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। মে মাসে ১৮০ জন কিশোরীর বাল্য-বিবাহ হয় এবং ২৩৩টি বাল্য-বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ইউনিসেফের সঙ্গে কোলাবোরেশন জরিপে দেখা গেছে ৩০-৪০ জেলায় এপ্রিল থেক আগষ্টের মধ্যে ৪০০ বাল্য বিবাহ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির কারণে স্কুলে যাওয়ার হার কম থাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা উর্দ্ধমুখী। অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকাই বাল্য-বিবাহের প্রধান কারণ। নারী অধিকার ও অ্যাকশন এইডের জেন্ডার সমতার ব্যবস্থাপক মোরিওম নেসা বলেন, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার সঙ্গে বাল্য-বিবাহের সম্পর্ক রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]