• প্রচ্ছদ » » শিক্ষার্থীদের অনশন ও অসদাচরণের দায়


শিক্ষার্থীদের অনশন ও অসদাচরণের দায়

আমাদের নতুন সময় : 24/01/2021

কাকন রেজা : জ্বর নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। ভ‚গোল পড়াতেন, আমরা তাকে ভ‚গোল স্যার বলতাম। রীতিমতো রেগে গেলেন। বললেন, ‘জ্বর নিয়ে তোকে স্কুলে কে আসতে বলেছে। এমনিতে ফাঁকি দিস এখন জ্বর নিয়ে স্কুলে এসেছিস।’ সোজা বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন দপ্তরি দিয়ে। আজকে যখন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের অনশনরত দুই শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার খবর পড়লাম তখন স্যারের কথা মনে হলো। আহা! শিক্ষক হলেন তারা। যাদের মধ্যে ছাত্র ও পুত্রের পার্থক্য ছিলো না। ছাত্রকে পুত্রবত যারা ভাবতে পারেন না, তারা সত্যিকার অর্থেই শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নন। খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের। শিক্ষকের কাজ হলো শিক্ষা দেওয়া। সেই শিক্ষা শুধু পুঁথিগত নয়, আচরণ শিক্ষাও। সুতরাং অসদাচরণের দায়টা তাদেরও কাঁধে নিতে হয়। শিক্ষা একটা সার্বিক ব্যাপার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই উপমহাদেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র মনে করা হয়। আর সে ধারণা থেকেই আচার্য, উপাচার্য পদবিগুলো যুক্ত হয়েছে। আচার্যের মূল শব্দগত অর্থ, দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণ, বেদ শিক্ষাগুরু। শিক্ষক হওয়া এতো সোজা নয়। এখনকার অনেক শিক্ষককে দেখলে নিজেরই লজ্জা হয়। আফসোস হয় আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য। কাদের কাছে পড়তে পাঠাই আমাদের সন্তানদের। স্কুল কলেজে যাদের অনেকেরই লক্ষ্য থাকে প্রাইভেট পড়ানো কিংবা কোচিং সেন্টারের। আর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে তো কথাই নেই। শিক্ষকের চেয়ে তারা বেশি বুদ্ধিজীবী সেজে যান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো শিকেয় তুলে সমাজের নানা বিষয়ে ওয়াজ-নছিহত করে বেড়ান। ওয়াজ-নছিহত করা যে দোষের তা বলছি না, কিন্তু আসল কাজটা তো করতে হবে। অনেক দায়িত্বশীলদেরও দেখি চ্যারিটি করে বেড়ান। অথচ অনেকেরই দপ্তরের কাজের ব্যাপারে অষ্টরম্ভা। এমন চ্যারিটি বা ওয়াজ-নছিহত মূলত অ্যাটেনশন সিকিং। তারা অ্যাটেনশন সিকার। আপনাকে যে কাজটা দেওয়া হয়েছে সেটা ঠিকমত করুন। তারপর বাড়তি যদি করতে পারেন তবে সেটা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। সাধুবাদের যোগ্য। আপনি ফরজে গন্ডগোল করে নফলে মনোযোগী হলে তো হবে না। বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে বিশে^ আপনাদের অবস্থানটা একটু দেখে নিন। দেখুন অনুতাপ জাগে কিনা। বাচ্চাদের ভুল হতে পারে, তা শোধরানোর দায়িত্ব কাদের? রাস্তার পাÐাদের, না শিক্ষকদের? নিশ্চয়ই শিক্ষকদের। তাহলে অসদাচরণ যাতে না ঘটে সে ব্যবস্থা করুন। অসদাচরণের দায় শিক্ষার্থীদের চেয়ে আপনাদের বেশি। আপনাদের আচরণ কী? আপনাদের নিয়ে কী পরিমাণ ‘ট্রল’ হয় তা কী মহাশয়দের ধারণায় রয়েছে? নেই। থাকলে রাতের আঁধারে পেছন দরজা দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হতো না। থাকলে অনশনরত দুই বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়তো না। ছাত্রকে পুত্রবত মানলে তাদের অনশনেই যেতে হতো না। শেষে আবার আমার সেই ভ‚গোল স্যারের কথা বলি। জ্বরে আক্রান্ত আমাকে দপ্তরি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়েই কর্তব্য শেষ করেননি তিনি। বিকেলে বাসায় এসেছিলেন দেখতে আমার শরীর কেমন। মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, তোর পড়া নিয়ে ভাবতে হবে না, তুই আগে সুস্থ হয়ে ওঠ। এখনও চোখ ভিজে যায় সেই মহা প্রাণের কথা মনে পড়লে। আর হালের আপনাদের কারও কারও কথা শুনলে জাফর স্যার এর মতো বিবমিষা জাগে। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]