• প্রচ্ছদ » » ‘শহীদ স্মৃতি অমর হোক’ কি হারিয়ে যাবে?


‘শহীদ স্মৃতি অমর হোক’ কি হারিয়ে যাবে?

আমাদের নতুন সময় : 21/02/2021

প্রবীর বিকাশ সরকার

একুশে ফেব্রæয়ারি/৮ ফাল্গুনÑআরও এক নাম তারই/এখন সে তো মাতৃভাষা দিবস/আনন্দ হৈচৈ/শহীদ দিবস আর বলে না কেউ/শোকচেতনা কই?/ছলো ছলো হয় কেবলই/আমার দুটি চোখ/একাই বলি: শহীদ স্মৃতি/মৃত্যুঞ্জয়ী হোক! ছড়াটি লিখেছিলাম ২০১৬ সালে মনের দুঃখ থেকে। দুঃখটা এই যে, ২১ ফেব্রæয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং বাঙালির শহীদ দিবস এক কিনা এই ভাবনা থেকে? বাংলাদেশের মর্যাদাসম্পন্ন মহান শহীদ দিবস বা জাতীয় দিবস কেন অযথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হতে যাবে? কোন কারণে? আমার কাছে মোটেই বোধগম্য নয়। আমাদেরকে গভীরভাবে ভাবতে হবে যে, আপন মাতৃভাষা রক্ষার্থে প্রাণ দিয়েছেন চারজন বাঙালি সন্তান তাই আমরা জাতি হিসেবে ১৯৫৩ সাল থেকে শহীদ দিবস হিসেবে অর্থাৎ শোকের দিন হিসেবে ২১ ফেব্রæয়ারি দিবসটি উদযাপন করে আসছি। মহান শহীদদের স্মৃতি স্মরণ করাই এই শহীদ দিবসের মূল তাৎপর্য ছিল। মহান শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারে প্রতি বছর ২১ ফেব্রæয়ারি তারিখে সকালবেলা নগ্নপায়ে পুষ্পমালা অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো একটি রীতি বা ঐতিহ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে বাঙালি সমাজে। শহীদ দিবস উপলক্ষে দিন কয়েক আগে থেকেই প্রস্তুতি চলত দিবসটিকে ভাবগম্ভীর মর্যাদায় উদযাপনের জন্য। গান-বাজনা বলতে একটিই গানই গাওয়া হত সমস্বরে যা ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করাকে ভিত্তি করে রচিত, সুরারোপিত ও গীত হয়েছে: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি?/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রæ গড়ায়ে ফেব্রæয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?
এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই গানটি কি সব দেশে গাওয়া হয়? বা এই গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বাঙালির প্রাণের বেদনা, হাহাকার ও শোক তা কি অনুরণিত হয়? আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে উদযাপিত হওয়াটাও স্বাভাবিক বলে মনে হয় কি? কীভাবে এই দিবসটি উদযাপিত হবে তার একটি নির্দেশনা থাকা বাঞ্ছণীয় বলে মনে হয়। কারণ, এই দিবসটি নির্ধারিত হয়েছে একটি জাতির নিজস্ব ভাষাকে রক্ষার জন্য আত্মদানের রক্তঝরা ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্বাভাবিকভাবেই সেই জাতি ও জাতির রাষ্ট্রটির মান মর্যাদা অতপ্রোতভাবে জড়িত। মাতৃভাষা আনন্দ-ফূর্তি-গান-বাজনা-নৃত্যের মাধ্যমে রক্ষার বিষয়টি শুধুই বালখিল্য ছাড়া কিছু নয়। কেন যে, মহান ২১ ফেব্রæয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে গ্রহণ করা হল এবং বাঙালিও তাকে অনুমোদন দিল তার অর্থ বা যৌক্তিকতা বোধগম্য নয়। এই নাবালকসুলভ কাজটি করে বাঙালি জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবসটির অবমাননা করা হয়েছে বললে আদৌ কি ভুল বলা হবে? একদিন এই মাতৃভাষা দিবসটি বাঙালির গর্বিত সন্তানদের স্মৃতিকে বিস্মরণের সাদা চাদরে ঢেকে দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং শহীদ দিবস একাকার হয়ে যাবে, যাচ্ছেও। এটা মোটেই কাম্য নয়। দুটো দিবসই সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ এবং তাৎপর্য বহন করে। আলাদাভাবেই উদযাপন করার দাবি রাখে। শুধু তাই নয়, মহান ভাষা আন্দোলনই আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক। মহান শহীদরাই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে জোরদার করেছিলেন, তরান্বিত করেছিলেন স্বাধীনতার স্পৃহাকেÑএই কথাটিও ভুলে গেলে চলবে না। তথাপি, বাঙালির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘটা করে হাসি-আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা বা মহান শহীদ দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা কোনোভাবেই মর্যাদাবহ নয় স্মরণ রাখা প্রয়োজন। লেখক : কথাসাহিত্যিক ও রবীন্দ্রগবেষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]