• প্রচ্ছদ » » বিটকয়েনের মতো একটা বৈপ্লবিক ইকোনোমির আইডিয়া মেইনস্ট্রিমে দিলে সাতাশি নাকামুরা অর্থনীতিতে দশ-বারোটা নোবেল পেতো!


বিটকয়েনের মতো একটা বৈপ্লবিক ইকোনোমির আইডিয়া মেইনস্ট্রিমে দিলে সাতাশি নাকামুরা অর্থনীতিতে দশ-বারোটা নোবেল পেতো!

আমাদের নতুন সময় : 22/02/2021

শুভ কামাল : গত কয়েকদিনে বিটকয়েনের পেছনের টেকনোলজিক্যাল কনসেপ্ট জেনে পুরাপুরি হতভম্ব হয়ে গেলাম। দিস শিট ইজ জিনিয়াস! পিওর জিনিয়াস। সংক্ষেপে বলতে চেষ্টা করি। অনেকে ভাবেন বিটকয়েন রেখে দিলে সেটার ভ্যালু বাড়তে থাকে সেটাই বোধহয় বিটকয়েনের মূল অফার। তা না, এর পেছনে দুনিয়া পালটে দেওয়ার ব্যাপার আছে। বিট কয়েন আসলে জমিয়ে রাখার জন্য নয়। এর সৃষ্টি হয়েছিলো দৈনন্দিন কাজে টাকা বা ডলারের বিপরীতে সেই ডিজিটাল কয়েন ব্যবহার করার জন্য যেটা বিশে^র যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যাবে! সাতাশি নাকামুরা ছদ্মনামের অজ্ঞাতপরিচয় এক লোক ২০০৯ সালে এক বøগে একটা কনসেপ্ট প্রস্তাব করলো- সে একটা ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেটা হবে ডিসেন্ট্রালাইজড। অর্থাৎ এর নিয়ন্ত্রণ কারো কাছে থাকবে না, জনগণই হবে এর নিয়ন্ত্রক। সে একটা পেপার আপলোড দিলো, সেখানে পুরা নীলনকশা করা ছিলো। প্রতিটা ব্যাপার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করা ছিলো। এটাই ছিলো এক যুগান্তকারী আইডিয়া, আমার ধারণা ইন্টারনেট আবিষ্কারের মতোই সমান বৈপ্লবিক আবিষ্কার এই বøকচেইন। ধরুন যেকোনো কোম্পানির নিজেদের ডাটা সেন্টার থাকে, সেগুলা বানাতে এবং মেন্টেইন করতে অনেক খরচ হয় কোম্পানিগুলোর, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। সেসব ডাটা সেন্টারে ডাটা প্রসেসিং হয়। কিন্তু বিট কয়েনের নিজেস্ব কোন ডাটা সেন্টার নেই, তাহলে তাদের লেনদেনগুলা প্রসেস হয় কোথায়? সাধারণ মানুষের কম্পিউটারে! আপনারা অনেকেই বিট কয়েন ‘মাইনিং’ এর নাম শুনেছেন, এই মাইনিং টা কি আসলে? মাইনিং মানে হচ্ছে মানুষের নিজেস্ব কম্পিউটারে বিট কয়েনের ট্রানজেকশনগুলো প্রসেসিং করা। তার মানে বিটকয়েনের লেনদেনগুলো প্রসেস হচ্ছে সাধারণ মানুষের কম্পিউটারের মেমোরী ব্যবহার করে সারা পৃথিবীজুড়ে। তাদের সম্মিলিত কম্পিউটেশন পাওয়ার গুগলের দ্বিগুনের চেয়েও বেশি।
তো বিটকয়েনের কম্পিউটেশন করে দিলে যে করছে তার লাভটা কী? সে কিছু কয়েন পুরস্কার হিসেবে পায়, তখনই নতুন কয়েন সৃষ্টি হতে থাকে। এটাকে বলে মাইনিং রিওয়ার্ড। অবশ্য যতো ডিমান্ড বাড়ে ততো রিওয়ার্ডের পরিমাণ কমতে থাকে। এখন সারা পৃথিবীতে দিনে ৯০০ বিট কয়েন মাইনিং হয়। একটা আইডিয়া দেওয়ার জন্য রাফ এস্টিমেট বলি, আপনার ল্যাপটপ দিয়ে সারা মাস মাইনিং করলে আপনি পাবেন প্রায় ১০ ডলারের সমমূল্যের বিটকয়েন, পোষায় না আসলে, আমি একটা হিসাবে দেখলাম বর্তমান রেটে আপনার ল্যাপটপ দিয়ে একটা বিটকয়েন উৎপন্ন করতে সময় লাগবে ২০০০ দিনেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ছয় বছর একটানা কম্পিউটার চালায়া রাখা লাগবে। যারা প্রফেশনালি মাইনিং করে তারা অনেক বড় বড় জিপিইউ ওয়ালা মেশিন নিয়ে মাইনিং করে, তাদের ইনভেস্টমেন্ট মিলিয়ন ডলার হয়। তবে যারা শুরুতে মাইনিং করেছেন তখন কম্পিটিশন কম ছিলো, তারা অনেক কয়েন বানিয়েছে। তার মানে সাইকেলটা লক্ষ্য করুন। সাধারণ মানুষের কম্পিউটারে মাইন হয়ে সেই কয়েন উৎপন্ন হয়, সেই কয়েনের ট্রানজেকশন প্রসেস হতে থাকে সাধারণ মানুষেরই কম্পিউটারে, এভাবেই বøকচেইনের ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলা একেকটা পরিপূর্ণ ডিসেন্ট্রালাইজড কারেন্সি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বিট কয়েনের লিমিট আছে, মানে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার পরে আর বিটকয়েন মাইনিং করা যাবে না, তখন সেটা হয়ে যাবে সোনার মতোই একটা দুর্লভ বস্তু! সেজন্যেই আসলে বিটকয়েনের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
কারেন্সি হিসেবে বিটকয়েনের সুবিধাগুলো কী? [১] বিট কয়েনে ট্রানজেকশন করতে নাম পরিচয় দেয়া লাগে না কোথাও। যেকোনো দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট করা যায় নাম পরিচয় গোপন রেখে। বিট কয়েন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো বিভিন্ন দেশের লিবারেটেরিয়ানদের হাত ধরে, অর্থাৎ যারা চায় না সরকার তাদের সবসময় মনিটর করুক তাদের হাত ধরে। [২] এর কর্তৃত্ব কারো হাতে নেই। কেউ চাইলেই এর কোনোকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না নিজের ইচ্ছামতো। [৩]এর প্রোগ্রাম এমনভাবে করা কেউ চাইলেও জাল করতে পারবে না সেই কয়েন। [৪] সরকার যেমন চাইলেই দেশে টাকার সাপ্লাই বাড়িয়ে দেয়, বিটকয়েনে চাইলেও কেউ সাপ্লাই বাড়াতে পারবে না, তাই এটা মুদ্রাস্ফীতির এগেইনস্টে ভালো সাপোর্ট দেয়। [৫] বিটকয়েন ট্রানজেকশন হলে ব্যাংক বা ক্রেডিটকার্ড কোম্পানি মাঝখান থেকে কমিশন কেটে নিতে পারবে না। [৬] এর সরবরাহ লিমিটেড, তাই এর মূল্য শুধু বাড়তেই থাকবে সোনার মতো। এমন একটা মুদ্রা দাঁড়াতে লাগে মানুষের সাপোর্ট। অনেক মানুষের সাপোর্ট দেখে নানা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি এখন পেমেন্ট হিসেবে বিটকয়েন এক্সেপ্ট করছে, আর তাতেই আসলে বিটকয়েন মেইনস্ট্রিমে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। বিট কয়েনের বøক চেইনের আইডিয়া নিয়ে এখন অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে এসেছে। তাদের একেকটা একেক থিম নিয়ে কাজ করে। ক্রিপ্টোর সম্মিলিত মার্কেট এখন এক ট্রিলিয়ন ডলার।
যাইহোক এখন নতুন এক আইডিয়া এসেছে- ডেফি, অর্থাৎ ডিসেন্ট্রালাইজড ফিন্যান্স। ওই যে ব্যাংকের লোন দেওয়া, কিংবা ইন্সুরেন্স ইত্যাদিও দেবে ডিসেন্ট্রালাইজডভাবে, মানে এক মানুষ অন্য মানুষকে ধার দেবে, মাঝখানে থাকবে না কোনো ব্যাংক কিংবা রাষ্ট্র! এসব উদ্যোগ বর্তমান পৃথিবীর পরিচিত অর্থব্যবস্থাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে ভাবলে মাথার চুলটুল দাঁড়িয়ে যাবে। এসব বিপ্লব শুরু হয়েছে সাতাশি নাকামুরার হাত ধরেই। অচিরেই একদিন হয়তো ক্রিপ্টো বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থার বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। অবিশ্বাস করার আগে ভাবুন, বিশ বছর আগে কেউ কি ভেবেছিলেন ফোনের মাঝে সারা পৃথিবী নিয়ে একদিন আপনি ঘুরে বেড়াবেন? ফোনে উবার ডাকবেন, ফোনের মাধ্যমে বই কিনবেন আর টাকা ট্রান্সফার করবেন? এই সাতাশি নাকামুরো আসলে কে তা কেউ জানে না। লোকটা তার নাম পরিচয় কখনো বলেনি। এমন একটা বৈপ্লবিক ইকোনমির আইডিয়া মেইনস্ট্রিমে দিলে সে অর্থনীতিতে দশ বারোটা নোবেল পাইতো!ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]