ভাষা ভাবনা

আমাদের নতুন সময় : 22/02/2021

আহসান হাবিব :পৃথিবীর প্রতিটি ভাষা ভালোবাসি, তবে বাংলায় কথা বলি। কেননা বাংলা আমার মাতৃভাষা। মাতৃভাষা বলে বাংলার প্রতি রয়েছে অন্য যেকোনো ভাষার চেয়ে অধিক ভালোবাসা। তবে বাংলাকে মনে করি না অন্য ভাষার চেয়ে সেরা, কেননা প্রতিটি ভাষাই সুন্দর। মাঝে মাঝে ইংরেজিতে কথা বলি, প্রয়োজনে, ইংরেজি বই পড়ি কোনোকিছু জানার জন্য। যদি আরও অনেক ভাষা জানতাম, দারুণ হতো, কিন্তু জানি না বলে কোনো আক্ষেপ নেই, কেননা আমি মনে করি মাতৃভাষাতেই পৃথিবীর সব জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব। যা অন্য ভাষায় রচিত, তা পৃথিবীর যেকোনো ভাষায় রূপান্তর সম্ভব। কেননা জ্ঞান ভাষা নিরপেক্ষ। বস্তুর সত্য যেকোনো ভাষায় বর্ণিত হওয়া সম্ভব।ভাষা যখন রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়, তখনি বিদ্বেষের জন্ম হয়। যেমন হয়েছিলো ‘৫২ তে। সে ইতিহাস সকলের জানা। সংস্কৃতি চর্চার প্রধান উপাদান ভাষা, তার রয়েছে প্রথমত স্থানিক কাঠামো যা বহু সময় ধরে ধীরে ধীরে রূপ পরিগ্রহ করে এবং তাদের নিয়ে ক্রমে একটি জাতির সৃষ্টি হয়। ভাষার উপর আক্রমণ তাই একটি জাতির সংস্কৃতির উপর আক্রমণ। আপন সংস্কৃতি ছাড়া যেহেতু কোনো মানুষ কিংবা জাতি টিকতে পারে না, তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অনিবার্য। যেকোনো ভাষার মতো বাংলারও রয়েছে অসংখ্য স্থানিক রূপ, আবার রয়েছে একটি সর্বজনীন রূপ যাকে আমরা প্রমিত রূপ বলি। ঠিক তেমনি পৃথিবীর সব মানুষের জন্য দরকার একটি আন্তর্জাতিক সর্বজনীন ভাষা যে ভাষায় প্রয়োজনে সব মানুষ যেন কথা বলতে পারে। এটা সম্ভব কী না জানি না, তবে পৃথিবী সেদিকেই ধাবমান বলেই দিনে দিনে প্রতীয়মান হয়ে উঠছে। কেননা মানুষ ক্রমেই তার আঞ্চলিকতা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠছে। কোন ভাষাটি এমন সর্বজনীন আন্তর্জাতিক হয়ে উঠবে এটি নির্ধারিত হবে কখন কীভাবে, সময় এবং প্রয়োজনই তা বলে দেবে। ভাষার বৈচিত্র সংস্কৃতিকে বৈচিত্রময় করে আবার সেগুলোর সৌন্দর্য উপভোগের জন্য চাই প্রমিত রূপ। তখন আপন সংস্কৃতিও হয় ঋদ্ধ, হয়ে ওঠে স্থানিক হয়েও আন্তর্জাতিক। তাই আমি ভালোবাসি সব ভাষা, সব সংস্কৃতি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]