সাকিবের আর কতো অর্থ দরকার!

আমাদের নতুন সময় : 23/02/2021

প্রভাষ আমিন : সাকিব একজন পেশাদার খেলোয়াড়। অনেকে বলছেন, সাকিবের পছন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে। আর ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার যেহেতু লম্বা নয়, তাই ভবিষ্যতের নিশ্চিন্তির জন্য অর্থটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হতেই পারে। সেটা দোষের কিছু নয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা পেশাদার হচ্ছেন, এটা ভালো। কিন্তু পেশা হিসেবে ক্রিকেট আর দশটা পেশার মতো নয়। একজন ক্রিকেটার চাইলেই, তার পছন্দ বেছে নিতে পারবেন না। তাকে বোর্ডের নিয়ম মেনে চলতে হবে। টাকাটা অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেটা যখন দেশের চেয়ে বড় হয়ে যায়, তখন সেটা মানা যায় না, মানা উচিত নয়। অর্থ সবারই দরকার। কিন্তু সাকিবের আর কতো অর্থ দরকার?
অনেকে ক্রিকেটের সাথে আবেগ-দেশপ্রেম না মেলানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন, ক্রিকেটকে যে আপনি এতো ভালোবাসেন, সে তো দেশপ্রেমের জন্যই। সাকিব যে আজ এতো বড় তারকা, সে তো আমাদের বাঁধভাঙ্গা আবেগের জন্যই। সেই আবেগের মূল্য ক্রিকেটারদের দিতেই হবে। সাকিবকে যে আমরা জান দিয়ে ভালোবাসি, সেটা কেবল তিনি ভালো খেলেন বলেই নয়, তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলেন বলে। বিরাট কোহলিও তো অনেক ভালো ক্রিকেটার। কিন্তু আমি তো তার সাফল্যে গলা ফাটাই না। কলকাতা নাইট রাইডার্সে সাকিব যতো ভালোই খেলুক, আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। আমি চাই সাকিব বাংলাদেশের হয়ে ভালো খেলুক। তার ভালোত্ব যেন বাংলাদেশকে মহিমান্বিত করে। গাইয়ের দুধটা পাবে নাইট রাইডার্স, আর লাথিটা খাবে বাংলাদেশ; এটা হতে পারে না।
সাকিব টেস্ট খেলতে চান না, এটা পুরোনো কথা। সাকিবকে টেস্ট খেলতে বাধ্য করতে তাকে দলের অধিনায়ক বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন বোর্ডের মনে ছিল, নেতৃত্ব হয়তো তাকে দায়িত্বশীল করবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বোর্ডের সে কৌশল কাজে লাগেনি। আমার ধারণা অধিনায়কত্বের প্রলোভনও তাকে বাঁধতে পারতো না। সাকিব বাংলাদেশের জন্য অনেক করেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আজকের দুর্দশার জন্য সাকিব দায়ী। সাকিবের জন্যই বোর্ড ক্রিকেটারদের জন্য কোনো শৃঙ্খলাবিধি কার্যকর করতে পারছে না। সাকিবকে নিয়ে বিসিবি জটিল সমস্যায় পড়েছে। প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে তারা সাকিবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। আমার ধারণা বোর্ড এখন দিন গুণছে, কবে সাকিব অবসর নেবেন এবং তারা ক্রিকেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনবেন।সাকিব অসাধারণ পারফরমার, সন্দেহ নেই। কিন্তু এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে কতোটুকু এগোতে পেরেছে। গত বিশ্বকাপে সাকিবের প্রায় ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের মতো পারফরম্যান্সও তো বাংলাদেশকে বেশি দূর নিতে পারেনি। বাংলাদেশ যে এখন আফগানিস্তানেরও পেছনে, তা কি ঠেকাতে পেরেছেন সাকিব? তাই বোর্ডের এখন সময় এসেছে কঠোর হওয়ার। সময় আসলে অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। তবে এখনই কঠোর না হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে ভুগতে হবে। সাকিবের ইচ্ছার পুতুল হওয়া নয়, বোর্ডকে এখন সাকিব তথা গোটা দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সবার জন্য সমান নিয়ম, সমান শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কোনোভাবেই একজন খেলোয়াড় দলের চেয়ে, দেশের চেয়ে বড় হতে পারে না। সাকিবকে বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ক্রিকেটে খেলতে হবে অথবা বিদায় নিতে হবে। বারবার দুধেল গাইয়ের লাথি খেয়ে মরার চেয়ে সেই দুষ্ট গাইকে বিদায় করাই শ্রেয়। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএননিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]