• প্রচ্ছদ » » ১৯৭২ সালে নাটোর গণভবনে রকিবউদ্দীন ও কুতুবুল আলম নানা নাতির ভ‚মিকায় বঙ্গবন্ধুর সামনে তার সরকারের সমালোচনামূলক গম্ভীরা গান গেয়ে শোনান


১৯৭২ সালে নাটোর গণভবনে রকিবউদ্দীন ও কুতুবুল আলম নানা নাতির ভ‚মিকায় বঙ্গবন্ধুর সামনে তার সরকারের সমালোচনামূলক গম্ভীরা গান গেয়ে শোনান

আমাদের নতুন সময় : 01/03/2021

মোজাফ্ফার হোসেন : ১৯৭২ সালে নাটোর গণভবনে রকিবউদ্দীন ও কুতুবুল আলম নানা-নাতির ভ‚মিকায় বঙ্গবন্ধুর সামনে তার সরকারের সমালোচনামূলক গম্ভীরা গান গেয়ে শোনান। বঙ্গবন্ধু সেই গানে মানুষের বেদনা ও দুঃখকষ্টের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন। তিনি কুতুবুল আলমকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘তুই কে? তুই এতো কথা বললি? আমি শুনলাম। আমি চেষ্টা করছি। আমি রাস্তাঘাট ঠিক করার ব্যবস্থা করছি। নাটোরে টেলিভিশন কেন্দ্র বসানোর ব্যবস্থা করছি।’ কুতুবুল তখন বঙ্গবন্ধুর মাথায় মাথাল এবং হাতি লাঠি ধরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘নানা, তোমার লোকজন ঠিকমতো কাজ না করলে লাঠি দিয়ে পিটাবা। মাথাল দিলাম এজন্য যে ক্ষেতে খামারে তুমি যখন যাবে তখন যাতে তুমি রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পারো।’এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বেতারে প্রথমবারের মতো গম্ভীরা গান পরিবেশন করা হয়।
গণভবনে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, সরকারি উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা ও বিদেশিদের সামনে লোকগানের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গম্ভীরা গানের ছয়টি তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয় এবং সেগুলো বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়। ক্রমেই কুতুবুলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধে কুতুবুলের পরিবারের ওপর পাকসেনাদের অকথ্য নির্যাতন, স্ত্রী ও দুই পুত্রের শহিদ হওয়ার কথা শুনে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘যখন তুই ঢাকায় আসবি তখন তুই সরাসরি গণভবনে আমার সঙ্গে দেখা করবি। যদি তুই দেখা না করছস, তাহলে তোকে আমি পুলিশ দিয়ে ধরে আনব।’ শুনে কুতুবুল গণভবনের প্রবেশ পথে নিরাপত্তাবাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানালে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ঠিক আছে। এখন থেকে নিরাপত্তার লোকজন তোকে আর চেক করবে না।’ কুতুবুলের কোমরে ব্যথার কথা শুনে বঙ্গবন্ধু ঢাকাতে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সে সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলীকে বলেন, ‘আমার কুতুব যে হাসপাতালে আছে, তোমরা কী তাকে একবার দেখতে গিয়েছিলে?’ এই হলেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা। সূত্র: বঙ্গবন্ধুর সংস্কৃতি-চেতনা, তানভীর আহমেদ সিডনী, তাম্রলিপি, ঢাকা ২০২০, পৃ. ৮৭-৮৮ প্রবন্ধ: বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি সংস্কৃতি, মোজাফফ ্হোসেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]