• প্রচ্ছদ » » নিঃসংকোচে নির্ভয়ে বলতে লিখতে, আঁকতে এবং চিন্তা করার স্বাধীনতা না থাকলে সমাজ ধীরে ধীরে নষ্টদের দখলে চলে যায়, যার ইংগিত এখন সর্বত্র


নিঃসংকোচে নির্ভয়ে বলতে লিখতে, আঁকতে এবং চিন্তা করার স্বাধীনতা না থাকলে সমাজ ধীরে ধীরে নষ্টদের দখলে চলে যায়, যার ইংগিত এখন সর্বত্র

আমাদের নতুন সময় : 02/03/2021

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন : একটি কথা। এ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের পক্ষে যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন বা বলবেন তাদের আমি বিনীত অনুরোধ করছি আপনারা যদি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থেকে থাকেন তাহলে এখনই আনফ্রেন্ড করুন। এমনকি যারা নীরব থেকে সমর্থন দেবেন তারাও। এমন ফ্রেন্ডের দরকার নেই। আমি নিশ্চিত আজ যদি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতো আর তারা যদি আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি করতো, তাহলে এ আইনের চরম বিরোধিতা করতো। এরকম মানুষের কোনো লেখা আমি পড়তেও চাই না। তাদের লেখা পড়লে এখন থেকে মুশতাক আহমেদের কথা মনে পরে যাবে।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার ছাড়পত্র কবিতার মাধ্যমে নবজাতকের কাছে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘এ বিশ^কে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি’ আর আমরা বিশ^তো দূরে থাক দেশটাকেই আমাদের সন্তানদের জন্য বাসযোগ্যতো করতে পারিইনি উল্টো কেবল নিজেদের যাপিত সময়টাতে ভালো থাকার জন্য তাদের জন্য নরক বানিয়ে রেখে যাচ্ছি। মুশতাক আহমদের কথা যতোই ভাবছি ততোই তাকে বাঁচাতে কোনো ভ‚মিকা রাখতে না পারায় প্রচÐ মনোবেদনায় ভুগছি। তাকে যতোই জানছি কষ্টের পরিমাণ ততোই বাড়ছে। একই সময়ে একই সঙ্গে একই রকম কারণ দেখিয়ে কিশোর নামের এক কার্টুন আঁকিয়েকেও ধরেছিলো। সে এখনো জেলে। তার শরীরও ভালো নেই। শুনেছি তার পায়ে ইনফেকশন হয়েছে, কানে পুঁজ হয়েছে। সেও কতো বড় দুধর্ষ যে তাকেও অনেকবার তার প্রাপ্য জামিন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বিচার করুন কিন্তু জামিন দিবেন না কেন? আর একটি মৃত্যুও যেন না ঘটে তার জন্য আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত। এমনি এমনি এই সরকার শুনবে না। তারা বড় বড় চোর, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সখ্য করবে আর সৃজনশীল ভালো মানুষ, যারা তাদের জয়গান না গেয়ে তাদের ব্যর্থতাকে মানুষের সামনে তুলে ধরবে, তাদের জেলে ভরবে। এ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আর এনালগ সিকিউরিটি আইন যাই বলুন না কেন এরকম আইন একটি গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে থাকতে পারে না। চিন্তা করে দেখুন এ সরকার বঙ্গবন্ধু এবং সময়কার তাদের নেতাদের যেসব কর্মকাÐ নিয়ে গর্বিত আজ সেই সকল কাজ করলেই ডিজিটাল আইন দিয়ে জেলে ঢুকায়। একটি সমাজ সৃজনশীল তখনই হয় যখন মানুষ নির্দ্বিধায় নিঃসংকোচে নির্ভয়ে বলতে লিখতে, আঁকতে এবং চিন্তা করতে পারে। এই স্বাধীনতা না থাকলে সমাজ ধীরে ধীরে নষ্টদের দখলে চলে যায়, যার ইংগিত এখন সর্বত্র। আজ সৃজনশীল মানুষের বড় আকাল চলছে। যাও কিছু ছিলো তাদের অনেকেই হয় ওপারে চলে গেছেন না হয় ইউরোপ আমেরিকায় চলে গেছেন। যেই দেশে মানুষ তাদের সরকারকে প্রচÐ ভাষায় গালি দিতে না পারে সেই দেশে সভ্য না। বিশে^র সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উলঙ্গ মূর্তি বানিয়ে সেখানে প্রকাশ্যে গণ-লাত্থি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলো। টেলিভিশনে নানা ব্যঙ্গ করাতো সাধারণ ব্যাপার। তাতে কী কেউ জেলে গিয়েছিলো? কথায় কথায় অনুভ‚তিতে লাগা কোনো সভ্য সরকারের লক্ষণ না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]