• প্রচ্ছদ » » ভারতের নন্দী গ্রাম ঘটনা সিপিএমের জন্য অনেকটা সেইম সাইড


ভারতের নন্দী গ্রাম ঘটনা সিপিএমের জন্য অনেকটা সেইম সাইড

আমাদের নতুন সময় : 03/03/2021

রেজা আলী পাটোয়ারী : নন্দী গ্রাম ঘটনা সিপিএম-এর জন্য অনেকটা সেইম সাইড। ‘সর্বহারাদের ভালো তাদের চেয়েও আমরা বেশি বুঝি এমন মনোভাবও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। একটা স্পার্কের প্রয়োজন ছিলো। মমতা ব্যানার্জী সেটা কাজে লাগিয়েছিলেন। সাধারণত এমন স্পার্কের ওপর ভরসা করেই বামরা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। তাই বলেছিÑ সেইম সাইড। সোভিয়েতে বলশেভিকদের বিপ্লব পরিবর্তী যে আচরণ তার বাস্তবিক ভিত্তি ছিলো। শঙ্কার সুনির্দিষ্ট কারণও ছিলো। কিন্তু ‘বুর্জোয়া গণতন্ত্র’ এ ভোটে একটা প্রদেশে গিয়ে একই রকম আচরণ কীভাবে করলেন সিপিএম। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সবর্ত্র ঢালাও-ভাবে ‘বুর্জোয়া’ খুঁজে বেড়ালেন। স্ব-পন্থী না হলেই সাইড লাইনে। এমন কী যারা প্রয়াত তাদের স্মরণ করা নিয়েও দোটানায় ভুগতেন। শুধু কি ‘বুর্জোয়া’? হেমাঙ্গ বিশ^াস-এর মতো মানুষও সরকারিভাবে কোনো সম্মান পাননি, এমন কী শেষকৃত্যেও। কিন্তু আম-জনতার যে ঢল নেমেছিলো তা দেখেও সিপিএম কর্তাব্যাক্তিদের টনক নড়েনি। শিক্ষা নেয়নি। উল্টো উৎদত্তের শোক রেলিতে মার্ক-লেলিন-স্টালিনদের ছবির কী মাজেজা তা আজও ঠাওর করে উঠতে পারিনি। সর্ব ভারতেও যদি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতো বিপ্লববিহীনভাবে, ভোটের দ্বারা তবুও এমনতর আচরণ করতে পারেন না। বিপ্লব করে হলেও নয়। কারণ ভারতীয় সংস্কৃতি-ঐতিহ্য আলাদা। প্রতি বিপ্লবের শঙ্কা নেই। থাকলেও তার চরিত্র ভিন্ন। তাই ঠেকানোর ত্বরিকাও হতো ভিন্ন। ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’ এর নামে গোটা বঙ্গের খোল-নলচে পাল্টে দিতে চাইলেন। অথচ বাকী সকল ক্ষেত্রে তাদের অবদান অপরিসীম। নন্দীগ্রাম ইস্যুতে সাংস্কৃতিক কর্মীরা অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছিলেন। এমন কী বামদের কাছে যারা কমরেড তারাও সামিল হয়েছিলো। বিভাজিত-ব্রাত্য করে রেখে কী কোনো ফায়দা হয়েছিলো?। কমরেডরাও যে এগিয়ে আসেননি। মানে কি দাঁড়ালো? সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এ বিভাজন কর্মীরা ভালো চোখে দেখেননি, ভালোভাবে নেননি। মমতা ক্ষমতায় এসে উল্টোটা করলেন। ঢালাও-ভাবে সকল কর্মীদের রাজনীতিতে ঢুকতে এক প্রকার বাধ্যই করলেন। যদিও কংগ্রেসের বিটিম তৃণমূল কোনোভাবেই বিকল্প হতে পারে না। মানুষের কাছে কোনো অপশন ছিলো না। এবারও নেই। সিপিএম-কংগ্রেসজোট তৃণমূলের ভোট কাটলে যে বিজেপির পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। কংগ্রেস দেশভাগের সময় বাংলাকে বলির পাঠা বানিয়েছিলো। তাই বাংলা কোনোদিনও কংগ্রেসের হওয়ার নয়। সিপিএম-এর হয়েছিলো। (সর্বক্ষেত্রে বাঙ্গালিত্ব বাদ দিয়ে সোভিয়েত আদল দিতে গিয়ে ক্ষুদ্র একটি ঘটনায় চিরতরে ক্ষমতা থেকে হারিয়ে গেলো গ�াসনস্ত- পেরেস্ত্রোইকার পরেও যদি একটু নড়ে-চড়ে বসতো তাহলে আজ এই দশা হতো না।) প্রশ্ন হলো বিজেপির কেন হবে? তার উত্তর খুঁজতে সেই ৪৭ এ ফেরৎযেতে হবে। দেশ-ভাগের দায় গোটা ভারতীয় উপমহাদেশকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তৎনেতারা কী তা ভেবেছিলেন? ‘মাওবাদীরাও কম দায়ী নন। কংগ্রেস-সিপিএম-এর বিরোধীতা করতে গিয়ে বিজেপির উদ্ভব ঘটিয়ে দিলেন। আমাদের বামদের ধারাও তাই। এখন আছেন ‘কওমী মাতা’ নিয়ে ট্রল করে নিজদের দায় এড়ানো। আবার উল্টা পশ্চিম বঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায়ণ কামনা করেন। আসাম-ত্রিপুরার সময়ও তাদের লেজ বের হয়ে এসেছিলো। কেউ কেউ আছেন ‘সা¤প্রদায়িক-কমিউনিস্ট’। বাম কিন্তু ভিনধর্মীদের বিষাদাগারে সামিল হন, কিন্তু নিজ ধর্ম এলে মুখে কুলুপ এটে থাকেন। কেউ কেউ ভাবছেন বিজেপি এলে বাংলাদেশের সনাতনীরা ভালো থাকবেন। কেউ আছেন বিজেপির সমালোচনা করলে ভাবেন ভারত বিদ্বেষী। কেউ কেউ ভারতে বিজেপি নিয়ে উদ্বিগ্ন কিন্তু বাংলাদশের সা¤প্রদায়িকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। কেউ কেউ বিজেপির সা¤প্রদায়িকতার নীতিতে বিশ^াসী কিন্তু আবার আমাদের মোল্লাদের ব্যাপারে সোচ্চার। কে জানি বলছিলো রঙ্গে ভরা বঙ্গ দেশ। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]