• প্রচ্ছদ » » রাজনৈতিক সমালোচনা, প্রতিবাদ, আন্দোলন করে কী অর্জন হতে পারে?


রাজনৈতিক সমালোচনা, প্রতিবাদ, আন্দোলন করে কী অর্জন হতে পারে?

আমাদের নতুন সময় : 03/03/2021

খান আসাদ : বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন অপ্রাসঙ্গিক, কোনো প্রয়োজন নেই। সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র, সরকার, প্রতিটি আলাদা বাস্তবতা ও ধারণা। মানুষ সামাজিক জীব। বলা হয়, মানুষ ‘সামাজিক সম্পর্কের যোগফল’। সমাজ না থাকলে মানুষ প্রাণিটি থাকবে না। সমাজ মৌলিক, সিস্টেম ও প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তবতা। কিন্তু দেশ, রাষ্ট্র, সরকার বদলায়। দেশ ও জাতিরাষ্ট্র (নেশন স্টেট) আজকের যুগে সমার্থক। একসময় নগররাষ্ট্র ছিলো। তারপর রাজার রাজ্য ও উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র। জাতিরাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে উপনিবেশ থেকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার মাধ্যমে। ইউরোপে এই জাতিরাষ্ট্রসমূহ মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠন করেছে। বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র। জাতিরাষ্ট্র ধারণাও তাই পরিবর্তনশীল।
যখন শুধু ‘রাষ্ট্র’ বা ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’ সম্পর্কে বলা হয়, সেটা জাতিরাষ্ট্র বা দেশ নিয়ে বলা হয় না। বলা হয়, সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্র নিয়ে। আর ‘সরকার’ মানেই রাষ্ট্র নয়। সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ফলে, আমলাতন্ত্রের (রাষ্ট্রযন্ত্রের) সমালোচনা বা সরকারের সমালোচনা কোনো অর্থেই দেশ বা জাতিরাষ্ট্র হিসেবে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিকরাষ্ট্র ভারতীয় পেনাল কোডের, সেকশন ১২৪এ, রাষ্ট্রদ্রোহ আইন করে। আইনটি কিন্তু প্রাসঙ্গিক ছিলো, উপনিবেশিক শাসন (ব্রিটিশ রাষ্ট্র) রক্ষার জন্য। কারণ এ উপমহাদেশের লোকেরা স্বাধীনতা চেয়েছিলো। একই কথা পাকিস্থানি উপনিবেশিক রাষ্ট্র নিয়েও বলা যায়। কিন্তু ১৯৭১ এর পরে, বাংলাদেশে জাতিরাষ্ট্র অর্জনের পরে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র আবার স্বাধীন করা যায় না।
রাজনৈতিক সমালোচনা, প্রতিবাদ, আন্দোলন করে কী অর্জন হতে পারে? সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্রের লিবারাল সংস্কার হতে পারে। সরকার বদল হতে পারে। দারিদ্র্য ও বৈষম্য বজায় রেখে ‘উন্নয়ন’ হতে পারে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা কমানো যেতে পারে। ইসলামিস্টরা সরকার গঠন করে শরিয়া আইন করতে পারে। বিপরীতে সমাজতন্ত্রী সাম্যবাদীরা ক্ষমতায় এসে, সুষমবণ্টন, শ্রেণিবৈষম্যহীন, নারী-পুরুষ সমতা, বিজ্ঞানচেতনা ভিত্তিক একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ নির্মাণে ভ‚মিকা রাখতে পারে। তবে, যা কিছুই অর্জন করার চেষ্টা হোক না কেন, সেটা কিন্তু রাজনৈতিক দাবি হিসেবে জনগণের সামনে আসতে হবে। বায়বীয় ‘আগুন জ্বালো’ আওয়াজ দিয়ে হবে না। বাংলাদেশকে আবার নতুন করে স্বাধীন করার সুযোগ নেই। ফলে স্বাধীন একটি দেশে উপনিবেশিক রাষ্ট্রদ্রোহের আইন থাকাটাই হাস্যকর। কারণ বাই ডিফল্ট কেউ রাষ্ট্রদ্রোহী হতেই পারে না। নাগরিকেরা কেবল আমলাতন্ত্র ও সরকার বিরোধী হতে পারে মাত্র, দেশবিরোধী নয়। ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনই কেবল নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের আইনও বাতিল করা এখনই প্রয়োজন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]