• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছে টিগ্রের পরিস্থিতি শান্তিতে নোবেল পেয়েও গৃহযুদ্ধ থামাতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে


ক্রমেই ঘোলাটে হচ্ছে টিগ্রের পরিস্থিতি শান্তিতে নোবেল পেয়েও গৃহযুদ্ধ থামাতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

সুমাইয়া ঐশী: ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও টিগ্রে। আন্দোলনের জোয়ারে ভাসা তিনটি ভূখন্ড। একসময় এই তিন ভূখন্ড একটিই নাম ‘ইথিওপিয়া’ হিসেবে পরিচিত ছিলো। পরে ইথিওপিয়া থেকে আলাদা হয়ে যায় ইরিত্রিয়া। টিগ্রে এখনও ইথিওপিয়ার আওতাভুক্ত রাজ্য হলেও গৃহযুদ্ধে উত্তাল এর আবহাওয়া।
শুরুটা হয়েছিলো মূলত ১৯৯১ সাল থেকে। ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়ার শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক উত্তাল হতে থাকে। এর পরিণাম, ১৯৯৩ সালে এক গণ ভোটের মাধ্যমে ইথিওপিয়া থেকে ইরিত্রিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। অথচ এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঐক্য একসময় ছিলো চোখে পড়ার মতো। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিয়ে হতো, সকালের খাবার ইথিওপিয়ায় আর দুপুরের আহার ইরিত্রিয়ায় করতে অভ্যস্ত ছিলো ঐ এলাকার মানুষ। তাহলে কেনো এই দুই অঞ্চলের মধ্যে এতো অসন্তোষ! মূলত দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য থাকলেও চাপা ক্ষোভের কমতি ছিলো না। ইরিত্রিয়ার অভিযোগ ছিলো, ইথিওপীয় সরকার তাদের ওপর অবিচার করে, নিপীড়ন করে। এর পরই স্বাধীনতার স্বাদ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ইরিত্রিয়া। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া আলাদা হয়ে গেলেও অশান্তির অবসান হয়নি। এই অশান্তির রেশ চলে যায় যুদ্ধ পর্যন্ত। ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আফ্রিকার এই দুই দরিদ্র দেশ। দুই বছরের এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এরপর অবশ্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেন আবি আহমেদ। তার উদারপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের জেরে ফের একদফা শান্তিচুক্তি হয় ইরিত্রিয়ার সঙ্গে। এজন্য আবি আহমেদ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান। তবে অশান্তির শেষ হয়নি এখনোও। ইথিওপিয়া-ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল টিগ্রে নিয়ে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে প্রাণভয়ে সুদানের দিকে পালাচ্ছে মানুষ, পথে-ঘাটে পড়ে আছে মরদেহ। সেই সঙ্গে চলছে গণহত্যা, ধর্ষণ ও চরম নির্যাতন। এই দ্ব›েদ্বর প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ টিগ্রের এই ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে। এই নিপীড়নে ইরিত্রিয়ান সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কথা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচলেট। এর আগে ঐ অঞ্চলে তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে বিবৃতি দেন ব্যাচলেট। এখন কেন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার। টিগ্রে হলো ইথিওপিয়ার ১০ টি আধা স্বায়ত্তশাসিত ফেডারেল সরকারের আওতাধীন রাজ্য। এই অঞ্চলের অশান্তির কারণ মূলত ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং টাইগ্রের আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে চলমান দ্ব›দ্ব। এই রাজ্যে টিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) বামপন্থী দলটি ঐ রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল। ২০১৮ সালে শান্তিচুক্তির পর আবি ক্ষমতাসীন দলটি ভেঙে দেন। যেখানে টিপিএলএফ ছিলো বিশেষ ক্ষমতাশীল একটি দল। এরপর আবি একাধিক নৃতাত্বিক গোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি দল গঠন করেন। তবে সেখানে টিপিএলএফ যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন থেকেই শুরু হয় অসন্তোষ। সম্পাদনা: আসিফুজ্জামান পৃথিল




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]