• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » চীনের শাসন আর মানতে চায় না হংকংবাসীরা, স্বাধীনতা গণতন্ত্র অথবা ব্রিটেনে ফেরতের দাবিতে চলছে আন্দোলন


চীনের শাসন আর মানতে চায় না হংকংবাসীরা, স্বাধীনতা গণতন্ত্র অথবা ব্রিটেনে ফেরতের দাবিতে চলছে আন্দোলন

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

মাহামুদুল পরশ: শুধুমাত্র আফিমের জন্য ১৮৪১ সালে ব্রিটিশরা মাত্র ১ হাজার ১০২ বর্গকিলোমিটারের হংকংয়ে দখল প্রতিষ্ঠা করে। এরপর দিনে দিনে শাসনের ধরণ বদলে যখন বিশ্বজুড়ে গনতন্ত্রের হাওয়া বইতে লাগলো, পালাবদলে ১৮৯৮ সালে চীনের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য হংকংকে একপ্রকার ভাড়া নেয় ব্রিটিশরা। হংকংয়ের নাগরিকরা ব্রিটিশ শাসন আমলে গণতন্ত্রের সামান্য স্বাদ পেলেও চীনে তখন সমাজতন্ত্রের চর্চা হচ্ছিলো।
১৯৮৯ সালে ২৩ আগস্ট প্রথম নিজেদের অধিকার আদায়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে হংকংবাসী। প্রায় ২০ লাখ বিক্ষোভকারী এস্তোনিয়া,লাটভিয়া,লিথুয়ানিয়া জুড়ে ৩৭০ মাইল লম্বা একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন তৈরি করেছিলো তারা। পৃথিবীর ইতিহাসের দ্বিতীয় দীর্ঘতম মানববন্ধন তৈরির কারিগরদের ‘বল্টিক ওয়ে’ নাম দেয়া হয়েছিলো।
১৯৯৭ সালে ব্রিটিশরা ইজারার নামে ভাড়া নেওয়া সেই ৯৯ বছর শেষে চুক্তিমোতাবেক চীনের কাছে হংকং এর শাসন হস্তান্তর করে। চীনের কাছে হস্তান্তর করার পরÑ সেখানে এক দেশ দুই নীতি ব্যবস্থা চালু করে চীন। একইসঙ্গে চীন হংকংকে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থাসহ আধা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।
২০১৪ সালের আম্ব্রেলা মুভমেন্ট চীনা শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করেছিলো হংকং বাসীদের মাঝে।
তবে সমাজতন্ত্র বিরোধী হংকং এর নাগরিকদের কাছে প্রত্যার্পন আইনটি স্ফুলিঙ্গে দমকা হাওয়ার মত কাজ করেছিলো যা সেই স্ফুলিঙ্গকে দাবানলে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন প্রস্তাবের পর উত্তাল হয়ে ওঠে হংকং। এই আইন অনুযায়ী চীন চাইলে সন্দেহভাজন কোন অপরাধীকে হংকং থেকে নিজ ভূখন্ডে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবে। প্রস্তাবিত এ আইনের প্রতিবাদে হংকংয়ের পথে নেমে আসে হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইনটি ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আন্দোলন অব্যাহত রাখার দরুণ এবং প্রশাসনের গাছাড়া মনোভাবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এমনকি ২০১৯-এর ২৪ আগষ্ট বেইজিং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বল্টিক ওয়ে’র প্রতিকী হিসেবে ৩০ মাইল জুড়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন তৈরি করে হংকংয়ের সাধারণ জনতা। এতে হংকংয়ের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিলো।
আন্দোলনে পুলিশের আগ্রাসী আচরণ আন্দোলনকারীদের আরও উস্কে দিচ্ছিলো। টিয়ারগ্যাস ও জলকামানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা ইট-পাটকেল ও পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে।
এক পর্যায়ে প্রস্তাবিত অপরাধী প্রত্যর্পণ আইনটি স্থগিত করা হলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখে জনতা। নতুন করে কয়েকদফা দাবি তুলে হংকংয়ের আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তারা।
আন্দোলনকারীদের নতুন দাবিগুলো হচ্ছে, প্রত্যর্পণ বিল পুরোপুরি প্রত্যাহার করা, আন্দোলনে আটক সকলকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনে মুক্ত করা, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের নৃশংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী নির্বাচন করা। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]