• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » পাকিস্তানে বর্তমান সরকারের অধীনে নিরাপদ বোধ করছে না বিরোধী দল, তারা ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি করছে


পাকিস্তানে বর্তমান সরকারের অধীনে নিরাপদ বোধ করছে না বিরোধী দল, তারা ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি করছে

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

ইমরুল শাহেদ: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আজ শনিবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তার দল তেহরিক-এ-ইনসাফ বা পিটিআই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। এসেই প্রতিদ্ব›দ্বীদের খতম করার জন্য একের পর পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। অর্থপাচার, লুটপাট, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে প্রতিদ্ব›দ্বীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, বিচারের মুখোমুখি করে কারাগারে পাঠানোর কাজ শুরু করে। এছাড়া, স্বাধীনতাকামী বেলুচিস্তানে অব্যাহত সংঘাত, কাশ্মীর নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে মতান্তর, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে সাবেক ট্রাম্প সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ, সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতার দায়ে ধূসর-তালিকায় পাকিস্তানের নাম নথিভুক্ত হওয়া নিয়ে সরকার বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। অর্থপাচারের অভিযোগে নওয়াজ শরীফ, মরিয়ম নেওয়াজ ও তার স্বামীকে জেলে পাঠানো, পিপিপি কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারিকে দুর্নীতিতে ফাঁসানোকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে একটা রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হয়। যখন বিরোধী দলগুলো দেখলো ইমরান সরকারের কাছে কেউই নিরাপদ নয়, তখনই সেখানে সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয় ইমরান সরকার। এখন বিরোধী দলের বিভিন্ন দাবি এক দাবিতে পরিণত হয়েছে। আর সেটা হলো ইমরান সরকারের পদত্যাগ।
প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের এই গভীর রাজনৈতিক সংকটে জনগণ কি তার প্রতি আস্থাশীল আছেন? গত বুধবার সিনেট নির্বাচনে ইমরান খানের সরকার একটা বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। ইসলামাবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তার সরকারের অর্থমন্ত্রী আবদুল হাফিজ শেখ মাত্র পাঁচ ভোটে হেরে গেছেন পিপিপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির কাছে। তাতে ইমরান খান চরমভাবে মর্মাহত হয়েছেন। বুধবার ছয় বছর মেয়াদী পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ৯৬ আসন বিশিষ্ট সিনেটের ৪৮ আসনে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে অর্ধেক আসনে প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচন হয়। তাদেরকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা নির্বাচিত করেন। কিন্তু ইসলামাবাদের আসনটিতে পরাজিত হলেও অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ইমরান খানের পিটিআই নির্বাচনে বড় অর্জন করেছে। এর আগে সিনেটে তাদের আসন ছিলো ১৪। কিন্তু সেই সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়াচ্ছে ২৬। তবে বিরোধী দল অল্প ব্যবধানে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতেও পারে। পিপিপি ২০টি আসন এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ ১৮টি আসন পেয়েছে। মিত্রদের নিয়ে এই দুটি দল মোট ৫৩ আসন পেতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে তারা পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাবে।
অনলাইন আল জাজিরা বলছে, ফল ঘোষণার পর পিটিআইয়ের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি রাজধানী ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে, বিরোধীরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আইনপ্রণেতাদের ভোট নিয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে ইমরান খান ও তার দল সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন। তখন পরিষ্কার হবে যে, কে কোন পক্ষে রয়েছেন। দেখা যাবে কারা ইমরান খানের পক্ষে আছেন। আর কারা ইমরান খানের বিপক্ষে গিয়ে বিরোধীদের ভোট দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, তার দলের পার্লামেন্ট সদস্য যদি তাকে অযোগ্য মনে করেন তাহলে তিনি বিরোধী দলের আসনে বসতে সম্মত আছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি প্রধান মন্ত্রীত্ব হারালেও জনগণের অর্থ জনগণকে ফেরত না দিলে আমি কাউকে ছাড় দেবো না।’ বর্তমানে তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নিয়ন্ত্রণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার দল এবং মিত্রদের কেউ কেউ গোপন ব্যালটে ভোট দিতে গিয়ে পক্ষ ত্যাগ করতে পারে। তিনি চান সিনেট নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]