• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » বন্দুকের নল নয়, মিয়ানমারে ক্ষমতার উৎস এখন দেশটির গণতন্ত্রকামী জনগণ, সেনাভয় কেটে গেছে


বন্দুকের নল নয়, মিয়ানমারে ক্ষমতার উৎস এখন দেশটির গণতন্ত্রকামী জনগণ, সেনাভয় কেটে গেছে

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

আসিফুজ্জামান পৃথিল: মিয়ানমারে সামরিক শাসনের ইতিহাস নতুন নয়। দেশটির অধিকাংশ নাগরিকই ২০১৫ সালের আগে জানতেনই না, গণতন্ত্র জিনিসটি আসলে কেমন কিংবা কিভাবে ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করতে হয়। সেই মিয়ানমারের নাগরিকরা এক মাস ধরে রাস্তায়। দাবি একটাই, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার অধিকার রাখে না সামরিক বাহিনী। এই দাবিতে বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছেন অন্তত ৫৮ জন।
কয়েক বছর আগে সেনাবাহিনী যখন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিলো, এই মানুষগুলো চুপ ছিলো। লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়েছেন, চোখের জলে নোনা করে ফেলেছেন নাফ নদী। কেউ কথা বলেনি, নুন্যতম প্রতিবাদ করেনি। কারণ তারা তো বার্মিজ নয়। যে দেশটার মানুষ সংখ্যালঘুদের পায়ে ঠেলে দিয়েছিলো, তারা এখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলছে। কারণ সরাসরি স্বার্থে আঘাত লেগেছে তাদের। করের পয়সায় কেনা অস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের প্রতিবাদে উত্তাল ইয়াঙ্গুন-মান্দালয়। অথচ এই করের পয়সায় রোহিঙ্গাদেরও ভাগ ছিলো। সেই অস্ত্রেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শহুরে শিক্ষিতরা সেদিন কথা বলেননি।
তবে শহুরে তরুণদের অনেকেই ভুল বুঝতে পারছেন। তারা প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। কারণ তারাও আজ জানেন সেনাবাহিনী কতোটা ভয়ঙ্কর ফ্রাঙ্কেস্টাইন। বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ব্যানারে দেখা যাচ্ছে মার্টিন নিম্যোলারের লেখা কবিতার লাইন,
‘শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,
আমার পক্ষে কেউ কোনো কথা বললো না, কারণ, কথা বলার মতো তখন আর কেউ বেঁচে ছিলো না।’ রোহিঙ্গাদের জন্য এই কথাটি সত্য। বার্মিজরা তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। তারা নিজেরাই এখন বলছে, মিয়ানমারে শান্তিরক্ষী পাঠাতে হবে। তারা বলছে, রোহিঙ্গাদের জন্য সেফজোন করলে তাদের আপত্তি নেই। একটি অভ্যুত্থান দেশটিকে চিরতরে হয়তো বদলে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়ে যা পারেনি, একটি অভ্যুত্থানেই সেই স্ফুলিঙ্গকে দাবানল বানিয়ে ছেড়েছে সেনাবাহিনী।
বার্মিজ সেনাবাহিনীর জন্মদাতার নাম জেনারেল অং সান। তার কন্যা সুচি দীর্ঘদিন বন্দী ছিলেন। পরনে লুঙ্গি আর নিজস্ব ঐতিহ্যের বøাউজ, হালকা মেকআপ, মৃদু হাসি, দৃঢ় গ্রীবা আর মোহনীয় দেশীয় রঙিন ফুল। অং সান সুচি ছিলেন, মিয়ানমারের পোস্টার গার্ল। তিনি শুধু বন্দী ছিলেন নিজ বাড়িতে, বন্দী অবস্থায় কখনও কখনও বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি কখনও রাস্তায় নামেননি, টিয়ার গ্যাস তার চোখে জ্বালা ধরায়নি, শরীরে ক্ষত তৈরি করেনি ছররা রাবার বুলেট, কখনও সুচি গুলি খাননি। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ায় তিনিই ছিলেন গণতন্ত্রের কন্যা। রাস্তায় গুলি খাওয়া মানুষগুলোর ফটোজেনিক মূল্য বেশ কম। সেই সুচি ক্ষমতায় এসেছিলেন সেনাবাহিনীর কোলে চড়ে। কিন্তু দেশের মানুষ তাকে ত্যাগ করেনি। সেই তিনিই আবার নিজ দেশের জনগণের উপর হওয়া গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদেরকেই নোংরা কীট বলে সম্বোধন করতে তার বাধেনি। সেই সুচির জন্য আবারও প্রাণ দিচ্ছেন। দেশটির হিরো তো এই জনতাই। এই আন্দোলন সুচির জন্য, যাতে তার নিজের খুব বেশি ভুমিকা নেই, বেডরুমে আটকে থাকা ছাড়া। এই মিয়ানমারের সকল ক্ষমতার উৎস তো রাজপথই। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]