• প্রচ্ছদ » » সমাজ ও মানুষকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারে কজন?


সমাজ ও মানুষকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারে কজন?

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

উপমা দাশ : যতোক্ষণ না নারী-পুরুষ বৈষম্য, নারীর প্রতি হওয়া অন্যায় চোখে না পরে ততোক্ষণ পর্যন্ত নারীবাদ বা পুরুষতন্ত্র এই সমস্ত টার্ম অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে #সাধু, #কাঠমোল্লা, #নাস্তিক সবাই সমানতালে এতোটাই প্রখর নারীবিদ্বষী যে এই সমস্ত টার্মই বারবার ওঠে আসে। আপনাদের এই নারীবিদ্বষী মনোভাবের অহরহ উদাহরণ সচরাচরই চোখে পরে। আপনাদের এসব নারীবিদ্বেষী বৈশিষ্ট্য নিজেরাই আচরণ, পোস্ট এবং আপনাদের মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ইগনোর করতে গিয়েও পারি না। কাঠমোল্লাদের কথা না হয় বাদ দিলাম আজকে। কিন্তু আপনারা যারা প্রতিদিন ফেসবুকে এসে নারীবাদ, নারীমুক্তি ইত্যাদির বড় বড় আলাপ দেন তারা কিন্তু কাঠমোল্লাদের চেয়ে কোনো অংশে কম যান না। আপনাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে পুরুষতন্ত্রের শিক্ষা বর্তমান তা যতো বড় ফেবু সেলেব তথাকথিত মুক্তমনা হয়ে যান না কেন সে শিক্ষা কোনো এক সময় আপনাদের মুক্তমনা চরিত্রকেও ছাপিয়ে যায়। (ঊীপবঢ়ঃরড়হহবষ রং ধষধিুং ঃযবৎব)। দুঃখের কথা নারী সংক্রান্ত কে নো ঘটনা আসলেই নিজের সেই জিনগত বৈশিষ্ট্যেকে আপনারা আর লুকিয়ে রাখতে পারেন না। দিনশেষে আপনারা সবাই আপনাদের ঐতিহ্যে ফিরে আসেন। এমন একটি ঘটনার উদাহরণ হলো: #সুপ্রভাতথসুইট আপু আর #রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক। তাদের বিচ্ছেদের পর রবিউল সুইট আপুর বিরুদ্ধে ক্রমাগত নোংরা অভিযোগ গেয়ে যাচ্ছে। এমনকি উনার ছবি নোংরাভাবে এডিট করে সে উনাকে পতিতা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। মুক্তমনা কমিউনিটিতে সম্পর্কের অবসান হলে এরকম প্রকাশ্যে একটা নারীর দিকে যখন জঘন্য ভাবে কাঁদা ছুঁড়ে দেয়া হয় এবং মৌনতা অবলম্বন করে বাকিরা দেখতে থাকেন, পারলে সেখানে বলতে থাকেন মেয়েটাই নষ্ট ছিলো, তাহলে আপনাদের সঙ্গে কাঠমোল্লাদের আর পার্থক্য কোথায় থাকলো? প্রেমের সম্পর্ক অবসানের পর কেবল মেয়েটির অন্তরঙ্গ বিষয়গুলোই হয়ে ওঠে পুরুষের হাতিয়ার। প্রেম করলো দুজন আর ইচ্ছাকৃত পতিতা সাজানো হলো মেয়েকে এবং বিভিন্ন মন্তব্যে অথবা মৌন থেকে তাতে সাপোর্ট দিলো তথাকথিত নারীবাদী, মুক্তমনাদের দল। অথচ মুক্তমনারা ভালো করেই জানেন, বুঝেন বাংলাদেশের সমাজে মেয়েরা কতো নাজুক অবস্থানে আছে। তারপরও কাঁদা ছোড়াছুড়ি থামে না, এবং সেটাকে দ্বায়িত্ব নিয়ে থামানোর এতোটুকু চেষ্টাও বোধহয় কেউ করেন না। এমনকি মানসিক সাপোর্ট দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় না। এখানেও সবার কেবল নেম ফেম কাম্য। তার চেয়ে হয়তো বেশি কাজ করে ফেসবুক এডিকশন। সমাজ ও মানুষকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারে কজন? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]