হুথিদের ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে ইয়েমেনি আন্দোলন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে

আমাদের নতুন সময় : 06/03/2021

রাশিদ রিয়াজ : এক মাসের মধ্যে যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিন সালমান, এখন হুথি যোদ্ধারা আরামকো তেল শোধানাগারে ব্যালেস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলা করছে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরব ও এর মিত্র দেশগুলো ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করে। সৌদি সমর্থিত সরকার বসাতে এ যুদ্ধ শুরু হলেও ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ নিজেদের সরকার বসাতে লড়াই করছে। ইয়েমেনে গণঅভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে দেশটির শাসক মনসুর হাদি পালিয়ে সৌদি আরব চলে যান। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী হুথি যোদ্ধাদের সহায়তা করছে। কিন্তু সৌদি সহায়তায় ইয়েমেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এ যুদ্ধে দেশটির এডেন বন্দর অবরোধের ফলে দুর্ভিক্ষাবস্থা চলছে। জাতিসংঘের হিসাবে ২ কোটি ৪০ লাখ ইয়েমেনি ত্রাণের ওপর বেঁচে আছে। এক কোটি মানুষ ইয়েমেনে ক্ষুধার্ত। বিশে^র সবচেয়ে খারাপ মানবেতর পরিস্থিতি বা সংকট বজায় রয়েছে ইয়েমেনে। কিন্তু হুথি যোদ্ধারা নাছোড় বান্দা। সর্বশেষ বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল হুথিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের মুখপাত্র মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি, যোগাযোগ যা হয়েছে তা ওমানের মধ্যস্থতায় হয়েছে। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি এ কথা বলেন। ইয়েমেন সরকারের যেকোনো আলোচনায় নেতৃত্ব দেন আব্দুস সালাম। তিনি আরও বলেন, মাস্কাটে ওমানি ভাইদের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ হয়েছে, সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ইয়েমেনে আগ্রাসীদের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেন সংকটের সমাধান চাইলে প্রথমে সৌদি জোটের হামলা ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক দপ্তরের সদস্য মোহাম্মাদ আলবাখিতি বলেছেন, আমরা ওমানের ভাইদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে আগ্রাসন বন্ধ না হলে সৌদি আরবে ইয়েমেনি হামলা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া দেশটির বিরুদ্ধে জল, স্থল ও আকাশ পথে অবরোধ আরোপ করে রাখা হয়েছে। এদিকে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারিয়ি জানিয়েছেন, হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা এবং তাদের সমর্থিত সামরিক বাহিনী আরামকো তেল স্থাপনার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, কুদস-২ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ওই হামলা চালানো হয় এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। জেনারেল সারিয়ি আরও জানান, ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের কিং খালেদ বিমানঘাঁটিতে ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালিয়েছে। এ হামলাও নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে, ইয়েমেনের ন্যাশনাল সালভেশন সরকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলো, মধ্যাঞ্চলীয় মা’রিব প্রদেশের তেলক্ষেত্রে হামলা চালালে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল স্থাপনা আরামকোর ওপর হামলা চালানো হবে। স¤প্রতি সৌদি ভাড়াটে গেরিলাদের হাত থেকে মারিব প্রদেশ মুক্ত করেছে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন সমর্থিত সেনাবাহিনী। লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেল গত মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইয়েমেনের সরকার কয়েকটি ক‚টনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সৌদি সরকারকে এই সতর্কবার্তা দেয়। ইয়েমেনের সরকার বলেছে, মা’রিব প্রদেশের ওই তেলক্ষেত্র তাদের জন্য রেড লাইন। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]