• প্রচ্ছদ » » কিশোর আহমেদ কবির জামিন লাভ করে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য


কিশোর আহমেদ কবির জামিন লাভ করে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য

আমাদের নতুন সময় : 07/03/2021

আলী রীয়াজ : গত বছর মে মাস থেকে আটক কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর জামিনে মুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিশোরকে গত বছরের মে মাসের ২ তারিখ তার বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে যায়। তাদের সংখ্যা ছিলো ১৬-১৭ জন। তারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নির্যাতন চালিয়েছে, এতোটাই আঘাত করা হয়েছে যে তাতে তার কান থেকে পুঁজ বেরুচ্ছে, তিনি হাঁটতে পারছেন না; তাকে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে এই ব্যক্তিদের কাছে কিশোর সম্পর্কে অনেক তথ্য ছিলো। এই ব্যক্তিরা তুলে নেওয়ার ৬৯ ঘণ্টা পরে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপরে দশ মাস কিশোর সরকারের ‘হেফাজতে’ ছিলেন কারাগারে। এসব ঘটনা প্রবাহ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যেগুলো তোলা জরুরি এবং সেগুলোর উত্তর খোঁজা দরকার। প্রথম বিষয় হচ্ছে এই ৬৯ ঘণ্টা কিশোর কাদের হাতে ছিলো এবং কীভাবে তিনি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন? কিশোরই প্রথম ব্যক্তি নন যাকে সাদা পোশাকধারীরা নিয়ে যাওয়ার পরে পুলিশ বা র‌্যাবের কাছে পাওয়া গেছে।
২০২০ সালের শেষের দিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হিসেবে দিয়েছিলো যে ১৩ বছরে ৬০৪ জন মানুষ গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৮৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন কোনো না কোনোভাবে ফিরে এসেছেন। এই ৮৯ জনের মতোই দুর্ভাগ্য কিশোরের। কিশোর জামিন পাবার পরে আমরা এখন বিস্তারিত জানতে পারছি। আমরা অনুমান করি পুলিশ এবং আদালত জানেন যে ৬৯ ঘণ্টার হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না, সেটা তারা জানেন দশ মাস আগেই। সরকার দাবি করছে যে, তাকে আটক করা হয়েছে ৫ মে। এই ৬৯ ঘণ্টার বিষয়ে জানেন না, তাহলে গত ১০ মাস সরকার কেন এই বিষয়ে তদন্ত করলো না? দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে কিশোর আঘাত পেয়েছেন দশ মাসে আগে, তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলেন এই দশ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন, তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। আর যদি সরকার বলতে চান যে, দশ মাস আগে কিশোরকে কেউ তুলে নিয়ে যায়নি, র‌্যাবই আটক করেছে তাহলে কী এই দাঁড়ায় না যে কিশোর তাদের হেফাজতে থাকার সময়, কিংবা কারাগারে নির্যাতিত হয়েছেন? সেই তদন্ত কে করবে?
কে এর দায়িত্ব নেবে? বাংলাদেশে গুমের অবস্থা থেকে যারা ফেরেন তারা কথা বলেন না; যারা ফিরে এসেছেন তারা যে ভয়েই কথা বলেন না তা আমরা অনুমান করতে পারি। কোনোদিন রাষ্ট্র উদ্যোগী হয়ে এই বিষয়ে জানতে চেয়েছে এমন মনে পড়ে না। ফিরে আসা মানুষেরা কাদের ভয় করেন? মুক্ত অবস্থায়ও তাদের এই ভয় প্রমাণ করে এমন শক্তি আছে যাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্রও অপারগ! পাশাপাশি এটাও প্রশ্ন উঠতে পারে যারা ‘নিখোঁজ’ বা ‘গুম’ হবার পরে ‘আটক’ হন তার ঠিক কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ হন? কিশোর জামিন লাভ করে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলোর রাজনৈতিক তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনাটি অন্য সময়ের জন্যে তুলে রাখলাম।
প্রাসঙ্গিকভাবে আরেকটি বিষয় বলি। ২০১১ সালে কমিশনের তৎকালীন প্রধান ড. মিজানুর রহমান এই রকম প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন যে কমিশন এক বা একাধিক গুমের ঘটনাকে বেছে নিয়ে তদন্ত করবে। কিন্তু কী হয়েছে এখন এক দশক পরে তা আমরা জানি। ফলে এই আশা করার কারণ নেই যে কিশোরের এসব অভিযোগকে বিবেচনায় নিয়ে কমিশন এই প্রশ্নগুলো তুলবে। এখন এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে এমন আশা করি না, কিন্তু অন্তত রেকর্ড হিসেবে এই প্রশ্নগুলো এখানে থাকলো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]