• প্রচ্ছদ » » আমরা যদি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলোও মেনে চলতাম, তাহলেও হয়তো লকডাউনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না


আমরা যদি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলোও মেনে চলতাম, তাহলেও হয়তো লকডাউনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না

আমাদের নতুন সময় : 07/04/2021

প্রভাষ আমিন : নিজের ভালো নাকি পাগলেও বুঝে, কিন্তু আমরা মনে হয় পাগলের চেয়েও অবুঝ, নিজের ভালোটা বুঝি না। সাধারণ ছুটির সময় দেখেছি অনেকে পুরোনো প্রেসক্রিপশন পকেটে নিয়ে ঘুরতে বেরুতেন। পুলিশ ধরলে বলতেন ওষুধ কিনতে যাচ্ছি। গাড়িতে ‘কিডনি রোগী’ লিখে কাঁচাবাজার করতে গেছেন, এমনটা দেখেছি নিজেই। আমরা যদি সাধারণ স্বাস্থ্যবিধিগুলোও মেনে চলতাম, তাহলেও হয়তো লকডাউনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
গত ২৮ মার্চ সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল। সেই নির্দেশনার কিছুই আমরা মানিনি। বিশেষ করে গত শুক্রবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রের চিত্র আর বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ সমাবেশ দেখার পর আমার মনে হয়েছে আমরা আসলে লাঠির মানুষ, নরম কথায় আমাদের কাজ হবে না। করোনা নিয়ন্ত্রণের একদম প্রাথমিক ও কার্যকর অস্ত্র হলো মাস্ক ব্যবহার। কিন্তু গ্রামের মানুষ তো বটেই শহরের অনেকেও মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে উদাসীন। কেউ পকেটে রাখেন, কেউ থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন। একটা ছোট্ট মাস্ক দিয়ে যে করোনাকে ঠেকানো সম্ভব ছিল, এখন লকডাউনেও তা কঠিন হয়ে গেছে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, এটা আমরা সবাই জানি। সেনানিবাসে সেটা আমরা সবাই মানি। কিন্তু বাইরে বেরুলেই সবাই বনে যাই রাস্তার রাজা। তাই কার্যকর ফল পেতে লকডাউন কার্যকর করতে হবে সেনানিবাস স্টাইলে।
তবে লকডাউনের সময় আমরা যেন নি¤œ আয়ের প্রান্তিক মানুষদের ভুলে না যাই। সাধারণ ছুটির মতো এবারও সরকার, সরকারি দল, সামাজিক সংগঠন যেন সাধারণ মানুষের পাশে থাকে; সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যেন আমাদের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর পাশে থাকি। ড্রাইভার, সহকারী, গৃহকর্মীরা যেন কোনো বিপদে না পড়েন। আমরা সবাই যদি চারপাশে একটু মানবিক দৃষ্টি নিয়ে তাকাই, তাহলে সরকারের দায়িত্ব অনেক কমে যাবে। প্রিয় পাঠক, এই লকডাউন কার্যকর হবে কিনা, করোনার সংক্রমণের ঢেউ নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা; সেটা নির্ভর করবে আপনার ওপর; ঠিক পড়েছেন- আপনারই ওপর। লকডাউনকে শাস্তি মনে করবেন না, সরকারকে প্রতিপক্ষ মনে করবেন না। করোনার এবারের ভয়াবহতা কিন্তু গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। এবার করোনা হুট করেই মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। হাসপাতালের আইসিইউ থেকে আপনার বাসা অনেক নিরাপদ। বাসায় থাকুন। পরিবারকে সময় দিন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন। ভুলেও বাসা থেকে বেরুবেন না। বাসা থেকে বেরুনো মানে কিন্তু আইসিউইর দিকে এক পা এগিয়ে যাওয়া। তার চেয়ে ভয়ঙ্কর কথা হলো, ঢাকায় এখন একটি আইসিইউর সিট পাওয়া আর আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া কিন্তু সমান কথা। তাই নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হলো ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। নিজেদের খামখেয়ালিতে আমরাই এই লকডাউনকে ডেকে এনেছি। এখন যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি, যদি আবারও সরকারের সাথে চোর-পুলিশ খেলি; লকডাউন কিন্তু প্রলম্বিত হতে পারে, যা আমাদের জীবন ও জীবিকা দুটিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]