• প্রচ্ছদ » » রবিশঙ্করের পÐিত হয়ে ওঠার গল্প


রবিশঙ্করের পÐিত হয়ে ওঠার গল্প

আমাদের নতুন সময় : 07/04/2021

আফিফা ইয়াসমিন : ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়কার কথা। বাংলাদেশে তখন চলছিল ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। চারদিকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই, তাদের খাবার জন্য খাদ্য নেই। চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। অগণিত মানুষ শহীদ হতে লাগলো, আর কোটি কোটি মানুষ ভিটেছাড়া। ঠিক এই সময় বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ালেন পÐিত রবিশঙ্কর। জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে মিলে আয়োজন করলেন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ । ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যার্থে প্রথম চ্যারিটি কনসার্ট। বিশ্বে যত চ্যারিটি কনসার্ট হয়েছে তার মাঝে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর প্রভাব অনেক।
পÐিত রবিশঙ্কর ১৯২০ সালে ৭ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারসে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর আদিনিবাস ছিল বাংলাদেশের নড়াইল জেলায়। জীবিকার্জনের জন্য তাঁর বাবা শ্যামশংকর চৌধুরি নড়াইল থেকে বেনারসে চলে যান। তিনি ছিলেন ঝালওয়ারের মহারাজার একজন কর্মী।
প্রখ্যাত এই পÐিত সেতারবাদক হিসেবে বিশ্বজয় করলেও তাঁর শুরুটা ছিল একটু অন্যরকম। ১০ বছর বয়সে ১৮৩০ সালে তিনি তাঁর বড় ভাই প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকরের নাচের দলের সাথে প্যারিসে যান। এর ঠিক তিন বছর পর তিনি এই নৃত্য সংগঠনের সদস্য হন এবং নাচ শিখতে শুরু করেন। নৃত্যে পারদর্শীতার কারণে তিনি বড় ভাইয়ের সাথে ইউরোপ, আমেরিকা ভ্রমণ করেন। এরকমই একটা অনুষ্ঠানের জন্য তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করেন। এ সময় এই দলে ছিলেন মাইহার রাজদরবারের প্রধান সংগীতশিল্পী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান। তিনি রবিশঙ্করকে দেখেই বুঝতে পারলেন, ঠিকমতো তালিম পেলে ছেলেটা একদিন বিশ্বজয় করবে। তিনি রবিশঙ্করকে একজন একক সেতারবাদক হিসেবে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। এবং একটা শর্ত দিয়ে বসেন, শিক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই শিক্ষায় তাঁকে একনিষ্ঠ থাকতে হবে। এজন্য ইউরোপ ভ্রমণ শেষে নৃত্যদল ত্যাগ করে তালিম নিতে মাইহারে চলে যান রবিশঙ্কর।
১৯৩৮ সালে ১৮ বছরের এক যুবক মাইহারে আসেন অমর শিল্পী আচার্য আলাউদ্দিন খানের কাছে সেতারের দীক্ষা নিতে। আচার্য রবিশঙ্করের একনিষ্ঠতা আর ভক্তি দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণকালে তিনি আচার্যের পুত্র সরোদের অমর শিল্পী ওস্তাদ আলী আকবর খানের সহচার্যে আসেন। এরপর আর কখনো পিছনে তাকাতে হয়নি এই কালজয়ী পÐিতকে। ওস্তাদ আলী আকবর খানের সাথে পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে সেতার-সরোদের যুগলবন্দী বাজিয়েছিলেন। ১৯৩৮-৪৪ সাল পর্যন্ত গুরুর বাড়িতে থেকেই তিনি তার শিক্ষাগ্রহণ সম্পন্ন করেন। গুরুর দেয়া সেই শর্ত তিনি পালন করেন অক্ষরে অক্ষরে। রোয়ার বাংলা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]