• প্রচ্ছদ » » করোনা যেমন বড় সংকট, হেফাজতে ইসলামও আমাদের জন্য বড় একটি সংকট [২] হেফাজত সম্পর্কে সরকারের আর কোনো আপোসমূলক নীতি মানুষ দেখতে চায় না [৩]মামুনুল হক যখন ধর্মের লেবাস পরে আমাদের সামনে হাজির হন, তখন ধর্মকে বিকৃত করে ধর্মের প্রতি অসম্মান করা হয় [৪]আওয়ামী লীগের বিকল্প কিছু নেই আমাদের সামনে [৫]মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে অর্থনৈতিক অর্জন একদিন বিপন্ন হবে


করোনা যেমন বড় সংকট, হেফাজতে ইসলামও আমাদের জন্য বড় একটি সংকট [২] হেফাজত সম্পর্কে সরকারের আর কোনো আপোসমূলক নীতি মানুষ দেখতে চায় না [৩]মামুনুল হক যখন ধর্মের লেবাস পরে আমাদের সামনে হাজির হন, তখন ধর্মকে বিকৃত করে ধর্মের প্রতি অসম্মান করা হয় [৪]আওয়ামী লীগের বিকল্প কিছু নেই আমাদের সামনে [৫]মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে অর্থনৈতিক অর্জন একদিন বিপন্ন হবে

আমাদের নতুন সময় : 08/04/2021

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভূঁইয়া আশিক রহমান

[৫] হেফাজতে ইসলামীর বাড়বাড়ন্তের পেছনে সরকার প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কেন দায়ী? প্রথমত তারা সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম রেখেছে। রাষ্ট্রধর্ম রাখার অর্থই হচ্ছে, এদেশে ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেওয়া। হেফাজতের সঙ্গে নাকি সরকারের কৌশলগত সম্পর্ক ছিলো! এটা কীভাবে করে সরকার, আমি বুঝি না। কারণ ২০১০ সালে নারীনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে হেফাজতের জন্ম হলেছিলো। হেফাজত নারীবিদ্বেষী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের কী সম্পর্ক, আমি অতো বুঝি না রাজনীতি। তাদের দুধ-কলা দিয়ে সাপ পোষার মতো সরকারই পুষেছে।
[৬] আজকে হেফাজত কতোদূর গেছে? তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পর্যন্ত ভেঙে ফেলার সাহস দেখিয়েছে। তারা সরকারি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুরস¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দি খাঁর সংগীত প্রতিষ্ঠানটি আমরা এতো যতœ করে আগলে রেখেছিলাম, যার জন্য গর্ববোধ করতাম, সেটিও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায়। [৭] আমার দাবি, অনতিবিলম্বে সুরস¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দি খাঁর সংগীতপ্রতিষ্ঠানকে পুননির্মাণ করে সরূপে ফিরিয়ে নিতে হবে। আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যেভাবে রামুর বৌদ্ধমন্দির ফিরিয়ে দিয়েছিলো। হেফাজত সম্পর্কে সরকারের আর কোনো আপোসমূলক নীতি দেখতে চায় না এদেশের মানুষ। কেননা সংবিধানের ৭/১ ধারায় বলা হয়েছে, এই রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, সরকার নয়। জনগণ যা চাইবে, সরকারকে সেটিই করতে হবে।
[৮] হেফাজতের যে কেলেঙ্কারিগুলো ক্রমাগতভাবে ফাঁস হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। তার একটি বিশেষ কারণ আছে, সেটি আমি এখন ব্যাখ্যা করবো না। তবে আলামত আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। সরকার কিছু করতে পারবে না, সেই সাহস তাদের নেই। আমি মনে করি, বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকালে আছে। করোনা যেমন বড় সংকট, হেফাজতও বড় একটি সংকট আমাদের জন্য।
[৯] হেফাজতে ইসলামীর কোনো রাজনীতি নেই, আছে ধর্মান্ধতা। সাম্প্রদায়িকতা। এসবকে পুঁজি করে তারা যা কিছু করছে। আর মামুনুল হক সম্পূর্ণভাবে নীতিহীন, ভ্রষ্ট চরিত্রের একজন মানুষ। তিনি যখন ধর্মের লেবাস পরে আমাদের সামনে হাজির হন, তখন ধর্মকে বিকৃত করে ধর্মের প্রতি অসম্মান করা হয়।
[১০] মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হেফাজতের তাÐবের বিরুদ্ধের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কথাটা আমার কাছে খুব আপোসমূলক মনে হলো। যদিও বস্তুনিষ্ঠ, বাস্তবাদী কথা। কিন্তু কথা হচ্ছে, হেফাজত সরকারকে গদি থেকে নামানোর হুঙ্কারও দিয়েছে। ফলে তাদের সঙ্গে কোনো রকমের আপোসের সুযোগ নেই। তবে এটাও ঠিক তড়িৎ কোনো কিছু করাও ঠিক নয়। হেফাজত প্রশ্নে সরকার ভুল করেছে, এটা স্বীকার করুক। যেমনটি বঙ্গবন্ধু নিজেও ভুল হলে স্বীকার করতেন। সরকার বা আওয়ামী লীগের ভুলের মাসুল দিতে হচ্ছে জনগণকে। নেতাদের ভুলের কারণে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। নেতাদের সামলাতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের বিকল্প কিছু নেই আমাদের সামনে। বিকল্প যারা তারা ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের কথা অন্তত মুখে বলে, সেটি তাদের বাস্তবে রূপান্তর করা উচিত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি মুখে আর বুকে সমান। সেই প্রমাণটি করতে হবে তার সংগঠন আওয়ামী লীগকে। [১১] আজকে হেফাজত যা করছে, তার জন্য সরকারের ভ‚মিকা বা নীতিই দায়ী। তবে এটুকু পরিষ্কার হয়েছে, সরকার বোধহয় তার ভুল বুঝতে পারছে। তবে কতোটুকু বুঝতে পেরেছে তা সামনের দিনগুলো আমরা দেখতে চাই। হেফাজতের নীতি-আদর্শ যা, জামায়াতে ইসলামীর তা। জামায়াত-হেফাজতকে এক করেই আমাদের বিচার-বিবেচনা করতে হবে। সরকার করে কিনা তাদের বিষয়, তবে আমরা করি।
[১২] আমরা শুনেছি, বিএনপি জামায়াতকে কৌশলে দূরে রাখতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রাজনীতি সবসময়ই এমন হয়ে গেলো যে, এখন যেমন তখন তেমন। জামায়াতকে বিএনপির সঙ্গে রাখা রাজনৈতিকভাবে দায়-দায়িত্ব বেশি হয়ে যাওয়া। জামায়াত বিএনপির জন্য লায়েবিলিটি, কিন্তু এসেট হচ্ছে না। একসময় এসেট ছিলো, সেই এসেট বিএনপি ব্যবহার করেছে। কিন্তু রাজনীতি যদি এতো ঠুনকো হয়, রাজনীতির ওপর আমাদের আস্থা থাকে কী করে? বিএনপি তো হেফাজতকে পরিপূর্ণ সমর্থন করেছে। কারণ বিএনপির আদর্শিক দূরত্ব হেফাজত থেকে খুব একটা দূরে নয়। কেননা তারা হেফাজতের হরতালকে যুক্তিসংগত মনে করেছে। তার মানেই হচ্ছে বিএনপি হেফাজতের আদর্শিকভাবে কতো লগ্ন আছে।
[১৩] বিএনপি তো কোনো রাজনৈতিক অবস্থানে নেই। কারণ দলটির নেতৃত্ব নেই, সংগঠন নেই। দলটির নেতারা পত্রিকা আর টেলিভিশন আছেন, দেখা যায় বলেই মনে হয় বিএনপি নামে দেশে একটি রাজনৈতিক দল আছে। ফলে হেফাজতের উত্থানে বিএনপির ওপর প্রভাব পড়বে না। [১৪] কবি শামসুর রাহমানের কবিতার পঙক্তি ধার করে বলি,‘… উদ্ভট এক উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। বাংলাদেশে এখন নীতি-আদর্শের বালাই নেই। অর্থনৈতিক অর্জন আমাদের নজরকাড়া, তার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে অর্থনৈতিক অর্জন একদিন বিপন্ন হবে।
[১৫] সম্প্রতি সময় টিভির টকশোতে একজন অতিথি দেখে হতাশ হয়েছি। খুব কষ্ট পেয়েছি। সময় টিভি তো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। আমি বুঝি না, সময় টিভি তালেবানের মতো সংগঠন খেলাফত মজলিসের একজন নেতাকে টকশো নিয়ে এলো কেন? [১৬] ২০০৭ সালে যখন আওয়ামী লীগ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সাত দফা চুক্তি করলো এবং নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নাহিদকে বাদ দিয়ে তালেবানি একজনকে মনোয়নয়ন দিলো। এর প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে! অনেক সমালোচনা করেছিলাম। [১৭] পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতা ফোনে আমার সঙ্গে কী যে গোস্সা! আমি তখন তাকে বলেছিলাম, তথ্যভিত্তিক যুক্তি দিয়ে আমি কথা বলেছি, আপনার কোনো যুক্তি থাকলে বলতে পারেন। আপনার বায়বীয় কথায় আমি কোনো আস্থা স্থাপন করছি না। কিন্তু তিনি কিছু না বলে ফোন কেটে দিয়েছিলেন!




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]