প্রকাশিত: Wed, Feb 15, 2023 4:21 PM
আপডেট: Sun, Apr 2, 2023 7:49 AM

এলসি খোলার হার বেড়েছে চলতি মাসে

শহীদুল ইসলাম : সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্জাতিক মুদ্রাতহাবিল থেকে ঋণ পাওয়ায় এবং প্রবাসীদের রেমিটেন্স বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডলার সরবরাহের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ কারণে এলসি খোলাও বেড়েছে। গত সোমবার ব্যাংকগুলোতে মোট ২ হাজার ২০০টি এলসি খোলা হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গড়ে এলসি খোলা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার। দু’মাস আগেও যা এক হাজারের মধ্যে ছিলো। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গত সাত মাসে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি (প্রতি মাসে গড়ে ৪৬৪ কোটি) ডলারের রপ্তানি আয় হয়েছে। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রতি মাসে গড়ে ৫২০ কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে। আবার জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় বেড়ে ১৯৬ কোটি ডলারে ঠেকেছে। আগের মাস ডিসেম্বরে যা ১৭০ কোটি ডলারের নিচে ছিল। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে ৬৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে ফেব্রুয়ারিতেও তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আমদানি কমাতে শতভাগ পর্যন্ত এলসি মার্জিন, তদারকি জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে আমদানি ব্যয় ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি ডলারে নেমেছে।

জানা যায়, অনেক দিন পর সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) ইতিবাচক ধারায় এসেছে। গত মঙ্গলবার এনওপি দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এনওপি সর্বোচ্চ ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয়। গত সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি ডলার। কিছুদিন আগেও যা ২০০ কোটি ডলারের সামান্য বেশি ছিল। তবে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলার কেনাবেচায় গতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। যে কারণে ছোট ব্যাংকগুলোর সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে। 

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলার সংকট না থাকার কথা বললেও ব্যবসায়ীরা এখনো কাঙ্খিত এলসি খুলতে না পারার কথা বলছেন। গত রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সহনীয় রাখার বিষয়ে মতবিনিময় সভা করে। ওই সভায় দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ ও টিকে গ্রুপের প্রতিনিধিরা জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপের পরও ডলারের অভাবে এখনো তাঁরা আশানুরূপ এলসি খুলতে পারছেন না। এলসি খোলা গেলেও সময়মতো দায় নিষ্পত্তি না হওয়ায় পণ্য খালাসে দেরি হচ্ছে। এতে তাঁদের জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এসময় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির কথাও জানান তাঁরা।

ব্যাংকাররা জানান, ডলার সংকট শুরুর পর ছোট আমদানিকারকদের সমস্যা এখনো রয়েছে। একবারে অনেক বেশি আমদানি এলসির ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। বড় আমদানিকারকদের সমস্যার মূল কারণ, তাঁরা ছয় মাস ও এক বছরের বাকিতে এলসি খুলতে চাইছেন না। এর মূল কারণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ সুদহার বাড়ানোর পর এখন স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের সুদহার উঠেছে ৯ শতাংশে। এক বছর আগেও এ ধরনের ঋণের সুদহার ছিল ৩ থেকে ৫ শতাংশ। 

অন্যদিকে, আমদানি দায় মেটাতে গড়ে ১০৭ থেকে ১০৯ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দর ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সুদহার বৃদ্ধি এবং আগামীতে টাকার আরো দরপতন হতে পারে, এমন শঙ্কায় বড় ব্যবসায়ীরা ‘পেমেন্ট অ্যাট সাইট এলসি’ বা নগদ পরিশোধের শর্তে এলসি খুলতে চাইছেন। এছাড়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার প্রভাবে ছয় মাস ধরে নতুন এলসি কম হচ্ছে। এতে করে ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধের চাপ কমছে। তাই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা শিথিল হলেও পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় এলসি চাহিদা খুব বেশি চাঙ্গা হবে না। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম