প্রকাশিত: Sat, Jun 17, 2023 4:32 PM
আপডেট: Fri, Jun 5, 2026 7:04 PM

সংবাদ প্রকাশ ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জের

চেয়ারম্যান বাবুর পরিকল্পনায় সাংবাদিক নাদিমকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৪

মাসুদ আলম: সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ আরো ৪ জনকে শনিবার গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অন্যরা হলেন- বাবুর  সহযোগী  মনিরুজ্জামান মনির ওরফে মনিরুল,  জাকিরুল ইসলাম ও রেজাউল করিম । শনিবার  পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১৪। এ নিয়ে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, নাদিম সাম্প্রতিক সময়ে বাবুর অপকর্ম নিয়ে অনলাইন পোর্টালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে  নাদিমকে বিভিন্নভাবে হুমকিসহ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা  করে। 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের বিষয়টি নিয়ে  নাদিম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাবু আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ জুন রাত ১০টায় নাদিম বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় বাবু তার সন্ত্রাসীদের নিয়ে নির্জন স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে।  নাদিম তার সহকর্মীসহ মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাবুর সন্ত্রাসীরা তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। 

মঈন বলেন, পরবর্তীতে পিছন থেকে দৌঁড় দিয়ে বাবুর আরও কয়েকজন লোক এসে তাকে মারতে মারতে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ওই সময় প্রধান অভিযুক্ত বাবু ঘটনাস্থলের কাছে থেকে পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন। নাদিমের সহকর্মী তাকে বাঁচাতে গেলে বাবুর সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে  নাদিমের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বাবু ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তী দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিম মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি বলেন, বাবু ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও  নাদিমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার পর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়ীতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  তার বিরুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে । রেজাউল, মনির এবং জাকির তার সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সহযোগী।  রেজাউল দৌড়ে গিয়ে  নাদিমকে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই বাবুর নির্দেশে তারা নাদিমকে বেদম প্রহার করতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব