• প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » [১]হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি অস্বাভাবিক [২]আতঙ্কের কিছু নেই, উষ্ণতা বৃদ্ধি ছাড়া এই গ্যাস মানুষের শারীরিক ক্ষতি করে না [৩] জ্বালানির জন্য যে গ্যাস আমরা ব্যবহার করি সেটিই মিথেন, বললেন ৬ রসায়নবিদ


[১]হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি অস্বাভাবিক [২]আতঙ্কের কিছু নেই, উষ্ণতা বৃদ্ধি ছাড়া এই গ্যাস মানুষের শারীরিক ক্ষতি করে না [৩] জ্বালানির জন্য যে গ্যাস আমরা ব্যবহার করি সেটিই মিথেন, বললেন ৬ রসায়নবিদ

আমাদের নতুন সময় : 12/04/2021

শাহিন হাওলাদার: [৪] বাংলাদেশের আকাশে এই মিথেন গ্যাস থাকার তথ্য দিয়েছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মিথেন নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে জানিয়েছেন জিএইচজিস্যাট ইনকরপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়োতাম ইরিয়েল। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ডাটা পর্যালোচনা করে ব্লু ফিল্ড টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশের আকাশেও মিথেনের ঘনত্বও শনাক্ত করে।
[৫] এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আবছার বলেন, বাংলাদেশের আকাশে এতো পরিমাণ মিথেন গ্যাস উপস্থিতি চিন্তার বিষয়। আমরা যে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করি তার লিকেজ বেশি থাকে। অনেক জায়গায়, মানুষ নলকূপ থেকেও জ্বালানি ব্যবহার করে। জৈব সার থেকেও মিথেনের নিঃসরণ হয়। [৬] রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাসান আহমেদ বলেন, মিথেন একটি হালকা গ্যাস, ফলে অন্য দেশ থেকেও বাংলাদেশের আকাশে আসতে পারে, অথবা কোনো গ্যাসকূপে লিকেজ থাকতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই যে মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে তা বলা কঠিন। সঠিক তথ্য জানতে গবেষণা প্রয়োজন। মিথেন পোড়ালে কার্বন মনো-অক্সাইড ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হতে পারে। পৃথিবীর তামমাত্রা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তবে, মিথেন গ্যাস মিথেন হয়ে থাকলে তেমন ক্ষতি হয় না।
[৭] চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহানারা বেগম বলেন, মিথেন গ্যাস গ্রিনহাউজ গ্যাস হলেও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর নয়। মিথেনের কিছু কমপ্লেক্স আছে, এর ফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে না। মিথেন যখন অন্য গ্যাসে রূপান্তর হয় তখন ক্ষতি করে এবং এর অবস্থান পৃথিবীর অনেক ওপরে। [৮] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ বেশি, এর ৯৭ শতাংশ হচ্ছে মিথেন। বৃষ্টি হলেই দেখা যায়, বুদ বুদ করে গ্যাস ওঠে। জলাভূমি ও গাছপালা পঁচে মিথেন উৎপাদন হয়। ধানক্ষেতে পানির নিচে খড় পচেও মিথেন নিঃসরণ হয়। যদিও মিথেন গ্যাসের প্রকৃত উৎস নিয়ে বহু দ্বিমত আছে। মিথেনের অনুপাত যতো বেশি হবে গ্রিনহাউজের প্রভাব ততো বেশি হবে। মিথেন গ্যাস পরিবেশে তাপ ধরে রাখতে পারে বহু বছর।
[৯] জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীর তামজিদ বলেন, যে প্রতিবেদটি প্রকাশ পেয়েছে সেটি কোনো গবেষণা নয়। শুধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া ছবি থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় অথবা পেট্রোলিয়াম উৎপাদন ও কয়লা পোড়ানো থেকেও মিথেন গ্যাস নিঃসরণ হয়। গৃহস্থালি থেকে যে বর্জ্য বের হয় তা অপরিকল্পিতভাবে ডাম্পিং অথবা ল্যান্ড ফিলিং করলেও মিথেন উৎপন্ন হয়। [১০] চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, মিথেন গ্যাস পোড়ালে কার্বন-মনোঅক্সাইড ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি করে যা উপরে গিয়ে ওজন স্তরের ক্ষয় করে। ওজন স্তরের ক্ষতি হলে সূর্য থেকে সহজে পৃথিবীতে অতি বেগুনী-রশ্মি আসতে পারবে। ফলে চামড়ার ক্যান্সার বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্পাদনা : মোহাম্মদ রকিব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]