• প্রচ্ছদ » » কোভিড ১৯ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা ও প্রতিরোধের মাত্র তিন উপায়


কোভিড ১৯ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা ও প্রতিরোধের মাত্র তিন উপায়

আমাদের নতুন সময় : 17/04/2021

সংগৃহীত : আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ ক্লিনিকের প্রধান ডা. ফাহিম ইউনুস ২০ বছর ধরে ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন। তার মতো ভাইরাস চেনা ডাক্তার অনেক কম আছে। কোভিড-১৯ নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমরা কতো মাস বা কতো বছর কোভিডের সঙ্গে থাকবো তা কেউ জানি না। এই অজানা সময়কে অস্বীকার করার যেমন দরকার নেই তেমনি আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। কোভিড ভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা বিজ্ঞানীরা এপর্যন্ত যা বুঝেছি তাতে বলতে পারি, আমাদের জীবনকে অহেতুক কঠিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের সুখে থাকা দরকার তার জন্যে দরকার করোনা নিয়ে সত্য কথাগুলো জানা। সত্য কথাগুলো কী কী?
[১] কোভিড থেকে বাঁচার শুধু তিনটি উপায় আছে- মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ১.৮ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা। এই তিনটি কাজ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সেরা পদ্ধতি। এছাড়া আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে দরকারী খাবার গ্রহণ ও হাল্কা এক্সারসাইজ। [২] গ্রীষ্মে ভাইরাসটি তার প্রভাব হ্রাস করে না। ভারত, ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকালেই ভাইরাসটি খুব দ্রæত ছড়িয়ে পড়ছে। [৩] লিটারকে লিটার গরম জল পান করে করে কোনো লাভ নেই। কারণ সেল ওয়ালে ঢুকে যাওয়া ভাইরাসকে পান করা গরম পানির উষ্ণতা কোনো ক্ষতি করতে পারে না। খামাখা শুধু বারবার টয়লেট যেতে হয় পেশাব করতে। [৪] যদি আপনার বাড়িতে কোভিড রোগী না থাকে তবে বাড়ির মেঝে, দেয়াল, উপরিভাগের সব কিছুকে জীবাণুমুক্ত করার কোনো দরকার নেই, কোনো লাভ নেই। [৫] কার্গো প্যাকেজ, শপিং ব্যাগ, পেট্রোল পাম্প, শপিং কার্ট বা ব্যাংকের এটিএম মেশিন সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। আপনার হাত ধুয়ে নেবেন বারবার এবং যথারীতি আপনার জীবনযাপন করুন।
[৬] কোভিড-১৯ কোনো খাদ্য সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ নয়। এটি ফ্লুর সংক্রমণের মতো হাঁচি কাশির ফোটাগুলোর সাথে সম্পর্কিত। অর্ডার করা খাবার থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণিত ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। আপনার অর্ডারকৃত খাবারগুলোকে আপনি চাইলে মাইক্রোওয়েভে কিছুটা গরম করে নিতে পারেন। [৭] অনেকে মনে করেন সুয়ানা নিলে গরম বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে কোভিড ভাইরাসগুলোকে হত্যা করবে -কখনোই না। যা কোষে প্রবেশ করেছে তাকে কোনো প্রকার উষ্ণতা ধ্বংস করতে পারবে না, তা পানি বা বাষ্প যাই হোক। [৮] অনেক এলার্জি এবং অন্য ভাইরাল সংক্রমণ হলেও আপনার গন্ধ অনুভ‚তি হারাতে পারেন। গন্ধ না পাওয়া কোভিড ১৯-এর একটি অ-নির্দিষ্ট লক্ষণ, সু-নিদৃষ্ট লক্ষণ নয়।
[৯] বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর তাৎক্ষণিক জামাকাপড় পরিবর্তন করার এবং স্নান করার কোনো দরকার নেই। স্নানে-শুদ্ধতা একটি পুণ্যের কাজ হলেও কোভিড ঠেকাতে এটির প্রয়োজন নেই। [১০] কোভিড-১৯ ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে থাকে না। এটি একটি ড্রিপ সংক্রমণ যার জন্য ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তাই আপনি খোলা পার্কের নির্মল বাতাসে অন্য মানুষের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসতে পারেন। [১১] কোভিড মানুষের জাতি বা ধর্ম বুঝে আক্রমণ করে না, যেকোনো ধরনের যেকোনো জাতির মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। [১২] অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বিশেষ সাবান ব্যবহার না করে কোভিডের বিপরীতে যেকেনো সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ভাইরাস কোনোভাবেই ব্যাকটিরিয়া নয়। [১৩] আপনার জুতোর মাধ্যমে কোভিড-১৯ বাড়িতে এনে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দিনে মাথায় দু’বার বজ্রপাত হওয়ার মতো। আমি ২০ বছর ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি, বুঝেছি ড্রপ সংক্রমণ কখনো জুতার মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় না। [১৪] ভিনেগার, সোডা, আদার রস, বিভিন্ন হারবের রস জাতীয় জিনিস পান ভাইরাস থেকে রক্ষা করে না। বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই। [১৫] সারাক্ষণ গøাভস পরে থাকা একটি ভুল ধারণা, ভাইরাসটি গøাভসে জমে থাকতে পারে এবং তারপর নিজের অজান্তে আপনার মুখটি স্পর্শ করলে সহজেই সংক্রমণ হতে পারে। [১৬] রেস্টুরেন্ট কর্মীরা একটি গøাভস পরেই সব খাদ্য স্পর্শ করতে থাকে, এটি প্রায়শই বদলানো দরকার। সাধারণ মানুষদের জন্য গøাভসের বদলে বারবার হাত ধোওয়াই ভালো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]