• প্রচ্ছদ » » দিলীপ ঘোষের হিন্দু বৈশাখ এবং বাংলাদেশের বাংলা বৈশাখ


দিলীপ ঘোষের হিন্দু বৈশাখ এবং বাংলাদেশের বাংলা বৈশাখ

আমাদের নতুন সময় : 17/04/2021

কাকন রেজা : বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি দিলীপ ঘোষ পয়লা বৈশাখকে হিন্দু নববর্ষ আখ্যা দিয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমাদের দেশে অনেকে উস্মা প্রকাশ করেছেন ঘোষবাবুর শুভেচ্ছায়। আমি বুঝি না, এতে উস্মা প্রকাশ করার কী আছে। তিনি তো খুব একটা মিছে কথা বলেননি। পশ্চিমবঙ্গের বৈশাখ হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে উদ্যাপিত হয়। আর তা হয় পূজা-পার্বণের মধ্যদিয়ে এটাতো অস্বীকার করার কিছু নেই। আমাদের দেশে যে দিনে পয়লা বৈশাখ, সেদিনে তা পশ্চিমবঙ্গে পালন হয় না। যারা হিন্দু স¤প্রদায়ের তারাও পঞ্জিকা অনুসারেই নববর্ষ পালন করেন। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের সাথে তাদের পয়লা বৈশাখের দিন মিলে যায়। এতে দোষের কিছু নেই। এটা হিন্দু স¤প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা। বরং তাদের বাংলাদেশের পয়লা বৈশাখ মেনে নেওয়ার জোরজবরদস্তি হলো সা¤প্রদায়িকতা। যারা ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলেন, তাদের বৈশাখকে হিন্দুয়ানি থেকে আলাদা করার মানসিকতাও অন্যের ধর্মের উপর জোরজবরদস্তির সামিল। অসা¤প্রদায়িক হতে হলে এটাও স্মরণে ও মননে রাখতে হবে। আমাদের বৈশাখ উদ্যাপন ছিলো মূলত পাকিস্তানি ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ। পাকিস্তানিজান্তা তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ করার পায়তারা করছিলো। সেই পায়তারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ ১৯৬৭ তে ছায়ানট রমনা বটমূলে বাংলা সনের প্রথম দিনটিকে রবিঠাকুরের ‘এসো হে বৈশাখ’ দিয়ে আবাহন শুরু করে। আবার বলছি, এটা ছিলো প্রতিবাদ স্বরূপ। এবার মোদির আগমনের প্রতিবাদে যেভাবে শাহবাগে গরু জবাই করে জেয়াফত দেওয়া হয়েছিলো অনেকটা সে রকম। যেমন পশ্চিম বঙ্গের কিছু মানুষ গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যাকারী গেরুয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে গরুর গোশত খাওয়ায় সামিল হয়েছিলেন। এমন প্রতিবাদের অর্থ এরূপ নয় যে, প্রতিবাদের উঠা দাবি পূরণ হলেও প্রতিবাদ কার্যক্রমের রেওয়াজ চালু রাখতে হবে। বিষয়টা অনেকটা রণ সঙ্গীত ও জাতীয় সঙ্গীতের মতন। জাতীয় সঙ্গীত সবসময়ের। আর রণ সঙ্গীত রণকালে। পহেলা বৈশাখ পালনের শুরুটা ছিলো বিদ্রোহের। একটা শ্রেণিকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে সে বিদ্রোহ। এখন সেই শ্রেণির কাছ থেকেই তাদের দিনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে কী করা উচিত? বিক্ষোভ না বিদ্রোহ? ধর্মীয় উৎসবকে সার্বজনিন করার চেষ্টাও সা¤প্রদায়িকতা। একটা ধর্ম এবং সেই ধর্মের সংস্কৃতি বেঁচে থাকে তাদের নিজস্ব আচার-আচরণের মধ্যে, সেই আচার-আচরণকে অন্যের সাথে মিশিয়ে তাকে শঙ্কর বানানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি, এ কথাটি বুঝতে হবে কথিত অসা¤প্রদায়িকতার পাÐাদেরকে। অসা¤প্রদায়িক হওয়ার অর্থ অন্যকে ধর্মহীন করা নয়। অন্যের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার পশ্চিমবঙ্গ থেকে বৈশাখকে যেভাবে আলাদা করেছে সেটার প্রয়োজন ছিলো। যেহেতু বাংলার মূল এখন বাংলাদেশ। ভাষা এবং সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র ঢাকা। সে কারণেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিনটিকে আলাদা করার তাৎপর্য সবিশেষ। এই আলাদাকরণ মূলত হিন্দু স¤প্রদায়ের ধর্মীয় দিনটিকে সুরক্ষিত করেছে। না হলে কথিত সেক্যুলার পাÐারা মুসলমানদের উপর ঘৃণা উদগীরণে দিনটি ব্যবহার করতো। সাথে হিন্দু স¤প্রদায়ের নিজস্বতাকে পÐ করে দিতো। অপগÐরাতো এছাড়া আর কিছু শিখেনি। হিন্দু পঞ্জিকার বৈশাখ হিন্দুদের জন্য। যেমন মুসলমানদের আরবী মাস। বিপরীতে বাংলাদেশের ক্যালেন্ডারের বৈশাখ হয়ে উঠুক সকল বাংলাভাষী বাংলাদেশীদের জন্য। ধর্ম-স¤প্রদায়-বর্ণ, আশরাফ-আতরাফ, শূদ্র-ব্রাহ্মণ সবার ঊর্ধ্বে। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]