• প্রচ্ছদ » » মহামারি ধনীদের ধনী করার জন্য


মহামারি ধনীদের ধনী করার জন্য

আমাদের নতুন সময় : 17/04/2021

আরিফুজ্জামান তুহিন : ঘটনা [১] রিসাইকেল বিন নামে একটা ফেসবুক গ্রæপে একজন মা পোস্টটি দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, মিরপুর-১ এর আশেপাশে কোনো মায়েরা আছেন যারা তাদের বাচ্চাদের জন্য ফরমুলা দুধ কিনেছেন কিন্তু বাচ্চার পেটে শ্যুট করছে না। তারা যদি সেগুলো আমার বাচ্চাকে দিতেন খুব উপকার হতো। আমার হাজবেন্ড একজন পাঠাও ড্রাইভার। লকডাউনের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনা [২] কুষ্টিয়ার মডেল থানার সামনে গত বুধবারে দিনভর দুই রিকশাচালক বসে আছেন, তাদের একজনের নাম আনিস শেখ। কারণ তাদের দুজনের রিকশা পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। উপরের দুটো ঘটনার নামই প্রকৃত বাংলাদেশ। এই যে জিডিপি দেখেন, ধাই ধাই করে দৃশ্যমান মেট্রোরেল দেখেন তাতে দেশের গরিব মানুষের কি যায় আসে? সারা দুনিয়াতে নাকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়, জলোচ্ছাস, মহামারি নাকি ধনী-গরিব সবার ওপর দিয়ে যায়। এসব মিছা কথা। ঢাহা মিছা কথা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাডিজ এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মার্কিন শতকোটিপতিদের সম্পদ বেড়েছে এক ট্রিলিয়ন ডলার (এক লাখ কোটিতে এক ট্রিলিয়ন)। সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ৩৪ শতাংশ।
এই করোনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ধনীদের সম্পদ যে আরও বাড়বে তা বোঝা কঠিন কিছু না, তাহলে করোনা কি বড়লোকের সম্পদ বাড়ানোর কোনো জীবাণু অস্ত্র বিশেষ? হতে পারে। সেটা এখনো নিশ্চিত করে না বলতে পারলেও এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে, করোনার মতো মহামারি ধনীদের সম্পদ আরও বৃদ্ধি করে। এটা পুরানো যুগের আর্থিক মহামন্দার উল্টো। এখানে ধনির সম্পদ বাড়ে। এটা হয়তো নতুন যুগের পুঁজিবাদের নতুন রূপ। বাংলাদেশে করোনার আগে সরকারি হিসেবে গড়ে ২০ ভাগ হতদরিদ্র মানুষ ছিলেন। এখন সেটা কতোভাগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কল্পনা করা কঠিন। মহামারিতেও তারা ব্যবসা করে। পুঁজিপতিদের মুনাফা বাড়ায়। গত বছর করোনা শুরুর সময় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কৃষক, প্রান্তিক খামারিরা। বহু জেলাতে তখন খামারিরা দুধ বিক্রি করতে পারেননি। তা ফেলে দিতে হয়েছে। ডিম বিক্রি হয়েছে পানির দামে। কৃষক ফসলের দাম পাননি। দেশে পোল্টিখাতে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। কিন্তু খতিয়ে দেখুন প্রণোদোনা নেই। ভুয়া এলএসি খুলে বিদেশের ভুয়া এলএসি দেখিয়ে দেশের ব্যাংক খালি করা গার্মেন্টস মালিকরা ঠিকই প্রণোদনা পায়। প্রান্তিক খামারিদের কারণে দেশে এখনো কম টাকায় আমিষের ব্যবস্থা হচ্ছে। এতো কমদামে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এই লকডাউনের তাদের জন্য সরকার কি করেছে? এবারও ডিম পানির দামে বিক্রি হবে। মুরগির অবস্থাও তাই হবে। দুধের খামারিরা সর্বসেবা হারাবেন। এই হলো বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র। ফলে লকডাউন দিলে যারা খুশি হচ্ছেন হতে থাকুন। কিন্তু দেশের উৎপাদন ও খাদ্য চক্র যারা সক্রিয় রেখেছেন, বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের মেরে যে বাংলাদেশ সামনে এগোবে সেটা ধনীদের ধনী করার বাংলাদেশ। শুধু ঢাকায় প্রায় লাখ দুয়েক পাঠাও উবারের ড্রাইভার। সেলুন, ফুটপথের চা পিঠা বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতার পরিমাণ কতো? এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষ দেশের অর্থনীতির কতোবড় মেরুদÐ তা জিপডিপিওয়ালারা জানেন? শুধু ঢাকার রিকশাওয়ালা শ্রমিক বছরে ১৮ হাজার কোটি টাকার অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতি যোগ করেন। এ অর্থের বড় অংশই কৃষিতে বিনিয়োগ হয়। সেই ধান, সবজি, শহরের ধনী ও মধ্যবিত্তের পাতে ওঠে। হিসেব করে দেখা হয়েছে এই লকডাউনে তাদের কী হবে? ৫০ বছরের একটা দেশ। ধনীরা গরিব মধ্যবিত্ত মেহনতি মানুষদের জন্য মারছে সে জন্য আফসোস না। সে সারা দুনিয়াতেই ধনিরা গরিবদের মারে। আফসোস হলো এসব কথা বলার জন্য আমাদের কোনো পার্টি নেই। আমাদের নেতা নেই। জনগণের পার্টি না থাকলে জনগণের কিছুই থাকে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]