• প্রচ্ছদ » » রকমারি ডটকম তাদের ছবিটিতে ‘ধর্মীয় ক্যাটাগরি’ লিখে দেওয়া উচিত ছিলো


রকমারি ডটকম তাদের ছবিটিতে ‘ধর্মীয় ক্যাটাগরি’ লিখে দেওয়া উচিত ছিলো

আমাদের নতুন সময় : 17/04/2021

মুসা করিম রিপন : সারাদিন অনেকের ফেসবুকের লেখা পড়লাম রকমারি.কম-এর এই ছবি ও মন্তব্যটা নিয়ে। অনেকেই অনেক বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন রকমারির প্রতি। অনেকে আবার অনেক কঠোর সমালোচনা করেছেন এটা বলে যে রকমারি জঙ্গিবাদ উস্কে দিচ্ছে। আপনাদের সকলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি, আপনারা সমালোচনা বা মন্তব্য করতেই পারেন। তবে আমার কাছে একটা বিষয় পরিষ্কার না যে, আপনারা যারা সমালোচনা করছেন আপনাদের সমালোচনাটুকুইবা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত ছিলো? একটা জিনিস খেয়াল করলাম, যারা রকমারির এই ছবিটার সমালোচনা করছেন তারা কেউই পরিষ্কার করে বলেননি যে এই ছবির কোনো বিষয়টা তারা অপছন্দ করেছেন বা কেন করেছেন। তবে আমার কাছে মনে হলো দুইটা বিষয় হতে পারে – প্রথমত, আমার মনে হয়েছে এই ছবিতে রকমারি.কম একটা ভুল করেছে। তাদের ছবিটিতে ‘ধর্মীয় ক্যাটাগরি’ লিখে দেওয়া উচিত ছিলো। কারণ তা না হওয়ায় অনেকের কাছে এটা সব ধরনের লেখকদের মধ্যে থেকে একটা সামগ্রিক প্রতিফলন মনে হতে পারে। তাহলে সাহিত্য, বিজ্ঞান, ভ্রমণকাহিনি বা অন্য যেকোনো বিষয় নিয়ে লেখা বইয়ের লেখকরা কষ্ট পেতো না বা হীনমন্যতায় ভুগতো না। কারণ তারাওতো বইয়ের মাধ্যমে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন, (যদিও সব লেখক নয়)। তাহলে হয়তো বিষয়টিকে সকলে স্বাভাবিকভাবেই নিতো বলে আমার মনে হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আরেকটি বিষয় হতে পারে। রকমারির প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যাংকিংয়ে ইসলামি বইয়ের এমন কাটতি দেখে অনেকেই বিরক্ত হয়ে সমালোচনা করেছেন অথবা ইসলামিক ব্যক্তিত্বের এমন প্রচারণায় অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তাই আপনারা সমালোচনা করছেন। যদি দ্বিতীয় ঘটনাটিও সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বলবো আপনারা বড়ই হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছেন। এবং একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের পছন্দ/প্রয়োজন/রুচিবোধকে অসম্মান করেছেন। কারণ মানুষ কে কী বই পড়বে এটা একান্তই যার যার নিজস্ব প্রয়োজন ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে। আবার কোন কোন লেখকের বই পড়বে এটাও একান্তই তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ রা রুচিবোধের পরিচয়। এখানে আমি বা আপনি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বা তাদের রুচিবোধকে অসম্মান করার কেউই না। তাছাড়া বিষয়টা এরকমও নয় যে রকমারিতে কেউ তাদের পছন্দ বা প্রয়োজন ছাড়া বই কিনছে। সবাই যার যার প্রয়োজন ও পছন্দের বই বুঝেশুনেই কিনছে। তাই আপনি একজন লেখক, পাঠক অথবা সুশীল মানুষ হিসেবে অন্যএকজন মানুষের পছন্দ বা রচিবোধের প্রতি সম্মান থাকাটা প্রয়োজন।
আর একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ইসলামিক বইয়ের বিক্রি বেশি থাকবে এটাওতো খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। যেমনটি অন্যকোনো ধর্মপ্রধান দেশের ক্ষেত্রেও সত্য হতো, যে সেই দেশের ধর্মপ্রধান জনগোষ্ঠী তাদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের জন্য ধর্মীয় বই কিনবেন। আমাদের একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, ধর্মীয় উগ্রবাদ যেমনটা কাম্য নয় এবং মৌলবাদ হিসেবে চিহ্নিত; ঠিক তেমনি ধর্মীয় বিদ্বেষও কাম্য নয় এবং এটাও কিছুসংখ্যক স্বার্থান্বেষী মানুষের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সা¤প্রদায়িক সম্পৃতি নষ্টের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়াটা জরুরি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]