• প্রচ্ছদ » » পূর্ববঙ্গ কখনোই পাকিস্তানে যেতে চায়নি, কলকাতাও পূর্ববঙ্গকে রাখতে চায়নি


পূর্ববঙ্গ কখনোই পাকিস্তানে যেতে চায়নি, কলকাতাও পূর্ববঙ্গকে রাখতে চায়নি

আমাদের নতুন সময় : 03/05/2021

গাজী নাসিরউদ্দিন আহমেদ : ১৯৪১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পূর্ববঙ্গে সাক্ষরতার হার ছয় শতাংশ। আলাদা করে মুসলমান সমাজে সাক্ষরতা কতো ছিল তার হিসাব পাচ্ছি না। নিশ্চিতভাবে তা দু/তিন শতাংশের বেশি হবে না। সুতরাং বাঙালি মুসলমান কী পড়ে আর কী খায় তা দিয়ে তার প্রকৃতি চেনা যাবে না। সে কি শোনে নিয়মিত তা দিয়ে তাকে বুঝতে হবে। সে রাজনীতি শুনেছে হাটে-বাজারে। ধর্মও শুনতো কদাচিৎ। পীর-ফকির, বাউল, পুঁথি, পালা-যাত্রা এসবই তার স্পিরিচুয়াল চাহিদা মিটিয়েছে। তার উপনিবেশবিরোধী চেতনা ততোটা প্রগাঢ় নয়। মুসলমানদের উপনিবেশ বিরোধিতা খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতি প্রভাবিত এবং সেটা মুসলমানদের রাজনীতির মূলধারা না। পাকিস্তানিরা নিজেদের রাষ্ট্র চাইছিল ১৯৩০ থেকে। ১৯৪০ সালে এসে পূর্ববঙ্গ আলাদা রাষ্ট্র চাইলো। এরপর তো মন্বন্তর, কলকাতা কিলিং, নোয়াখালীর দাঙ্গা গেলো। পূর্ববঙ্গ কখনোই পাকিস্তানে যেতে চায়নি। কলকাতাও পূর্ববঙ্গকে রাখতে চায়নি। সুতরাং স্বাধীন বাংলাদেশ ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি। বাংলাদেশই বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক মূলধারা। একাত্তরই তার ঠিকানা। বাংলাভাগ সে চায়নি, তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে একাত্তর চেয়েছে। ৪৭ সালে যে আত্মপরিচয় তার বিভাজিত হলো একাত্তরে সে সেটা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছে। ৪৭ সালে যে তাকে বলা হয়েছে তুমি পুরনো হিন্দু প্রতিবেশীর সঙ্গে থাকতে পারবা না সেই প্রস্তাব সে ২৪ বছরের মাথায় রিজেক্ট করেছে। একাত্তর তাই বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের যৌথ ঠিকানা। যৌথ ঠিকানা রক্ষা করতে হলে তা রক্ষা করার মন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা। এই মন্ত্র না মানলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মানা হয় না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]