• প্রচ্ছদ » » মমতার জয়, বিজেপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি


মমতার জয়, বিজেপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি

আমাদের নতুন সময় : 03/05/2021

গৌতম চক্রবর্তী : বাঙালি ভয় পেয়েছিলো। ভয় পেয়েছিলো নিজের জাতিসত্বার ওপর আক্রমণের। ভয় পেয়েছিল উগ্র হিন্দুত্বের। ভয় পেয়েছিল রাজনীতির ধর্মীয়করণের। দুই বেলা ভিন রাজ্যের নেতা মন্ত্রী এসে ডায়লগ দিচ্ছেন। সোনার বাংলার প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন। ব্যাঙ্গ করছেন বাঙালি নেত্রীকে নিয়ে। এটা হজম হয়নি বাঙালির। বাঙালি নিজেরা ঝগড়া করবে মারপিট গালিগালাজ করবে নিজেদের মধ্যে, এটা মেনে নেয়। কিন্তু ভিন রাজ্যের কেউ করলে নিজের মতো হিসাব করে নেয়। অতীতে একবার রাজীব গান্ধীও এই লাইনে খেলেছিলেন। ফলাফল বিশেষ সুবিধার হয়নি। বিজেপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি।
বাঙালি নিজের রাজ্যের মানুষ নিয়ে কমফোর্টেবল। বাইরের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেবার সামান্য আশঙ্কাও নিতে পারে না। স্থানীয় বিজেপি নেতারা বাঙালিত্ব ভুলে গোবলয়কে অনুসরণ করতে গেছিলেন। কথাবার্তা ভাবভঙ্গি আচরণ চেতনায়। একবগগা বাঙালি নিজেই সেই হিসাব করে নিয়েছে। বাঙালি বিশ্বাসঘাতক হজম করতে পারে না। আজও বিভীষণ বা মীরজাফর কথায় কথায় গাল খায় বাঙালির কাছে। ভোটের ঠিক আগে একগাদা দলবদল করা নেতা নেত্রীকে বাঙালি মেনে নেয়নি। তাদের প্রায় সবাই এখন রাজনৈতিকভাবে শেষ। বাঙালি এদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আর লোকাল বিজেপি নেতারা, যারা প্রচুর খেটে মারধোর খেয়ে সংগঠন বানাচ্ছেন, তারাও মাথার ওপর দুম করে কাউকে চাপিয়ে দেওয়া মানতে পারেনি। ধর্ম এপারের সংখ্যাগুরু বাঙালির কাছে জাস্ট একটা জামা। গায়ে চড়িয়ে রাখতে হয় বলে রাখা। এই নিয়ে তার ঘেন্নাও নেই, আদিখ্যেতাও নেই। হ্যাঁ, ভক্তিশ্রদ্ধা আছে, তবে সেটা রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের ভার্সানের হিন্দুত্ব। খানিক ঈশ্বর আল্লাহ, ভগবান, গড সব এক টাইপ। উৎসব পূজা, পার্বণ এসবে সে আছে, কিন্তু গোমূত্র গোময় গোমাতা ইত্যাদিতে তার মারাত্মক এলার্জি। দুর্গাপূজা তার কাছে উৎসব, ‘বল দুর্গা মাইকি জয়’ তে সে অভ্যস্ত। কিন্তু জয় শ্রী রাম তার কাছে রাজনৈতিক শ্লোগান। ধর্মের নামে মারামারি বাঙালি মন থেকে হজম করতে পারে না আজও। ভিন রাজ্য থেকে আনা ঠাকুর দেবতাকে মানলেও তাই নিয়ে বাড়াবাড়িতে বাঙালি অস্বস্তি বোধ করে। ধুমধাম করে হনুমান পুজা বা রামনবমীর উদ্দেশ্য বাঙালি খানিক সন্দেহের দৃষ্টিতেই দেখে। সুখের কথা, বাঙালিকে ধর্ম দিয়ে মেরুকরণ করা যায়নি। বরং রাজনীতির মধ্যে ধর্মের বাড়াবাড়ি অনুপ্রবেশ দেখে মানুষ নিজেই নিজের মতো পক্ষ নিয়েছে। তা সে বিজেপিকে দেখে হোক, বা আব্বাস ভাইকে। ফলে দিদির ভোট % আরও বেড়েছে। এটা বাঙালির রায়, ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে। এটা মাথা নিচু করে মেনে নিন। শিক্ষা নিন আগামী দিনের জন্য। এটা পশ্চিমবঙ্গ, এটাকে গোবলয় বানানো যাবে না। হাজার চেষ্টাতেও না। বোঝা গেলো? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]